শেয়ার করুন:
দেশ-জননী, জন্মভূমি/ রশীদ রুবায়েত
 
দেশ-জননী, জন্মভূমি!
দূর-প্রবাসে তোমায় ছেড়ে থাকতে পারি না যে!
স্বপ্নগুলো দৃষ্টি এড়ায়
জীবন যেনো পালিয়ে বেড়ায়
ওমা!) তোমায় ভালোবাসি বলে হেরেও হারি না যে!
দূর-প্রবাসে তোমায় ছেড়ে থাকতে পারি না যে!
 
মনের মাঝে একটা দীঘি
সেই দীঘিতে শাপলা রোজই ফোটে,
পাড়ে তমাল হিজল গাছে দোয়েল ডেকে ওঠে।
আহা!) ইচ্ছে-পাখি বন্দি খাঁচায়, তবু ছাড়ি না যে!।
 
স্বচ্ছল এবং সুখের জীবন
চেয়ে এমন দেশান্তরে আসা,
বুকে তবু জড়িয়ে থাকে হতাশা নৈরাশা।
আমি) ভিনদেশিদের তন্ত্রে মেশার স্বপ্নচারি না যে!
————————-
 
মানুষগুরুর চরণ সেধে/ রিপা সরকার
 
 
ও মন) মানুষগুরুর চরণ সেধে যা
মিলবে চির অমূল্যধন
সারা জনম পাসনি কেঁদে যা।
 
ভুলের ভিটায় বসত করে
সময় গেলো ঘোরে ঘোরে
মূল ঠিকানায় যাবি যদি গুরু নাম হৃদয়ে বেঁধে যা।
রূপের পর্দা টেনে
কোন আড়ালে অরূপ হাসে নিতে হবে জেনে।
ভাবের ঘরে ঢোকার চাবি
সহায় ছাড়া কোথায় পাবি
একা জানার বিষয় কি তা অভেদ থেকে এলো ভেদে যা।
————————-
 
আলেয়ার আলো/ মহসিন আহমেদ
 
 
আলেয়ার আলো দেখিয়ে আমায়
আগুন জ্বেলো না আর
পুড়ে পুড়ে আমি হয়ে গেছি ছাই
ফাগুন এলো না আর।।
 
আঁধার পেরিয়ে সোনালি সকাল আসে…
জেনেই এলাম শুধু
আমার পৃথিবী তৃষাতুর মরু ধু-ধু
এই) হৃদয়-মরুর ধূসরতা নিয়ে
কখনো খেলো না আর।।
 
মিথ্যে মায়ায় জড়াতে চেওনা তুমি…
তোমাকে ভেবেই আরো
হারাই যে আমি বাঁচবার অধিকারও
সেই) স্মৃতির পাতার ভাঁজগুলো তুমি
কখনো মেলো না আর।।
————————-
 
একুশ / জাহাঙ্গীর আলম
 
 
ফেব্রুয়ারির একুশ এলেই ফাগুনের ছোঁয়া লাগে
পলাশ শিমুল কৃষ্ণচূড়ার ডালে
শহিদের তাজা রক্তে স্বদেশ নবচেতনায় জাগে।
 
গোলাপের লাল পাপড়ির মতো সবুজের বুক ঢাকা
প্রভাতফেরির প্রতিটা ফুলেই শহিদেরা থাকে আঁকা
মায়ের আঁচলে সোনালি সকাল জেগে ওঠে অনুরাগে।
 
হিমালয় রূপে চেতনার আলো বাঙালিকে যারা দিলে
একুশে তারাই সুমহান হয়ে পৃথিবীতে ঠাঁই নিলে
স্বাধীন ভাষার জন্য জীবন দেয়নি তো কেউ আগে।
——————–
 
শিশিরে ভেজা / আবুবকর শিকদার
 
 
তুমি) শিশিরে ভেজা নীল অপরাজিতা
দুচোখ তুলতেই পুড়ে গেলাম
সরিয়ে কুয়াশার চাদর
জড়িয়ে ভালোবাসা আদর
এ বুকে ধরতেই মরণে তুমি লিখে দিলে যে নাম।
 
দেখিনি তো কখনো বনলতা সেনকে
শ্রাবস্তীর কারুকাজ,
তোমায় দেখে কবি মনের খুলে যায় ভাঁজ।
কবিতারই উঠোনে হঠাৎ বৃষ্টিকে আমি পেলাম।
 
অন্ধকার কতো রাত্রিতে আমার
জ্বলেছে কাচ পোকা টিপ
আমার এ শূন্য আঙিনাতে যেনো প্রদীপ।
আলোতে জ্বলে জ্বলে সুখের অসুখে আমি মরে গেলাম।।
 
————————-
 
 
পূণ্য ভূমির শান্তির নীড়/ জাহিদ জাবের
 
 
শত আউলিয়া ঋষি-মনীষীর
পূণ্য ভূমির শান্তির নীড়
সমুদ্র ছোঁয়া ছোট এক দ্বীপ
পরনে প্রগাঢ় সবুজের শাড়ি
কপালে রক্ত সূর্যের টিপ
লাঙলের ফালে ফালে অদম্য
চেতনার উন্মেষ
এই তো আমার দেশ।
 
পাতায় পাতায় বাতাসের গান
উতলা নদীর ঢেউ কলতান
শাপলার বিলে সাঁকো ভাঙা বাঁশ
শত পথে শত বাঁক পেরোনোর
এ মাটির আছে শত ইতিহাস।
মসজিদ আর মন্দিরে নাই
হানাহানি বিদ্বেষ
এই তো আমার দেশ।
 
নকশি কাঁথার সুখময় ভাঁজ
মাঠে মাঠে ফসলের কারুকাজ
বারো মাসে তেরো পালা পার্বন
এ মাটির কোলে আছে প্রকৃতির
ছয়টি ঋতুর সুখ আয়োজন।
বিচিত্র এই দেশকে জানার
কখনো হবে না শেষ
এই তো আমার দেশ।
 
————————-
 
রাতের তারা / নীরব চন্দন
 
 
রাতের তারা যাও গো নিভে আজ তোমাদের ছুটি
ও চাঁদ তুমি বন্ধ করো তোমার আঁখি দুটি।
 
আজ) বহুদিন পর আমার প্রিয়া আসবে আমার ঘরে
প্রিয়ার আলোয় রাতের আঁধার যাবে দূরে সরে।
 
ফুল বাগানের ফুলগুলো আজ ছড়িও না ঘ্রাণ
পাখিরা আজ বন্ধ করো আকুল করা গান।
আজ) প্রিয়ার ঘ্রাণে, প্রিয়ার গানে হৃদয় যাবে ভরে।।
 
শেষ বিকেলের মাতাল হাওয়া বইও না গো আজ
ও রঙধনু বন্ধ করো তোমার নতুন সাজ।
আজ) প্রিয়ার সনে, ক্ষণে ক্ষণে লজ্জা যাবে ঝরে।
————————-
 
প্রেম যেনো হয় / মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ
 
 
আমার) প্রেম যেনো হয় খাঁটি মনের সাথে
আমি) খাঁটি মনের খাঁটি প্রেমেই
স্বর্গ জানি পাবো দুনিয়াতে।
 
তার ছোঁয়াতেই সুখের হবে ঘর
পবিত্রতার কষ্টি পাথর
যার কাঁচা অন্তর
আমি) মনের চোখের দৃষ্টি মেলে
এমন মানুষ খুঁজি দিনে রাতে।
 
ভিতর যদি সত্যবাদী হয়
কথায় কর্মে চাল-চলনে
মিলবে পরিচয়
আমি) এমন জনের ভালোবাসায়
চাই যে আমার জীবনটা সাজাতে।
 
————————-
 
মেঘে ঢাকা আকাশ / সালমা মুন
 
 
 
মেঘে ঢাকা আকাশ দেখে
মিছেই করো ভয়
সে তো ক্ষণকালের স্মৃতি
কালের স্রোতে ভেসে যেতে হয়।
 
কালো বলে রাতের কায়া
চাঁদের হাসি লাগে ভালো
বিরহ সুর আছে বলে
বাজলে বাঁশি লাগে ভালো
কাঁটা ঘেরা গোলাপ দেখে
চোখ কি দূরে রয়?
 
সারাটা রাত পোড়ে প্রদীপ
তাই সে দিতে পারে আলো
রাতের কালো মুছে দিয়ে
সেও নিতে পারে আলো
মরণ খেলা আছে বলেই
জীবন মধুময়!
————————-
 
 
কথায় কথায় কতো কথা / মোবারক হোসেন
 
 
কথায় কথায় কতো কথা রোজ হয়ে যায়
বলি বলি করে বলবো যে কথা
তবু না বলাই রয়ে যায়।।
 
দুচোখে তোমার মায়াজাল বোনা
দেখে কি যে ভালো লাগে।
যতোবার দেখি ততোবার শুধু
মনে শিহরণ জাগে।
ঝরবে বলে যে আশার বাদল
শত ঝড় মন সয়ে যায়।
 
তোমার হাসির অভিধান জুড়ে
কত কি যে আছে লেখা।
পড়বো কি করে সে বর্ণমালা
কখনো হয়নি শেখা।
ভাবলে তোমায় প্রেমের বাতাস
নিরবে হৃদয়ে বয়ে যায়।।
 
কথায় কথায় কতো কথা রোজ হয়ে যায়
বলি বলি করে বলবো যে কথা
তবু না বলাই রয়ে যায়।
 
————————-
 
Facebook Comments