শেয়ার করুন:

অগ্নিকান্ড জার্নাল

সরকারী রেশন খাওয়া মেঘ উড়ে যাচ্ছে, মাটিতে নিপীড়িত ধুলোর জঞ্জাল
ধু আর মেঘের ঘূর্ণিপাকে ভালো থাকিনা আমরা কেউ’ই—
রেশন খাওয়া মেঘের জল, আত্মসাৎকারী এই সব নীলের ঘুঞ্জি
রাষ্ট্রের বিপক্ষের হাওয়ার নাটাই

চকিত অগ্নিকাণ্ড ঘটলে এই সব অনুযোগ সৃষ্টি হয় আমার এবং সকলের

তাঁবেদারি মেঘের জল বিল্ডিং পর্যন্ত নামে না নিচে, ঘুঞ্জি নীলেরাও নামেনা
ছেঁড়া হাওয়ার নাটাইও নামে না—
উৎসুক জনতার দুঃখ যতোটা নেমে আসে, যাকে বিরল উপদ্রপ ভাবি আমরা
এইসব ধ্বংসের ভেতর নিরিবিলি চিৎকার এবং উপচে পড়া কালো হরফের ধূঁয়ো
শুধুই দাউ দাউ করে পোড়ে এবং পোড়ে—

রাষ্ট্র এবং কারিগর

ছোট নবাব হেঁটে চলেছে, বড় নবাব ঘুমন্ত
রাষ্ট্রের ক্রিয়াশীল যে অংশ— তার বিপরীত অংশটা মৃত
চলছেইতো সব এভাবে— আঙ্গুলে আঙ্গুল ঠেকে, পায়ে পা
নর্তকীরাও ইদানিং ঘুমোয়— সার্কাসবন্দী ঘোরের ভেতর

মিউজিক্যাল পিড়িয়ড চলছে, নাচে গানে ভরপুর, ঢেউ উঠছে নামছে— কোমরে
কিছু দর্শক শুনছে গান ও মশাদের জিকির, ফন্দি-ফিকির
কিছু দর্শক দেখছে নকল নৃত্যের তর্জমা

ঘুমন্ত বড় নবাব বুঝতেই পারলো না ‘রাষ্ট্রের ক্রিয়াকলাপ’
মাতাল সার্কাসবন্দীদের এলোপাথারি কথার বরখেলাপ
ছোট নবাব মিছেই হাঁটে, জনগন তার হাঁটার প্রকৃতি বোঝে অকপটে

নবাবরা মূলতঃ মাতাল— গন্তব্যাভিমুখী মানুষ
রাষ্ট্র থেকে যোজন যোজন দূরে— এমন কি প্রজাদের থেকেও

টাইটানিক ও নদী পথের যাত্রী

সরিসৃপ হাওয়ার জাহাজ—
এঁকেবেঁকে দুলে দুলে চলছে উজানে

নুইয়ে এসেছে মেঘ ওপরে— দ্বীপচূড়ায় স্থির নীল আকাশ
ন’ড়ে চ’ড়ে উঠলে কাঁপে জাহাজ, কাঁপে যাত্রীসমেত

ঢেউ আছড়ে পড়ে কিনারে
যাত্রীরা সন্দেশ ভেবে চুষে খায় মেঘের চোয়ানি—
তর্জনীর ছায়ায় ন’ড়ে খুঁতখুঁতে ঢেউয়ের স্বভাব

দিকবিদিক ঘোর— কুয়াশার হেলান দেয়া ছই
জাহাজ থেমে যায় ঝড়ে— মাঝির চোখে দ্রৌপদী ঝাপসা
বালুর স্তু’পে জাহাজ দুমড়ে যায়— নিঃশ্বাস ফসকে বেরোয় নাক থেকে
যাত্রীরা ভয়ে হই দিয়ে কাঁদে—

আমি এবং রেশমি

উঁচু করে রেখেছে দৃষ্টির ফর্দ, তথাকথিত ঠোঁটের কাঁপন বাতাসে
আমি দেখি দখিন দুয়ার খুললেই—

গ্রীল ছুঁয়ে তদন্ত দায়িত্বে মাকড়সা এবং টিকটিকি

নিজস্ব একটা গণ্ডির ভেতরে আমি
গ্রীল সীমানার দূরত্বে উন্নাসিক পাঁজর খোলে রেশমির
বাহুতে ওড়ে ঔপনিবেশিক বাতাবি লেবুর ঘ্রাণ
অথচ বুকে পাথরের অলিগলি তার
ইচ্ছার পুচকে পালক চাপা পড়েছে পাথরে— বহু আগে
তাকে ছুঁতে যাই, গ্রীলের ওপারে একত্ববাদ ঠোঁটের বিস্তৃতি— ঠোঁট কাঁপে
শরীরে মনস্তাত্ত্বিক ভেড়া দৌড়োয়
ইশারার পকেটে জমে যাচ্ছি আমি— পারছি না ছুঁতে রেশমিকে

ছিটকিনি আঁটানো ঘর— দেয়ালে মাকড়সা এবং টিকটিকির বিকৃত দৃষ্টি
আমি এবং রেশমি খেলতে শুরু করি— দাবা, কাবাডি, দহন দহন

রাতের মনে রাত, নিশ্চিন্তে অন্ধকারের ভেতর হেঁটে চলে যাচ্ছে

Facebook Comments