শেয়ার করুন:

প্রথম কাব্যগ্রন্থ, প্রথম কবিতা আড্ডাপত্র প্রকাশ করছে। প্রথম কাব্যগ্রন্থের সাথে কবির আনন্দ, উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি পাঠকের কানে নতুন কবিতার গুঞ্জরণ ভেসে আসে। পাঠকের মনে কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতাটি তুলে ধরতে চায় আড্ডাপত্র। কবিতা পাঠের সাথে সাথে জানবো কবি সম্পর্কেও। এই আয়োজনটি পরবর্তীতে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হবে..

কষ্টের কাছে কষ্টের চিঠি

ফরিদ আহমদ দুলাল

তোমার কুশল সুস্থ নিরোগ শরীর দেখে সুখী হবো।
প্রিয়তমা কষ্ট আমার ক্যামন আছো?
কতোদিন সূর্যকান্ত হাসপাতালটি দেখিনি
খেয়া পারাপারে এখানে এখন কী ভীষণ ভীড়,
একদিন আমাদের প্রথম কান্নায় ব্রহ্মপুত্রের ওপারে
সূর্য উঠেছিলো মনে আছে?
আজো একজন জয়নুল তোমায় আঁকবে বলে বালুচরে দেখে
কৃষকের আনাজ-সবজিক্ষেত, মিষ্টি কুমড়োর
রোমশ-কর্কশ–লতা,
মরিচের টাল–সজারুর মতো সারা গায়ে কাঁটা-কাকরল,
মটরশুটির সাথে মটর লতার লুকোচুরি।
আজো একজন সুঠাম বাউল মাঝি
দূরের আকাশে মেঘেদের কানে পৌঁছে দেয় কষ্টের বিচ্ছেদী সুর,
গাঙের ওপারে ঝাউবন ছাপিয়ে এখনো আড়বাঁশি একজন
অনায়াসে বুক খুলে গেয়ে যায় রাধা রাধা বলে।
কষ্ট, আমার কষ্টের দুধরাজ,
তোমার দংশনে আমি নীল হবো
দেবদারু হয়ে তোমার পথের দিকে চেয়ে রবো,
উজানে যে গুন টেনে যায় শক্তপেশির দু’জন মাঝি
তাদের কাছেও খবর দিলাম–
বলে যায়নি ভাটির টানে চলা ভাটিয়ালি!
প্রিয়তমা কষ্ট, যুক্তাক্ষর কষ্ট সখী,
পরস্পরের জলে স্নান সেরে নেবো,
আমাদের কষ্ট নিয়ে পথসভা হবে না কখনো
কাগজে বিবৃতি আসবে না- আসবে না প্রেসনোট,
তবু কষ্টে কষ্টে সুনিবিড় সখ্য হবে
নিজেদের গন্তব্য কষ্টেরা ঠিক খুঁজে নেবে,
প্রত্যাশায় বুক বেঁধে আছি–
একজন জয়নুল এখনো যেমন দেবদারু হয়ে চেয়ে থাকে
দুধরাজ কষ্টের সরল-সুবর্ণ গ্রামের পথে।
……………………………………………………………
[ফরিদ আহমদ দুলাল সত্তর দশকের অন্যতম কবি। কবি পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি নাট্যকার, সমালোচক হিসেবেও খ্যাতিমান। লিটলম্যাগ সম্পাদক ও সংগঠক হিসেবেও তিনি তাঁর দক্ষতার প্রমাণ রেখেছেন। জন্ম ১৮ মে ১৯৫৬ ময়মনসিংহ ৬৯ রামবাবু রোড, ময়মনসিংহ। বাবা মির্জা মো. ফেরদৌসী, মাতা ফাতেমা আখতার খাতুন। স্ত্রী কুমকুম সরকার। তিনি এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। কন্যা রুবাইয়াত অস্মিতা অদিতি, পুত্র অনন্ত অনুপম। বর্তমানে বসবাস করছেন রামবাবু রোড, ময়মনসিংহ।তিনি ময়মনসিংহের মৃত্যুঞ্জয় উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে এসএসসি (বাণিজ্য বিভাগ) ও ১৯৭৫ সালে সরকারি আনন্দমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি (বাণিজ্য বিভাগ) পাস করেন। একই কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনায় ১৯৭৮ সালে স্নাতক ও ১৯৭৯ সালে একই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। দীর্ঘদিন সরকারি চাকুরি করে বর্তমানে অবসর জীবন যাপন ও লেখালেখি করছেন।
কবি ফরিদ আহমদ দুলাল-এর লেখালেখি শুরু করেন ১৯৬৮ সালে। প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩৯টি। তার মধ্যে কাব্যগ্রন্থ ১৭টি।
প্রকাশিত গ্রন্থ :
কাব্যগ্রন্থ : অপূর্ব ডেকে যায়, লাবণ্য ছুঁয়েছি তোমাকে, জলের গহীনে রোদ, নিবিড় নিঃশ্বাস তার, করতলে রাত্রির ছোঁয়া, মুখোমুখি দুঃসময়, দীর্ঘ বিষাদ সড়ক, নিঃসঙ্গ রজনীর লাবণ্য, প্রত্যুষের বাগান রচনাপর্ব, মৈমনসিং গীতিকাভাসান, অরণ্যে অনর্থ তোলপার, সিলেক্টেড পোয়েমস, নাইওর, কৃষ্ণকলি নাম তার, মৃত্তিকাবন্দনা ইত্যাদি।
নাটক : এবঙ লাটিয়াল (১৯৮৩); মানিক বাউলের পালা, তিন একাঙ্ক, তিমির বিনাশী, কোঁচ, লড়াই। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দুটি নাটক, ফুলজান-জরিবিবি।
গল্প : কতিপয় দ্বন্দ্ব।
উপন্যাস : শৃঙ্খল।
প্রবন্ধ : বৃহত্তর ময়মনসিংহের লোকসংস্কৃতি সন্ধান; বাংলাদেশের কবি ও কবিতা; সত্তরের নির্বাচিত কবি ও কবিতা, প্রগতি: শিল্পী-সাহিত্যিকের ভূমিকা, নেপথ্যনাটক, মনোময় ময়মনসিংহ।
সম্পাদনা : একশ বছরের প্রেমের কবিতা, গোল্ডেন রিল্ম অব পোয়েট্রি বাংলাদেশ, হু কিলড মুজিব, কবি মতিন বৈরাগী।
সাহিত্যপত্র সম্পাদনা : স্বতন্ত্র (২৫টি সংখ্যা)।
পুরস্কার ও সম্মাননা : মহাদিগন্ত পুরস্কার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত (২০০৯), ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব পদক, ময়মনসিংহ (২০১০), নাসিমা বানু স্বর্ণপদক: বনমালী ইনস্টিটিউট, পাবনা (১৯৯৯), রূপসী বাংলা পুরস্কার, জীবনানন্দ স্মৃতি সংসদ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত(২০০৯); সেবা সম্মাননা, সেবা নিকেতন, ময়মনসিংহ (২০০৫), গীতিকার সম্মাননা, সন্দীপন সাংস্কৃতিক সংস্থা, ময়মনসিংহ (২০০৬), বাংলাদেশ রাইটার ক্লাব সম্মাননা, বাংলাদেশ রাইটার ক্লাব (২০০৬), নাট্যজন সম্মাননা, ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশন (২০০৩), নাট্য সম্মাননা, জেলা পরিষদ, ময়মনসিংহ (২০০০)।
বিদেশভ্রমণ : ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আারব।

Facebook Comments