শেয়ার করুন:

প্রথম কাব্যগ্রন্থ, প্রথম কবিতা আড্ডাপত্র প্রকাশ করছে। প্রথম কাব্যগ্রন্থের সাথে কবির আনন্দ, উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি পাঠকের কানে নতুন কবিতার গুঞ্জরণ ভেসে আসে। পাঠকের মনে কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতাটি তুলে ধরতে চায় আড্ডাপত্র। কবিতা পাঠের সাথে সাথে জানবো কবি সম্পর্কেও। এই আয়োজনটি পরবর্তীতে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হবে।

আবেগ

মোহাম্মদ রফিক

প্রস্ফুট আবেগ আসে
নম্র পদে
সত্তার বিরলে
সেযখানে সে
বাস করে কিছুক্ষণ
এবং
অন্তিমে দিয়ে যায়
অনন্য উপহারঃ
বৈরাগ্যে প্রবাহে আর্দ্র

অস্থির ক্রন্দন।

প্রথম কাব্যগ্রন্থ: বৈশাখী পূর্ণিমা
প্রকাশক : মেহেরুন্নিসা খানম
বিবিধ প্রকাশনী, চট্টগ্রাম
প্রথম প্রকাশ : ১৩৭৭ বঙ্গাব্দ (১৯৭০)
উৎসর্গ : পিতামহী ও পরিত্যক্ত পল্লী
প্রচ্ছদ : রশীদ চৌধুরী
মূল্য : আড়াই টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪৮

কবিতার সংখ্যা : ৩৪

[মোহাম্মদ রফিক ষাট দশকের অন্যতম কবি ও লেখক। তিনি ১৯৪৩ সালের ২৩ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার বৈটপুরে জন্মগ্রহণ করেন।তার পিতার নাম মোহাম্মদ সামসুদ্দীন আহমদ এবং মাতার নাম রেশাতুন নাহার। আট ভাই-বোনের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ।তাঁর শৈশব কাটে বাগেরহাটে । তিনি বাগেরহাট জেলা স্কুল থেকে ১৯৫৮ সালে মাধ্যমিক ও আজিজুল হক কলেজ থেকে ১৯৬১ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে ১৯৬৫ সালে স্নাতক ও ১৯৬৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
ব্যক্তি জীবনে তার সহধর্মিনী ছিলেন জিনাত আরা রফিক। যিনি ২০০৫ সালের ৭ ডিসেম্বর মারা যান। দুই ছেলে শুভস্বত্ব রফিক ও শুদ্ধস্বত্ব রফিক। অবসর জীবনে কবি ঢাকায় বসবাস করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার কবিতা সমকাল সহ বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় ছাপা হতে থাকে। এ সময় তিনি পাকিস্তানের সামরিক শাসন বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত হন। পাকিস্তানের সামরিক আদালত তাকে দশ বছরের কারাদণ্ড দেয়, কিন্তু এম. এ. পরীক্ষার জন্য তিনি ছাড়া পান। ১৯৭১ সালে তিনি প্রথমে মুক্তিযুদ্ধের ১ নং সেক্টরের কর্মকর্তা হিসেবে এবং পরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কাজ করেন।
মুক্তিযুদ্ধের পর বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতা করার পর তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে যোগ।দীর্ঘকাল অধ্যাপনার পর ২০০৯ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
কবি মোহাম্মদ রফিক ১৯৬০-এর দশকের প্রারম্ভে সমকাল, কণ্ঠস্বর, স্বাক্ষর, অচিরা ইত্যাদি পত্র-পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্য জগতে প্রবেশ করেন। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ বৈশাখী পূর্ণিমা প্রকাশিত হয়।
কাব্যগ্রন্থ: বৈশাখী পূর্ণিমা (১৯৭০); ধুলোর সংসারে এই মাটি (১৯৭৬); কীর্তিনাশা (১৯৭৯); খোলা কবিতা (১৯৮৩); কপিলা (১৯৮৩); গাওদিয়া (১৯৮৬); স্বদেশী নিশ্বাস তুমিময় (১৯৮৮); মেঘে ও কাদায় (১৯৯১);
রুপকথা কিংবদন্তী (১৯৯৮); মৎস্যগন্ধা (১৯৯৯); মাতি কিসকু (২০০০); বিষখালী সন্ধ্যা (২০০৩);
কালাপানি (২০০৬); নোনাঝাউ (২০০৭); দোমাটির মুখ(২০১০); পূর্বাহ্নে সামগান (২০১৬)
গদ্যগ্রন্থ: আত্মরক্ষার প্রতিবেদন (২০০১); স্মৃতি বিস্মৃতি অন্তরাল (২০০২); ভালবাসার জীবনানন্দ (২০০৩);
দূরের দেশ নয় আয়ওয়া (২০০৩); খুচরো গদ্য ছেঁড়া কথা (২০০৭);
সংকলন ও সমগ্র: নির্বাচিত কবিতা (১৯৯৩,২০০৩,২০০৭); ত্রয়ী (২০০১); গল্প সংগ্রহ (২০১০); মোহাম্মদ রফিক রচনাবলী ১ (২০০৯, ঐতিহ্য); মোহাম্মদ রফিক রচনাবলী ২(২০১০, ঐতিহ্য)
পুরস্কার ও সম্মাননা: ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।
আলাওল পুরষ্কার (১৯৮১); বাংলা একাডেমী পুরষ্কার (১৯৮৭); আহসান হাবীব সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৬) ও ২০১০ সালে তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

Facebook Comments