শেয়ার করুন:

প্রথম কাব্যগ্রন্থ, প্রথম কবিতা আড্ডাপত্র প্রকাশ করছে। প্রথম কাব্যগ্রন্থের সাথে কবির আনন্দ, উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি পাঠকের কানে নতুন কবিতার গুঞ্জরণ ভেসে আসে। পাঠকের মনে কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতাটি তুলে ধরতে চায় আড্ডাপত্র। কবিতা পাঠের সাথে সাথে জানবো কবি সম্পর্কেও। এই আয়োজনটি পরবর্তীতে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হবে..

অক্ষম উচ্চারণ

আমিনুল ইসলাম

লোভের কাতারে দ্যাখো ঝোলে আজ বীরের তকমা
অগ্রজের বুকের ছাপ মুছে যায় কৃতঘ্ন দলনে
আমের বাগানে শুধু বেড়ে যায় বিরুদ্ধ উপমা
সূর্যও ভাঁড়ামি করে সমাসীন আঁধার চরণে!
পিতৃ-অভিজ্ঞান-দ্বন্দ্বে মালা চায় জারজ জবান
আত্মবিক্রয়ের হাটে শুদ্ধি খোঁজে উত্তরাধুনিক
খেয়ালি ঘুঘুর পায়ে মুছে যায় সহস্র-লিখন;
উজাড় পুঁটির রাজ্যে বকেরাই অহিংস প্রেমিক;
পতনের হাত ধরে প্রলোভের গোপন শকটে
বিপ্লবীরা চলে যায় পুঁজিবাড়ি ভোগের বাগানে,
প্রবাদের কণ্ঠসম সাম্যধ্বনি প্রেসক্লাব গেটে
হেসে ফেলে রিক্সাওয়ালা টাঙ্গাওলার বেফাঁস জবানে।
প্রেয়সীঠোঁটের লালে মোড়লেরা জুড়ে দেয় শর্ত
কুটির প্রাঙ্গণে দীপ নিবু নিবু আক্রান্ত সঞ্চয়
মৌরসি সিন্দুক ঘিরে চোরাদ্বন্দ্ব সিঁদকাটা গর্ত
বর্গীর রেকর্ড মোছে বিশ্বব্যাংক ধূর্তহাতে জলে ও ডাঙ্গায়।
জলপাইয়ের পাতা ফেলে উঠে আসে জঙলী বিধাতা
নগদ দাবির ধ্বনি চারিদিকে উধাও মধুর
কপটচারীর কোলে দোলে দ্যাখো বেহায়া কবিতা
যা লিখি শোনায় দ্রোহ ধেয়ে আসে সরস্বতীর নাপিতের ক্ষুর।
ক্ষমো হে দরদী, ফেলে ব্যর্থতার যত অভিজ্ঞান
তামাদি প্রেমের দাবি, সেও মানি, যায় বুঝি কবির জবান।
…………………………………….
আমিনুল ইসলাম নব্বই দশকের উল্লেখযোগ্য কবি।প্রাবন্ধিক ও সমালোচক হিসেবেও তিনি পরিচিত। জন্ম ১৯৬৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার টিকলীচর গ্রামে এক কৃষক পরিবারে । পিতা বেলায়েত আলী মন্ডল, মাতা সাজেনুর নেসা।স্ত্রী রোকশানা পারভীন লীনা। তিনি এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। কন্যা ডালিয়া নওশিন লুবনা ও পুত্র রাগিব ইশরাক সজন।
তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে সমাজকর্ম বিষয়ে অনার্সসহ এমএ এবং নর্দান ইউনিভার্সিটি থেকে গভর্নেন্স স্টাডিজ বিষয়ে এমএস ডিগ্রী অর্জন করেন।তিনি বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে।
ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখি শুরু। তবে কবি-প্রাবন্ধিক হিসাবে আত্মপ্রকাশ নব্বই দশকে। লেখার বিষয় : কবিতা, প্রবন্ধ, ছড়া এবং সংগীত বিষয়ে গবেষণাধর্মী নিবন্ধ। কবিতা রচনায় দশকের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে শব্দ ও ভাষার ব্যবহারে তিনি কবিতার নিজস্ব একটি ধরন নির্মাণে সক্ষম হয়েছেন বলে তার কবিতার আলোচকগণ প্রায় সকলেই বলেছেন। দুর্বোধ্য নয় অথচ গভীর ব্যঞ্জনাময়–এটি হচ্ছে তার কবিতার সবচেয়ে বড় দিক। মননশীল প্রবন্ধের জন্যও তিনি সমানভাবে স্বীকৃত। তার কবিতা নিয়ে বিভিন্ন কবি-গবেষকের এযাবত ৭০/৮০ টি প্রবন্ধ/নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সেদিক থেকে এসময়ের সবচেয়ে আলোচিত একজন কবি তিনি। এ পর্যন্ত প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২৩টি । তার মধ্যে কাব্যগ্রন্থ ১৯টি।
কবিতাগ্রন্থ : তন্ত্র থেকে দূরে (২০০২); মহানন্দা এক সোনালি নদীর নাম (২০০৪); শেষ হেমন্তের জোছনা (২০০৮); কুয়াশার বর্ণমালা (২০০৯); পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি (২০১০); স্বপ্নের হালখাতা (২০১১); প্রেমসমগ্র (২০১১); . জলচিঠি নীলস্বপ্নের দুয়ার (২০১২); শরতের ট্রেন শ্রাবণের লাগেজ (২০১৩); কবিতাসমগ্র (২০১৩); জোছনার রাত বেদনার বেহালা : (২০১৪) ; তোমার ভালোবাসা আমার সেভিংস অ্যাকউন্ট ( ২০১৫) প্রণয়ী নদীর কাছে (২০১৬), ভালোবাসার ভূগোলে(২০১৭); নির্বাচিত কবিতা ( ২০১৭); অভিবাসী ভালোবাসা ( ২০১৮) , জলের অক্ষরে লেখা প্রেমপত্র( ২০১৯) ( বাছাই কবিতা ( ২০১৯), প্রেমিকার জন্য সার সংক্ষেপ ( ২০২০)।
ছড়ার বই : দাদুর বাড়ি (২০০৮); ফাগুন এলো শহরে (২০১২); ৩. রেলের গাড়ি লিচুর দেশ( ২০১৫)।
প্রবন্ধগ্রন্থ : বিশ্বায়ন বাংলা কবিতা ও অন্যান্য প্রবন্ধ (২০১০);
পুরস্কার ও সম্মাননা : রাজশাহী সাহিত্য পরিষদ সাংগঠনিক সম্মাননা ২০০৪; বগুড়া লেখক চক্র স্বীকৃতি পুরস্কার ২০১০ ; শিশুকবি রকি সাহিত্য পুরস্কার ২০১১ ; নজরুলসংগীত শিল্পী পরিষদ সম্মাননা ২০১৩; গাঙচিল সাহিত্য পুরস্কার ২০১৫; এবং মানুষ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৭ ; দাগ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮।
দেশভ্রমণ: ভারত, মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইলান্ড, মায়ানমার, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, স্পেন, পর্তুগাল।

Facebook Comments