শেয়ার করুন:

অদিতি

তোমাকে ছুঁবো না একথা বলিনি কোনোদিন
আঙুলের অলিগলি নদী হয়ে গেছে
শুয়ে আছে প্রতীক্ষার সাপ।
কালো রাত্রির মাঝখানে তুমি কি ভ্রমর
তুমি কি প্রজাপতিকন্যা শুভ্র অদিতি
আমি বহুকাল শূন্যে এঁকেছি আকাশ
দেখেছি খোলা চুলের অন্ধকারে বেয়ে পড়া
আধফোটা গোলাপের আর্তনাদ।
তুমি চোখ বুঁজে থেকো
যতোদিন এইদিন না হয় রঙিন
যতোদিন এই পায়ে হাঁটা পথ
থাকবে একাকি পুরোনো গল্পের মতো
আসবে না সুখ, ঘাসের মতো সুখী জীবন।

ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তোমার নিঃশ্বাস
কুড়িয়ে এনেছি, ফিরে গেছে সমুদ্রের সবুজ বিশ্বাস
ভবঘুরে মেঘ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছি
তোমার দৃষ্টির বেদনার মহাকাশ।

তোমাকে ছুঁবো না একথাটি তুমিও বলোনি কোনোদিন
অচেনা পাখির সুরে ডাকি,ডাকি আর ডাকতেই থাকি
কতো শত হাজার বছর ধরে ডাকি
অদিতি তুমি কি শুধু প্রজাপতির ডানায়
রেখে যাবে রাতের স্বতন্ত্র অনুবাদ।

তৃষ্ণা

তোমাকে দেখলে তৃষ্ণা বেড়ে যায়
দিগম্বর হতে থাকে ভারসাম্যের সমতল
জানি না তুমি এই শতাব্দির
খোলামেলা একক বাজার কি না

আমার তৃষ্ণাগুলো মোজেসের লাঠি ধরে টানে
তুর পাহাড়ের শুভ্র অন্ধকারে
ললনার ছলনায় বৃদ্ধ বাতাস
নিমন্ত্রণ করে। আমি কি নিমন্ত্রিত
সেই অসহায় গরুর শাবক।

জেসাসের অদৃশ্য আত্মার মতো
আমার তৃষ্ণাগুলো ভ্রমণের গল্প বলে
কবরের মাটির ওজন অতৃপ্ত বাসনায় চোখ মেলে
জুডাসের কানে শুনি মোরগের ডাক
তবু ভোর আসে না তৃষ্ণা মেটাতে।
সত্য আর স্বপ্নকে গুলিয়ে দিয়ে
পৃথিবী এখন আবাসিক, ঘর নেই তার।

পুরনো দরজার ক্যাচক্যাচ শব্দ
আমার তৃষ্ণার বোল হয়ে ওঠে
বৃক্ষগুলি দেহবিপনীর সুদৃশ্য নগর
আমি জানি না রাত আর রাত নেই কেনো
কেনো দিনগুলি হোটেলের নিরাপদ ঘর

তোমাকে দেখলে তৃষ্ণাগুলো নিশ্চয়তা চায়
রাতের নিশ্চয়তা, দিনের নিশ্চয়তা
নির্জনে ঘুমিয়ে থাকা পাখিদের নিশ্চয়তা
জানালার শিক গলে বিছানায় শুয়ে পড়া
রোদের নিশ্চয়তা।

তুমি তৃষ্ণার কাছে বড়ো বেশি অসহায় আজ
আগামী বসন্তের সুনিশ্চিত ধরেছো পথ
তবু কুয়াশা কাটে না
নিরাশ্রয় বৃদ্ধার মতো তুমি তাই
পেছন থেকে টেনে ধরো পথিকের শার্ট।

এ সবই সত্য কথা

আমার কাঁচা বাজারে সন্তুষ্ট নয় বাবুর্চি
থলিতে উঁকি দিয়ে মুচকি হাসে
ফ্লোরে নিবিষ্ট ওর চোখ দুটো
দেখে না আমার বাঁকানো ঠোঁটের জয়,
থলের ভেতর নড়েচড়ে ওঠে
চৌত্রিশ বছরের সরীসৃপ পাঁজর
মটরশুটির ভেতর লুকিয়ে থাকা
তিনটি পরাজয় কিনে এনেছি সস্তা দামে।

আমার দারোয়ান স্যালুট করছে আমাকে
যে কয়বার দেখা হয় লনে
মাথা নাড়াই, কোনো প্রশ্ন করি না তাকে
তার নাখোস মেজাজ ভিখারী তাড়ায়
দেখে না আমার কুড়িটি আঙুলে
ভিক্ষুকদের কুড়িটি ঘরবাড়ি
নবাবী কায়দায় বেঁচেছি কমরেড
কিনেছি ভিক্ষার ঝুলি।

আমার কাজের বুয়া চুরি করে খায়
সত্য কখনো থাকে না চাপা, এমন মিথ্যে কথাটি
জানে না কাজের বুয়া
তার চোরামন মেনে নেয় অদৃষ্ট লিখন
আকুতি মিনতি করে অপরাধী চোখ।
বুক উঁচু করে আমি পথ হেঁটে চলি, মনে মনে বলি
কেউ তো জানে না চুরি করে আমি
সাতচল্লিশ খেয়েছি, বায়ান্ন খেয়েছি
খেয়েছি একাত্তর রুইয়ের মাথা।

মহুয়া পর্ব : এক

হঠাৎ কাঁপুনি দিয়ে
মস্তিস্কে আমার কে কথা বলে যায়
আমাদের বসবাস যে দ্বীপের অস্তিমজ্জায়
মিশেছে ধবল সূর্য রঙে
আহা এমন মাতাল ঢঙে
আবারও কেনো কাহারবা তালে
নেচে চলে সুন্দরী মহুয়ায়?

শেষ বিদায়ের কথাগুলো কেনো
শোনে না নদের চাঁদ
সভ্যতার রোশে চোখে তার যেন
অশনি যক্ষের ফাঁদ
মহুয়ার হাত এখনো শীতল, এখন বিচ্ছেদ কাল
তবু হুমরার হাতে বিষলক্ষার ছুরি, সে বদ্ধ মাতাল।

মাগো কান্দে ক্যান আমার মহুয়ায়
জলের শিকল এখনো কি বাঁধা তার পায়?

সেযুগ হয়েছে পুরাতন, বিলীন হয়েছে বাতাসের মন্থর গায়
বিশ্বাসের ভেজা জল ত্বকের নিশ্বাস হররোজ গিলে খায়।
অকারণ জ্বরে পুড়ে মরে আকাশের নরম শরীর
কী সুচতুর কল্পনায় ধণুর ব্রা²ন কন্যায়
ধরা দেয় নদ্যার ঠাকুরের ছায়ায়
বেদের কঠিন পোষাক হিংস্রতার পথে বেসামাল দৌড়ায়।
এসো নদের চাঁদ এসো সঙ্খলীলা করি
এসো ভরা জ্যোৎস্নায় ভরা নদে বেদের বৈঠা ধরি।
কালের সোনার সময় যখন ফুরিয়েছে মুহুর্তের গানে
এক ফালি রোদ ছুড়ে দেই এসো বৃদ্ধ চাঁদের প্রাণে
মহুয়া তুমি কালিক কন্যা, তুমি তো জেগেছো তাই
নদের চাঁদেরা অতীত ভুলেছে নগরে নিয়েছে ঠাই।

মলুয়া পর্ব: দুই

সাগরের জলে কে করে হাহাকার
মনের বন্দর খুলে চোখ বুজে দেখো একবার
শুনতে কি পাও, বিষাদের সুর খুব কাছে রয়
কিংবা আবার দূরে সরে চলে যায়।
কে কাঁদে? কে দেয় ধিক্কার? মিনতি করিয়া যায়
আমি চিনি তারে, আমার অভাগী মলুয়ায়।

জোয়ার ভাটায় নদী কি কখনো কাঁদে
ছন্নছাড়া ফেরারী কুড়া পড়েছে এবার ফাঁদে

মাগো কান্দে ক্যান আমার মলুয়ায়
কাখের কলস এখনো কি জলে ডুবে যায়?

ভয় কি তোমার নইলক্ষার ময়দান শুনশান আজ
আসবে না ফিরে পাঁচ পাণ্ডব কিংবা লাইঠাল বাঁজ
এখানে কেউ বিনোদের রাখে না কোন খোঁজ
মলুয়ার দেহ ভোগের নেশায় হয় না অবুঝ
প্রেম ভালোবাসা এখানে মামূলী
কে আসে কে যায় হোক সে নিশা হোক শ্যামলী
দেওয়ান কিংবা কাজী লক্ষণ আর হাজী
জাত কুল মান পকেটে ভরে করছে জুয়াবাজী।

মলুয়ারা সব পড়ছে এখানে পুরাণের শাড়ি
মনপবনের নাউ পাতাল ছেড়ে উজানে ফিরছে বাড়ি
এখানে চাঁদ ওঠে না
জ্যোৎস্নার দেহ ভাসে সোডিয়াম আলোর তাড়ায়
তবু প্রেমিকের খোঁজে ঘুরে পথে পথে অভাগীনি মলুয়ায়?

অব্যক্ত চাওয়া

মেয়েটিকে বললাম
এটি একটি নতুন পাখি
ওর শরীরে নেই কোনো নদীর গন্ধ
পোস্তর সুশোভিত চোখদুটো
নক্ষত্র দেখেনি কোনোদিন,
বীজবিহীন উদ্ভিদচুল উড়ছিলো মেয়েটির
বললাম, উন্মুক্ত মাঠ পেলে তোমাকে আকাশ দেখাবো
চাঁদ দেখাবো ভরা জোৎস্নায়
গাছেরা সেখানে আলো হয়ে যায়
বালিতে ছড়িয়ে পড়ে
চিকচিক হীরার ঝিলিক
নদীরা উদ্বাস্তু পথে বোঝা টানে।

মেয়েটি কেবল মুখটিপে হাসে
বলে, হঠাৎ এমন কাব্য ঝড় কেনো

বললাম, জীবনই কাব্য
কাব্যের গা থেকে গড়িয়ে পড়া ঘামের স্রোতে
জীবন গড়ায়, কখনো হয় জলের সহচর
আসে নারী, শরীর জুড়িয়ে নেয় জলে
নারী তার প্রেমে গাঁথে জোৎস্নার ফুল

মেয়েটি নির্বাক। চোখে নামে সন্ধ্যা
হাত বারিয়ে দিতেই ঠোঁটের অঞ্চলঘিরে বৃষ্টি ঝরে
বললো, কি চাও তুমি

আমি কি কখনো কিছু চেয়েছি কোনো নারীর কাছে।

একটি কবিতা

মারিয়া বলেছিল-
নিজের ভিতর সমুদ্র আকাশ
আবেগের বিশাল পাহাড়, নদীর কান্না
দৃষ্টিতে গভীর ভবিষ্যত না হলে কী
কবি হতে পারে কেউ?

সেই থেকে চেষ্টা করি না আর কবিতা লেখার
কবিতা কি লেখা যায়?

বইয়ের স্তুপ, ডায়রী অথবা খাতা
কত রাত্রির শরীর থেকে ঘাম ঝরিয়ে
কলমের এলোপাথারি ছুটোছুটি
তবু যন্ত্রনা কমাতে পারি নাই।

অকস্মাৎ বৃষ্টি এলে
দৌড়ে জানালার পাশে যাই
নগরের বৃষ্টিতে ভিজে কাক, ডাস্টবিন
পলিথিন ভেসে ওঠা হাঁটু জল
আমাকে নিয়ে যায় অতীত বারকোষে
উঠোনের পাশে বৃদ্ধ আমের জনক
ভিজে আহ্লাদে, ভিজি আমি, আমার প্রকৃতি
নৌকার ভেজা পাল, গুনবাহী সুঠাম পুর“ষ
ভিজে রত্নার কালো চুল
বকুল ঝরে বৃষ্টির ফোটায়
তাপসীও বলেছিলো
আহারে… ভাতবৃষ্টি হতো যদি…….

আমার কাঁধে ভর দেয় কোমল দুটি হাত
মারিয়ার চোখে তখন আবেগের সুবিশাল পাহাড়
খেলা করে
বৃষ্টি থেমে যায়
নদীর কান্নায় ঘর বাধে একাদশী চাঁদ
অতিদূর ভবিষ্যত পাখি
ডেকে ওঠে আহত জানালায়
কিছু কি আর থাকে বাকী একটি কবিতার !

শুধু তোমার জন্য

প্রতিদিন তোমারই জন্য কয়েক পশলা
বৃষ্টি ধার করি
দূরান্তর কোন পথিকের হাতে
সীমান্তের সূর্য স্পর্শ করি
পৃথুলা রোদের নদী চলে আসে
কাছে, খুব কাছে।

তোমারই জন্য আগুন নিয়েছি বুকে
আমার নিভে যাওয়া সময়ের কাছে
প্রদীপের আহাজারী
“আমি আলো ঢেলে দিবো,
স্বপ্নের গহীনে এনে দিবো বর্ণালী আতশবাজি”

শূন্যতায় মিশে গেছে কবে সময়েন কাঁটাঘড়ি

আজ আর দাঁড়াই না জানালার পাশে
আকাশ দেখি না, বহুদিন জোছনাও
আসে নাই এই পথে,
কী হবে, কী আর থেকেছে বাকী
রাতের কামনায় মিশে গেছে
দিবসী গানের পাখি।

শোন, শুনতে পাচ্ছ –
হৃদয়ের জোনাকির ডাক
কে বলে বধির ওরা, কে বলেছে বোবা দ্বীপ

প্রতিদিন তোমারই জন্য জোনাকির
আলো ধার করি
জমে থাকা পাথরের পলি সরিয়ে সরিয়ে
কণা কণা রোদ্দুর বুণে তোমাকে জন্মাই
প্রতিদিন, প্রতিটি সময়।

ধারাবাহিক পাণ্ডুলিপি

তাকে দেখেছি আয়নার অন্তরে
শব্দে, বাতাসের সুরে
আত্মার আত্মায়, ঝড়ের তাণ্ডবে
অরণ্য সবুজ নীলিমায়, সমুদ্র বৈভবে
পাহাড়ের বুকে শুনশান
শুনেছি হৃদয় কলতান

চিঠি লিখেছি তাকে – ঠিকানাটি নির্ভুল
গ্রাম – তুরাগের পাড়, পোস্ট – নিশি ভিমরুল
থানা – বৃদ্ধ বটের আসন
জেলা – খুব পরিচিত, উদাসীন ভোলামন
হাঁটুজল পেরিয়ে শৈশবের সুশান্ত মন্দির
আজানের সুর ধরে হাঁটা শান্ত মেঠোপথ
অপার শান্তির
তোমরাও তাকে চেনো
বন্ধ করে চোখ, নস্টালজিক সুখের বসত
ভিটেমাটি, তেতুলের টক
রক্তের ভেতর খেলা করে
স্মৃতির শিকারি পর্যটক।

তবু রাতের আয়ু ফুরায়
বুকের ভেতর স্বচ্ছতার গিরিবাজ উড়ে যায়
দিবসের রঙিন সুতোয় মেঘের কাটাঘুড়ি
দৃষ্টি অপলক
প্রহেলিকা, মরিচিকা কিংবা কুহক
আঁকে জীবনের বিসুদ্ধ সমাধি,
মিত্রের হাতে কাটাখালি নদী
জনবসতির সুদৃশ্য নগর।
তাকে চিনি না তো আর
যায় না চেনা অস্তিস্ত্বের বসত।

মুদ্রার দু’পিঠ ভিন্ন রঙে প্রকাশিত
যে জন কালনাগিনী আজ
কাল সে নিস্পাপ শিশু দুগ্ধপোষ্য
এই মাটি জল, আকাশের সুখ
প্র-পিতামহের উদার দুচোখ
ডাহুকের জীবন নিয়েছে বেছে
কচুরীপানায় আঁড়াল করে মুখ
লুকিয়েছে নিরাপদ জীবনের কাছে।

আমরা জীবন খুঁজি
বেঁচে থাকাকেই জীবনের প্রতিশব্দ বুঝি
তবু কুয়াশার শীতলতা নিয়ে
শীত নেমে আসে
শরীরের ভাঁজে ভাঁজে অলিখিত ইতিহাস
স্বপ্ন-স্মৃতি হয়ে ভাসে।

আমাদের চেতনায় দিনগুলো
বোরকায় ঢাকে মুখ
রাত কাত হয়ে শুয়ে থাকে
এ যেনো পরম আনন্দের
অপার দুর্বিসহ সুখ।

শ্রদ্ধা করি

শ্রদ্ধা করি যাবতীয় দিন, রাত
করিডোরে নেমে আসা রোদের শরীর
মাকড়সার জাল, আরশোলা, টিকটিকি
স্বদেশী পাসপোর্টের সবুজ জমিন
নাগরবিহীন কিশোরীর টকটকে ঠোঁট,
নিষেধনামার অনাবিল বিক্ষত বুক
দরজায় চেপটে যাওয়া তেলাপোকাটির
উদাস নয়ন যথেষ্ট শ্রদ্ধার দাবিদার।

পদ্মার চকচকে জীবন্ত ইলিশ
খরস্রোতা যমুনার উজানী শুশুক
সেই জেলে বউ
চিন্তামগ্ন রাতের ভয়ার্ত আর্তনাদ
যার জানালায় নিত্য নেমে আসে
তাকে শ্রদ্ধা করি।
চারপাশে শ্রদ্ধার এতকোটি নিঃশ্বাস
মাঝেমধ্যে বন্ধ হয়ে আসে দম
কোনো কোনো সন্ধ্যায়
গাঢ়নীল অন্ধকারে নীড় ছাড়ে বিশ্বাস,
মনে হয় পৃথিবীর কোনো দায়বদ্ধতা নেই
কোনোকালে ছিল না অঙ্গীকার।

যে বৃক্ষ একদিন অরণ্যের বাসিন্দা ছিল
দাসত্বের যুগ ছেড়ে কতটা দূরত্বে
জানি না কোথায় করেছে আবাসন
তবু বসন্তের দায় নিয়ে ফোটে ফুল
পিপড়ের মতো মাতাল শ্রমিক হয়ে ওঠে
শ্রদ্ধাভাজন কবিতার বোল।

জীবন এখন

জীবনের সমস্ত পথ যেন ফ্রেমে বাঁধা
কোনা উন্যাসিক দৃশ্যপট
ক্ষেতের বাতরে যে নিস্তব্ধতা শুয়ে থাকে
সে কেবলই পুরোনো হয়ে যায়
গল্প কিংবা ইতিহাসের গালিচা থেকে
নক্ষত্ররা বার বার স্থান বদলায়
নীরবতায় জমে থাকে রহস্যের হাসি
আমি ভালবাসি নিম্নগামী পেঁচাটির চোখ।

পৃথিবীর কোথায় পড়ে নাই আমার ছায়া
শিশুর জন্মচিৎকার, বিবাহ উংসব
ধর্ম আয়োজন, মৃতের অনিবার্য পরিনতি
মিনতি কিংবা জোর করে চষে যাওয়া নরীর শরীর
গোপন সীমানায় সুক্রাণুর আহাজারী
রহস্য কোথায়?
যে সকল সুখ বিশ্বাসের অপেক্ষায়
লক্ষ বসন্ত করেছে পাড়
অনিবার এখন তাহাদের চোখে
মানসিক শুন্যতার জলাধার।

একদিন আমাদের গভীরেও নদী ছিলো
সকল রাত্রির সাথে ছিলো নিদ্রা বিনিময়
এখন দিনলিপি নেই, নেই অতীত ভবিষ্যত
জীবনের পথগুলো ঢুকে গেছে বিপনন তালিকায়

Facebook Comments