১৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯; ২ ডিসেম্বর, ২০২২;সকাল ৬:৩২

অনিরুদ্ধ আলম এর পাঁচটি কিশোরকবিতা

আড্ডাপত্র

অক্টো ২৩, ২০২২ | কিশোর কবিতা

রঙ

উঠোনে নোটন-ঝোটন পায়রা
খেলে লুটোপুটি
খেলে লুটোপুটি বুলবুলিগুলো
খেয়ে হুটোপুটি।

হুটোপুটি খায় টুকটুকে জবা
পাতায়-পাতায়
পাতায়-পাতায় আলো নেচে-নেচে
পাড়াটা মাতায়।

পাড়াটা মাতায় মাটির গন্ধ
সকাল-সন্ধে
সকাল-সন্ধে মেঠোফুল নাচে
কী যে আনন্দে।

কী যে আনন্দে হাওয়া ছোটে দূরে
মেঠোপথ ধরে
মেঠোপথ ধরে প্রজাপতিগুলো
হেলেদুলে ওড়ে।

হেলেদুলে ওড়ে ভ্রমরের দল
গুঞ্জন তুলে
গুঞ্জন তুলে মৌমাছি গায়
নদীটার কূলে।

নদীটার কূলে জল কলরোলে
মাতে রাতদিন
মাতে রাতদিন মাছ উৎসবে
তাধিনতাধিন।

তাধিনতাধিন ঘুড়ি নীলাকাশে
করে ওড়াউড়ি
ওড়াউড়ি করে তিল হয়ে চিল
খেলে লুকোচুরি।

লুকোচুরি খেলে মেঘবলাকারা
দিগন্ত ঘেঁষে
দিগন্ত ঘেঁষে বনানী ছোঁয়ায়
মায়া ভালোবেসে।

ভালোবেসে মায়া ছড়ায় ছায়ারা
ছাতিম তলায়
ছাতিম তলায় ছাতারেরা গায়
মিষ্টি গলায়।

মিষ্টি গলায় দোয়েলরা ডাকে
শিসটি দিয়েই
শিসটি দিয়েই নিবিড় বিষটি
নামে নিমিষেই।

নামে নিমিষেই ঝরনার ধারা
টাপুরটুপুর
টাপুরটুপুর ছন্দে জিরোয়
ক্লান্ত দুপুর।

ক্লান্ত দুপুর বিকেলকে খোঁজে
বিশ্রাম নিতে
বিশ্রাম নিতে ধানটুনি ফেরে
ঘেসো বাড়িটিতে।

ঘেসো বাড়িটার চারপাশ রাঙে
গোধূলির রঙে
গোধূলির রঙে মাছরাঙা হয়
আরও রঙচঙে।

আরও রঙচঙে হতে ফিঙে মাখে
গোধূলির ধূলি
গোধূলির ধূলি মুছে দিয়ে আসে
আঁধারের তুলি।

আঁধারের তুলি আঁকে ছোপছোপ
রাত জমকালো
রাত জমকালো এলে তারা জ্বালে
সোনা-সোনা আলো।

সোনা-সোনা আলো জ্বালে জোনাকিরা
বন ও বাদাড়ে
বন ও বাদাড়ে পথ খুঁজে পায়
পরিরা আঁধারে।

পরিরা আঁধারে বড় অসহায়
ধুধু প্রান্তরে
প্রান্তরজুড়ে তাই চাঁদ এসে
আলো ফেরি করে।

আলো ফেরি করে জোছনা ছড়ায়
হলুদ আলতা
হলুদ আলতা মেখে নেয়ে ওঠে
কদম চালতা।

কদম চালতা ডালিম ফুলরা
হাসে কুটিকুটি
হেসে কুটিকুটি সুবাস ছড়ায়
মাঠে মুঠিমুঠি।

মাঠে মুঠিমুঠি ছন্দ ছড়ায়
ঝিঁঝিদের ডাক
ঝিঁঝিদের ডাক কান পেতে শোনে
ঝিলটার বাঁক।

ঝিলটার বাঁকে ঝিলমিলে বালি
আঁকিবুকি আঁকে
আঁকিবুকি এঁকে ছোটে ছোটো ঢেউ
খোঁজে যেন কাকে।

খোঁজে যেন কাকে চাতক-চাতকী
জোছনাছায়ায়
জোছনাছায়ায় দাদুরির ডাক
জড়ায় মায়ায়।

জড়ায় মায়ায় সাতরঙে আঁকা
এই জলছবি
এই জলছবি মনমাধুরিতে
আঁকে কোন কবি?

আঁকে কোন কবি জাদুর কালিতে
বর্ণিল ঢঙে
বর্ণিল ঢঙে চারদিক সাজে
রঙধনু রঙে।

রঙধনু রঙে এ কোন আঁকিয়ে
আঁকে রাতদিন
আঁকে রাতদিন ক্লান্তিটা যাকে
করে না অধীন।

করে না অধীন অবহেলা তাকে
আঁকে নিরবধি
আঁকে নিরবধি গাছপাখিনদী
ভীষণ আমোদী।

ভীষণ আমোদী উছল প্রকৃতি
রঙের মেলায়
রঙের মেলায় শত রঙ মাতে
বেলা-অবেলায়।

বেলা-অবেলায় রঙিন স্বপ্ন
বসে চোখ জুড়ে
চোখ জুড়ে কত রঙ খেলে এই
আনন্দপুরে।

সাঁকোটাকে মনে রেখো

সাঁকোটা ছিল বিষটিস্নাত
ফিকে তামাটে শাদা
তার ওপরে টোপর হয়ে
মেঘ ঝুলত আধা।

সাঁকোটা ছিল বাঁকানো; কুঁজো
জীর্ণ নড়বড়ে
পেরুতে গেলে থরথরিয়ে
উঠত নড়েচড়ে।

সাঁকোর দেহে ছিলো ক’খানা
বাঁশের বুড়ো হাড়
আগলে রেখে টানত কাছে
টানা-টানা দু’পাড়।

সাঁকোটা ছিল ঠাঁয় দাঁড়িয়ে
সাঁকোটা ছিল ঝুঁকে
মনে হত – সে মহাব্যাধিতে
মরছে ধুঁকেধুঁকে।

সাঁকোর কঙ্কালে দীর্ণ
রেখারা আঁকাবাঁকা
অপুষ্টিতে ভুগছে যেন
এই কি বেঁচে থাকা?

তবুও সাঁকো দেখত কত
স্বপ্ন থোকা-থোকা
দুলত বুকে রঙিন আশা
দারুণ একরোখা।

ঝড় আসত। দমকা হাওয়া
কাঁপাত অন্তর
একটুও সে ভেঙে পড়েনি
ছিল না কোনো ডর।

দিনরাত্রি এ গেরামের
ও গেরামের কত
মানুষজন পারাপারটা
করত অবিরত।

দুখে ও সুখে এমন করে
সবার মুখে হাসি
ফোটাত সাঁকো ঘোর বিপদে
থাকত পাশাপাশি।

এখনো আছে আগের মতো
বেণী বিলের বাঁক
এখনো ওড়ে রোদেলা পাখি
দুপুরে ঝাঁকেঝাঁক।

এখনো আছে গেরামগুলো
গাঁয়ের লোকজন
এ পার থেকে ও পারে পাড়ি
দেয় সারাটা ক্ষণ।

কিন্তু সেই সাঁকোটা নেই
সকলে জানে হেতু –
উঁচিয়ে ঘাড় সেখানে আজ
পাথরে-গড়া সেতু।

হাল ছেড়ো না

তপ্ত রোদে পথ হাঁটছি। পায়ের নিচে ফুটছে বালি কী যে
হঠাৎ এল এক ফালি মেঘ। বিষটি নামে। মিষ্টি হাওয়ায় মনটা গেল ভিজে।
বেশ বুঝেছি – পথচলা তো সহজ কিছু নয়
পথে-পথে কত বিপদ বিঘ্নবাধা ছড়িয়ে নয়ছয়।

বাবার কথা উঠল বেজে কানে
উদ্দীপনা চলকে ওঠে প্রাণে –
বলছে বাবা, ‘পথ চলতে কেন এত ভয়?’

ঘন সবুজ ঘাসরা ধুসর ফিকে
ভাঙাচোরা নুড়িগুলো ছড়িয়ে চতুর্দিকে
কখনো পথ বিষম উঁচু। কখনো ঘোর নিচু
ডরজড়তার পিছুটানটা লেগে আছে পিছু।

পথ চলছি। পথ চলছি। এই তো পেলাম একটা বটের ছায়া
একলা আমি বসে ক্ষণে-ক্ষণে
খুব ভাবি আনমনে –
এমন ছায়ার মতোই মিঠে আমার প্রতি বাবার ছিল অপার স্নেহ-মায়া।

সামনে অগাধ নদী
বইছে নিরবধি।

দাঁড়িয়ে পাড়ে আমি
পাড়ি দেব। নৌকা কোথায়? থমকে থেকে ঘামি।
ঠিক তখনি বুঝতে পারি – ঝিরিঝিরি হাওয়ার সুরে বলছে বাবা, ‘খোকা,
তুমি ভীষণ বোকা!
সকল সময় তোমার পাশে আমি আছি। বুকে সাহস রাখো
স্বপ্নে অটল থাকো।

নদী এমনতরো
হোক-না যতই বড়ো
পাড়ি দেয়া মোটেও কঠিন নয়
জানতে হবে কেমন ক’রে নির্ঘাত হয় ভয়ের পরাজয়।’

নদীটাকে ডুবসাঁতারে পাড়ি দিয়ে এগিয়ে গেলাম। সামনে দেখি বন
গহীন বনের পাতায়-পাতায় আলোছায়ার মায়াবি অঞ্জন।
এদিক ঘুরি। ওদিক ঘুরি। মনটা উড়ু-উড়ু
এবং দুরুদুরু।

আলটপকা আঁতকে উঠি। মালুম হল – বনের মাঝে এসে
দিক হারিয়ে গেছি আমি ফেঁসে –
কেবল ভাবি – কেমন ক’রে এ বন থেকে বেরিয়ে আমি যাব?
আমার পথের দিশে খুঁজে পাব?

চেয়ে দেখি – ডালপালাদের বহর ঠেলে ডহর এলোমেলো
পাতার ফাঁকে কেটে আঁকিবু্কি
রোদ দিচ্ছে উঁকি।

বাবার কথা পড়ল মনে। একান্ত এক কণ্ঠ ভেসে এল –
‘বলছি আমি তবে
যা-ই বিশ্বাস করবে তুমি অর্জন তা-ই হবে।

বিশ্বাসটা উঁচিয়ে রাখো মনের অন্দরে
ভীষণ যতন ক’রে।

দেখবে তুমি ঠিকই খুঁজে পাবে পথের দিশে।
ভয় বলো আর কিসে?’

প্রাণপণে বন গ’লে আমি খুঁজে নিয়ে পথ
চলে এলাম হলদে মাঠের হাট
কী দারুণ নিপাট!

মাঠ পেরুলাম। ঘাট পেরুলাম। আচমকা পর্বত
সামনে এসে হাজির হল যেই
হারিয়ে ফেলি খেই।

অবশ শরীর। বিবশ মনে আমি তো নিশ্চুপ
ভাবতে থাকি খুব –
দত্যিমতো ঘাড় উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে পাহাড় অই
পেরিয়ে যাব কেমন করে? আমি মোটেও হারকিউলিস নই!
নিঝুম পাহাড় চিরে
ঝরনা নামে ধীরে।
যেদিক তাকাই জংলা অথই ঘের
নিশ্ছিদ্র ঢের।

করব এখন কী?
ঘুণাক্ষরেও আমি ভাবি নি –
পাহাড় হবে আমার পথের বিরাট বড়ো বাধা
আচম্বিতে পিছু নেবে মরণ গোলকধাঁধা।
এমন সময় বনফুলের মতো আলাপনে
বাবার কথা আমার মনের কোণে
মিষ্টি আবেশ ছড়িয়ে দিল, ‘হাল ছেড়ো না। এগিয়ে যাও। সফল হবেই হবে।

চেষ্টা ছাড়া সফলতা পেয়েছে কে কবে?’
পাহাড়টাকে কোনো মতে পাড়ি দিয়ে আমি তো ফুরফুরে
পথ হাঁটছি। পথ হাঁটছি। একটা মধুর উচ্ছলতা মনটা আছে জুড়ে।

পাড়ি দিলাম – কত গেরামপাড়া
ডোল দিগন্তে উছলে-পড়া নিতল অচিনপুর
গীতল হৃদয় উজিয়ে যায় সোনালি নীল রঙের সমুদ্দুর
দুধ শাদা কাশ। বাঁশের বাদাড়। পাতার পাথার মনটাকে দেয় নাড়া।

পথ চলছি। পথ চলছি। এ পথচলার নেই বুঝি আর শেষ
চিন্তা কী আর? আমার আছে সঙ্গে অমিত এক পাথেয় বাবার উপদেশ!

ঘেসো নদী নিরবধি

ঘেসো নদী
নিরবধি
ডাকে ইশারায়–
বলে– এসো
ব’সো ঠিক
এই পাশটায়।
তারপর
দিনভর
ভালবেসো–
উচ্ছল
টলমল
জলসিঁড়ি
ঝিকমিক
বালিতীর
দাদুরির
ছোট নীড়
জুড়ে দুই ধার।

ভালবেসো পাড়
পাড়ে বাঁধা নাও
ভেজা ডাঙা
ঘাসপিঁড়ি
ঘাসের নোলক
জলের দোলক
মাছরাঙা
স্যাঁতসেঁতে
আলক্ষেতে
বেতফুল-ঝাড়
এলোমেলো, তাও
দারুণ নিপাট।

ভালবেসো মাঠ
মাঠের হাটের
নানা উৎসব
ধানটুনিদের
টানা কলরব
থরে থর
প্রান্তর।
প্রান্তরজুড়ে
দূরে বহু দূরে
ঘুঘুদের ডাক।

ভালবেসো কাক
কাকডাকা ভোর
ভোরের শিশির
শিশিরের দুল
চম্পাপারুল
রোদ্দুরে
ফুরফুরে
সবুজের ভিড় –
নির্ঘুম
গাঙচিল
ঝিলমিল
কী নিঝুম
ঝুম বিল
মিঠে রোদে ছাওয়া।

ভালবেসো হাওয়া
হাওয়াদের তুড়ি
শাদা মেঘঘুড়ি
ফিকে নীল
আকাশের দাওয়া
কাশবনে
বাঁশবনে
ঘুরোঘুরি
লুকোচুরি
দীঘিজলে নাওয়া।
এ ভাবেই
নিমিষেই
আহা কেটে-যাওয়া
প্রতিটি পহর।

ভালবেসো চর
চরে নয়া ঘর
ছিমছাম
উদ্দাম
সারিসারি
খেরো বাড়ি –
ফেলে-আসা দোর
অন্দরটাও
বাদাড়ের মোড়
এ গাঁও, ও গাঁও।
বরবটি শিম
কোকিলের ডিম
পুকুরের পোকা
দুপুরের গান
কলমির থোকা
বকুলের ঘ্রাণ
দোয়েলের
কোয়েলের
ব্যস্ততাগুলো।

ভালবেসো ধুলো
ধুলোমাখা
আঁকাবাঁকা
ধুধু মেঠোপথ
শুধু বারবার
সাঁকো পারাপার
ঝরাপাতাদের
লুটোপুটি
হুটোপুটি
ধানশালিকের
খোশনহবত।
রোদের ডানায়
কানায়-কানায়
রঙ শত-শত।

অপুদের মতো
ঢের অবিরত
ভালবেসো–
বেলা আর
অবেলার
মন উচাটন-
করা প্রতিক্ষণ।
গড়ের খাঁড়ির
জংলা বাড়ির
মেঠোপথ ধ’রে
কোনো এক-ভোরে
তুমি এসো।
ভালবেসো খুব
আকাশের ডুব
দিগন্ত ঘেঁষে।
ভালবেসে এসে
ব’সো পাশটায়
এই নিরালায়।

বৃষ্টিযাপন

একটা কবিতা লিখছি সকাল থেকে
বৃষ্টি নামছে ডুমুরের ডালে রুমুরঝুমুর নূপুর ছন্দে খুব
বৃষ্টি পড়ছে মিষ্টি কবিতা। ধুলোর গন্ধ আনন্দে নেয় মেখে
ইশকুল-ঘর উচ্ছল ঘোরে হঠাৎ দিয়েছে ডুব।

ডুবে গেছে হাট। মাঠ জলে থইথই
কোথাও যে যাব, সে-উপায় নেই মোটে
খুলে বসে আছি কবিতার খেরো বই
‘ক্রিংক্রিং’ ধ্বনি তুলে সাইকেলে এবেলা কে ওই ত্রস্ত গতিতে ছোটে?

বৃষ্টি নামছে সেতারের তার ঘেঁষে
গানের কেলাশ আজো বুঝি বাদ যায়
বৃষ্টির মতো ক’রে নিরালাও কথা কয় হেসে-হেসে
নিরালা কি ঝুম ভিজছে তাদের ছোট্ট উঠোনটায়?

লেবুর গাছটা লাগছে ভীষণ একা
ইশটিশনের ঘণ্টা বাজল। মনটা আচমকাই কেন চমকাল
দৃষ্টি ছাপিয়ে কে যেন অধীর দিচ্ছে কেবল দেখা
এ কেমন বৃষ্টি! জলে ভিজে-ভিজে সারাবেলা কী যে নিদারুণ জমকালো!

জলেঘেরা গাঁও! যেন ছোটো কোনো দ্বীপ
সেই তো সকাল। সকাল গড়িয়ে দুপুরের খোঁজ নাই
কদম গাছটা নিরালার মতো পরেছে ফুলের ক্লিপ
মন ভালো নাই। মন ভালো আছে। হাওয়ার সানাই বেজে যায় আইঢাই।

বৃষ্টি নামছে থেকেথেকে পোড়ো পাগারের আড়াআড়ি
তোলপাড় হল হিজলের ডালপালা
কাকভেজা ডাকপিয়ন নাড়ছে দরজায় কড়া জয়ন্তীদের বাড়ি
ইশকুল-ঘরে উত্তাল এক ঝুলছে ঢাউস তালা।

বৃষ্টি! সে এক তিস্তা পারের মেয়ে
ভুল করে বুঝি বাঁধে নাই তার চুল
হাট-করে-খোলা চৌকাঠে এসে নিরালার সুরে গেয়ে
বাঁধাল হুলুস্থুল।

ঘাস। পাখি। পাতা। লাউয়ের লতা। মেঠো পথটার নুড়ি
এক-পরিবার হয়ে মিলেমিশে জানালার পাশে অবিরল নিশ্চুপ
নিরালা এমনই। সারাবেলাজুড়ে হৃদয়ে ওড়ায় নৈঃশব্দ্যের ঘুড়ি
বৃষ্টিযাপনে নৈঃশব্দ্যরা এলায়িত অপরূপ।

নিরালা কি জানে যখন বাতাসে আরো কেঁপে ওঠে বৃষ্টির গাঢ় ঝুঁটি
দুই চোখ জুড়ে ভালোলাগা জাগে অফুরান বৈভবে
আমাদের বাড়ি তোমাদের বাড়ি দূরত্ব এক মুঠি
উঠোনের জলে জ্ব’লে-জ’¡লে ওঠে তার মুখখানি। ঠিক নিরালাই হবে!

কবিতা লিখছি। কবিতা লিখছি। লিখি এক ইতিহাস
নিরালা ভীষণ ভালো গায় আধুনিক
মেঘের ওড়না মুছে দেয় সব ডহর দীর্ঘশ্বাস
আকাশ উড়ছে। আমিও উড়ছি। আহা এ বৃষ্টি খুবখুব মানবিক।

Facebook Comments

আড্ডাপত্রে লাইক দিন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১