শেয়ার করুন:

[প্রথম কাব্যগ্রন্থ, প্রথম কবিতা আড্ডাপত্র প্রকাশ করছে। প্রথম কাব্যগ্রন্থের সাথে কবির আনন্দ, উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি পাঠকের কানে নতুন কবিতার গুঞ্জরণ ভেসে আসে। পাঠকের মনে কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতাটি তুলে ধরতে চায় আড্ডাপত্র। কবিতা পাঠের সাথে সাথে জানবো কবি সম্পর্কেও। এই আয়োজনটি পরবর্তীতে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হবে]

কালো চিঠি // মাহবুব সাদিক
——————————-

মাঝে মাঝে কালো চিঠি এসে হানা দেয় গূঢ় অন্তর্গত স্রোতে
আকস্মিক রক্তরথ তোলপাড় ক’রে ওঠে মৃচ্ছকটিক
শূন্য থেকে উঠে আসে ভীতমুখ কালো সোরগোল
ভয়ের আগুন জ্বলে ঘরময় দেয়ালে কার্ণিশে
কিছুতে কাটে না রাত, নিয়মিত কালো ব্যালেরিনা
ঘিরে-ঘিরে নেচে যায়, মধ্যরাতে আমার প্রচ্ছদ।

=========================

[মাহবুব সাদিক একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক। । ষাট দশকের গোড়া থেকেই কবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। কবিতা ছাড়াও লিখেছেন ছোটগল্প, উপন্যাস, ছড়া, কিশোরকবিতা এবং প্রবন্ধ। জন্মস্থান ও জন্মতারিখ : গ্রাম : আইসরা, উপজেলা: বাশাইল, জেলা: টাঙ্গাইল। ২৫ অক্টোবর, ১৯৪৭। পিতা মোয়াজ্জেম হোসেন খান, মাতা : হামিদা খান। শিক্ষা : মাধ্যমিক: বিন্দুবাসিনী হাই স্কুল, টাঙ্গাইল ১৯৬২; উচ্চমাধ্যমিক : সাদত কলেজ ১৯৬৪; স্নাতক সম্মান (বাংলা) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬৮; স্নাতকোত্তর (বাংলা) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬৯ ; পিএইচ.ডি. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯০। অভিসন্দর্ভ : বুদ্ধদেব বসুর কবিতা : বিষয় ও প্রকরণ। পেশা : বালাদেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা ও অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন। সাদত সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরগ্রহণ।

মাহবুব সাদিক ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরে টাঙ্গাইল অঞ্চলে পুরো ন’মাস যুদ্ধ করেছেন। বাংলাদেশের স্বল্প যে ক’জন কবি-লেখক মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন তিনি তাদের অন্যতম।

মাহবুব সাদিক এর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ষাটের অধিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: সন্ধ্যার স্বভাব- ১৯৭৬; স্বপ্নচৈতন্যের ডালপালা-১৯৮৩; সুন্দর তোমার নির্জনে-১৯৮৫; যায় কল্পান্তের কাল- ১৯৮৬; আদিগন্ত রোদের তিমির-১৯৯৫; কবিতা সংগ্রহ-১৯৯৫; অনন্ত নক্ষত্র চোখ- ১৯৯৯; অতৃপ্ত ঈশ্বর-২০০০; নিরালোকে জলঝর্ণার ধ্বনি-২০০৬; এখন অপর বেলা-২০০৮; কবিতা সমগ্র (এক)- ২০০৯; বেতাল গান্ধার-২০১০; যুদ্ধভাসান-২০১২; যে আগুন অমিতাভ- ২০১২; দ্য সুইপ অব ওয়র-২০১২; যে ছিল আমার-২০১২; অনিরুদ্ধের বাঁশি-২০১৫; কবিতা সমগ্র (দুই)-২০১৭; নিমগ্নমানব (এক)- ২০১৮।

উল্লেখযোগ্য উপন্যাস : উত্তাল- ১৯৯০; সমুদ্র পাখিরা- ১৯৯৭; বারুদগন্ধ দিন- ২০০৬; কালো সূর্যের নিচে- ২০০৬;

ছোটগল্প- জোৎস্নাবোনা রাত- ১৯৯৭; ভুবনচিল-২০১০।

প্রবন্ধ-গবেষণা: বুদ্ধদেব বসুর কবিতা : বিষয় ও প্রকরণ- ১৯৯১; কবিতায় মিথ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ- ১৯৯৩ [২য় সংস্করণ ২০১২]; এসো ছড়ার ছন্দ শিখি- ২০০২; জীবনানন্দ : কবিতার নান্দনিকতা- ২০০৪; সাহিত্যে শিল্পপ্রতিমা- ২০১৫; নির্বাচিত প্রবন্ধ-২০১৮; বাংলা নাটকে বাঙালি সংস্কৃতি- ২০১৮; বুদ্ধদেব বসুর কাব্যনাট্য : একালের জীবনভাষ্য- ২০১৯।

কিশোর উপন্যাস: তরুণদের একাত্তর- ১৯৯৪; স্বপ্নের বনে বনে-১৯৯৮; আমরা করবো জয়-১৯৯৯; হ্রদের ধারে রহস্য- ২০০৫; কাকড়াজানের গুপ্তধন-২০০৫; কিকি ডিয়ারি ও বাদলদের অভিযান ২০০৬; কাকতাড়ুয়ার হাসি ২০১০; কিশোর উপন্যাসসমগ্র ২০১২; রেলপথের ছেলেরা ২০১৫; দিপুর নীলচাবি ২০১৫; অনুর হংসবাহিনী ২০১৭; মুক্তিযুদ্ধের সেরা তিন ২০১৮।

ছোটদের গল্প: একাত্তরের গল্পগাথা ২০১৩; কালবুনি জঙ্গলের চিতা ২০১৬; কোথায় বলো বাঘের মাসি ২০১৫; তিন শিকারীর গল্প ২০১৮।

কিশোরকবিতা: তালপাতার সেপাই ২০১০; নাচল পাখি চন্দনা ২০১৮; টুই-টুটুম-২০১২।

জীবনী: আবদুল হাই মাশরেকী- ১৯৯০; অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত-১৯৯৫।

এ ছাড়াও তিনি জাতীয় শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের বই লিখেছেন, বই সম্পাদনা করেছেন এবং শিক্ষাক্রম উন্নয়নের কাজ করেছেন।

লেখালেখির স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন- বাংলা একাডেমি পুরস্কার ২০০৮; মহাদিগন্ত পুরস্কার ২০১৪ (কলকাতা, ভারত); কবিকুঞ্জ জীবনানন্দ স্মৃতি পদক- ২০১২; ময়মনসিংহ সংস্কৃতি পদক ২০১০; ভাসানী পদক ২০০৬; টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদ পুরস্কার ২০০৬; হাসান হাফিজুর রহমান স্মৃতি পদক ২০০৩; আলাওল পুরস্কার (কবিতা) ১৯৯৯; খালেদ মোশাররফ বীরোত্তম পদক ১৯৯৭; রাইটার্স-এর মুক্তিযোদ্ধা লেখক পদক ও সংবর্ধনা ১৯৯৬; নাজ স্মৃতি স্বর্ণপদক ১৯৯৪।]

Facebook Comments