শেয়ার করুন:

প্রথম কাব্যগ্রন্থ, প্রথম কবিতা আড্ডাপত্র প্রকাশ করছে। প্রথম কাব্যগ্রন্থের সাথে কবির আনন্দ, উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি পাঠকের কানে নতুন কবিতার গুঞ্জরণ ভেসে আসে। পাঠকের মনে কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতাটি তুলে ধরতে চায় আড্ডাপত্র। কবিতা পাঠের সাথে সাথে জানবো কবি সম্পর্কেও। এই আয়োজনটি পরবর্তীতে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হবে

কুরশিনামা

মজিদ মাহমুদ

ঈশ্বরকে ডাক দিলে মাহফুজা সামনে এসে দাঁড়ায়
আমি প্রার্থনার জন্য যতবার হাত তুলি সন্ধ্যা বা সকালে
সেই নারী এসে আমার হৃদয় মন তোলপাড় করে য়ায়
তখন আমার রুকু
আমার সেজদা
জায়নামাজ চেনে না
সাষ্টাঙ্গে আভূমি লুণ্ঠিত হই
এ মাটিতে উদ্গম আমার শরীর
এভাবে প্রতিটি শরীর বিরহজনিত প্রার্থনায়
তার স্রষ্টার কাছে অবনত হয়
তার নারীর কাছে অবনত হয়
আমি এখন রাধার কাহিনি জানি
সুরা আর সাকির অর্থ করেছি আবিষ্কার
নারী পৃথিবীর কেউ নও তুমি
তোমাকে পারে না ছুঁতে
আমাদের মধ্যবিত্ত ক্লেদাক্ত জীবন
মাটির পৃথিবী ছেড়ে সাত তবক আসমান ছুঁয়েছে
তোমার কুরশি
তোমার মহিমার প্রশংসা গেয়ে
কী করে তুষ্ট করতে পারে এই নাদান প্রেমিক
তবু তোমার নাম অঙ্কিত করেছি আমার তছবির দানা
তোমার স্মরণে লিখেছি নব্য আয়াত

আমি এখন ঘুমে-জাগরণে জপি শুধু তোমার নাম।

মজিদ মাহমুদ আশির দশকের উল্লেখযোগ্য কবি। কবিতা তাঁর নিজস্ব ভুবন হলেও মননশীল গবেষণাকর্মেও খ্যাতি রয়েছে। এর পাশাপাশি গল্প-উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্যেও রয়েছে অবাধ বিচরণ। জন্ম ১৬ এপ্রিল ১৯৬৬, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার চরগড়গড়ি গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর।লেখালেখির শুরু ১৯৭৬ সালে। এ পর্যন্ত প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৪০ এর অধিক। তারমধ্যে কাব্যগ্রন্থ ১৬টি। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: মাহফুজামঙ্গল (১৯৮৯), গোষ্ঠের দিকে (১৯৯৫), বল উপখ্যান (১৯৯৮; ২য় প্রকাশ- ২০০৩), আপেল কাহিনী (২০০২), ধাত্রী ক্লিনিকের জন্ম (২০০৬), অণুবিশ্বের কবিতা (২০০৭); দিওয়ান-ই-মজিদ (২০১০); ); সিংহ ও গর্দভের কবিতা (২০১৩), কবীরের শত দোঁহা (২০১৫); গ্রামকুট (২০১৫), ভালোবাসা পরভাষা (২০১৫); কাটাপরা মানুষ (২০১৭), লঙ্কাবি যাত্রা (২০১৯), শুঁড়িখানার গান (২০১৯)।
প্রবন্ধ ও গবেষণা : নজরুল, তৃতীয় বিশ্বের মুখপাত্র (১৯৯৬); কেন কবি কেন কবি নয় (২০০৩); নজরুলের মানুষধর্ম (২০০৪); ভাষার আধিপত্য ও বিবিধ প্রবন্ধ (২০০৫); উত্তর-উপনিবেশ সাহিত্য ও অন্যান্য (২০০৭); রবীন্দ্রনাথের ভ্রমণসাহিত্য (২০১০); সাহিত্যচিন্তা ও বিকল্পভাবনা (২০১০); রবীন্দ্রনাথ ও ভারতবর্ষ (২০১২); নির্বাচিত প্রবন্ধ (২০১৪); সন্তকবীর শতদোঁহা ও রবীন্দ্রনাথ (২০১৫); ক্ষণচিন্তা (২০১৬)।
গল্প-উপন্যাস: মাকড়সা ও রজনীগন্ধা (১৯৮৬); সম্পর্ক (২০২০)। কিশোরকবিতা: বৌটুবানী ফুলের দেশে (১৯৮৫); বাংলাদেশের মুখ (২০০৭)।
সম্পাদনা: আশির দশকের কবি ও কবিতা (১৯৯১); বৃক্ষ ও ভালোবাসার কবিতা (২০০০); জামরুল হাসান বেগ (স্মারকগ্রন্থ ২০০৩)।
স্বাধীনতা উত্তরকালে ‘মাহফুজামঙ্গল’ এর রয়েছে আলাদা বিশেষত্ব।যে সময় কবি মজিদ মাহমুদ এর ‘মাহফুজামঙ্গল’ বের হয়, সে সময় ষাট, সত্তর ও আশি দশকের উল্লেখযোগ্য কবিদের কাব্যগ্রন্থ বের হচ্ছিলো। পাবনার মতো একটি মফস্বল শহর থেকে বের হওয়া ‘মাহফুজামঙ্গল’ বাংলা কবিতার পাঠকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছিলো সেসময়। এটা নিঃসন্দেহে কবি মজিদ মাহমুদ এর স্বতন্ত্র্য কাব্যভাষা ও বিষয় নির্বাচনের ফলে সম্ভব হয়েছে। এ পর্যন্ত ‘মাহফুজামঙ্গল’ এর বের হয়েছে চৌদ্দটি সংস্করণ। এটা নিঃসন্দেহে বাংলা কবিতার ইতিহাসে একটি বড় ঘটনা।

Facebook Comments