শেয়ার করুন:

দিনলিপি

প্রত্যুষের প্রথম প্রহরে দিনলিপি লেখা হলো অলক্ষ্যে
দিনলিপি লেখা ছিলো অদৃশ্য খাতার পাতায়
ভেতরে ভেতরে বাধ সাধলেন প্রভু,
কিন্তু অন্তরালে নিঃশব্দে হাসলেন সাঁইজি।
শিবনেত্রে অবিচল থাকলেন তিনি।
গুরুগম্ভীর কণ্ঠে অদ্ভুত সুরে কী যেন বললেন!
কিছু বুঝে ওঠার আগেই চতুর্দিক আলোকচ্ছটায় ভরে গেলো।
আমি তখন অবাক হয়ে গলা ছেড়ে গাইলাম বেহাগ,
যা অনির্বচনীয়, অতঃপর ধীরে ধীরে
স্বর্গ থেকে নেমে এলো ক্ষুব্ধ রাফায়েল!

মেঘমল্লার

আজ রাতে দূর নক্ষত্রেরা জেনে গেছে মহাজাগতিক
এক চোখের অব্যক্ত নীল ভাষা–ছায়াপথ ধরে তাই কি
ঈশ্বরপ্রতিম কোনো দেবদূত এসে
ছড়িয়ে দিয়েছে সেই আলোকের অজস্র কুসুম?
অচিনপুরের সেই দেবদূত রৌদ্রহর
মেঘের মতো এসে শুষে নিয়েছে সমস্ত ক্লেদজ-কালিমা;
মুছে দিয়েছে ঝঞ্ঝার দুরন্ত দাপট?

আমার তথৈবচ দিন কী আনন্দের!
তার উৎসমূল ছুঁয়ে এই ভরা শ্রাবণে মেঘমল্লারের
অপূর্ব সুরে সুরে চতুর্দিক আন্দোলিত করে ছুটে যাচ্ছে
দিগি¦দিক নাচের ভঙ্গিমায় উন্মত্ত মেঘদূত!

নষ্ট খেলা

না হয় তুমি নষ্ট মাছি খুন করেছো রাতদুপুরে
তাতে আমার কী এসে যায়?
সোনার মাছি কালক্রমে নষ্ট মাছি হয়েই গেলে
তাতেই বা তোর কী এসে যায়?
এই অবাধে এতোটা সব হৃদয়হরণ
নষ্টানষ্ট অজানা এক খেলার ধরন
তাতেও বুঝি সুখ ছিলো, তাই
মনযমুনার কানায় কানায় বাঁধ ভাঙলেও
দুঃখ পাবার সাধ ছিলো, আর
পথের বাঁকে পথ হারালো অন্ধকানা?

সমুদ্র তার বিপুল ঢেউয়ের মাথায় মাথায়
আপনি দোলায় ঢেউয়ের ফণা
গর্জনে তার হৃদ্কমলে উথাল-পাথাল মাদল বাজে
এক অজানার মনোস্থাপন ভিক্ষা মাগে আপনি এসে?

নিরন্তর

জানি, আক্রমণের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণই শানানো থাকে।
অথচ দেখো, এখানে অন্য রকম ছবি।
আঘাত যতোই তীব্র হোক
এ-পাথরে আঘাতের চিহ্ন লাগে না কোনো;
আমি তাই আঘাত করি না।

এই দেহে লেগে আছে পরশ-পাথর
সহ্যের অতল ভাঁড়ার।
নিরব দহনে তাই পুড়ে যাই।
একাকী বৃত্তে ডুবি অরূপ-সাগরে!
আহা, অক‚লপাথার, বিষণ্ন প্রতিমা জাগে শিয়রে তোমার।
এ-মুহূর্তে তোমারই বক্ষে চায় সমূহ নিস্তার!

অভিসন্ধি

পথ ভুলে মেঘ কোত্থেকে এলো ছুটে
অনাবশ্যক বিপুল বৃষ্টিধারায়?
বাঁধ ভেঙে দিলো সবটুকু প্রতিরোধ
গলিত শবের মতোই সে গেলো ভেসে।

জমাট বাঁধেনি আকণ্ঠ অভিমান;
আমরণখেলা–যেন হলো অবসান।
মহুয়ার বনে পিপাসিত মৌমাছি
উড়ে উড়ে গেলো করে কতোশত ছল।

গোপনে ভ্রমর করে যায় অভিসন্ধি
মদালস হৃদে অকপটে হয় বন্দি।

Facebook Comments