শেয়ার করুন:

আর কত বলিদান?

একবিংশ শতাব্দীর ভারতবর্ষ
বিশ্বের ধনিতমদের তালিকা
ওয়ারেন বাফেটকে পিছনে ফেলে পঞ্চম
স্থানে উঠে এলেন R. I কর্ণধার মুকেশ আম্বানি
আর ঐদিকে অর্থাভাবে ১৫ দিনের মেয়েকে মোটা
টাকায় বিক্রির বাধ্যবাধকতা ।
গ্রেপ্তার পরিযায়ী শ্রমিক, উদ্ধার শিশুকন্যা
জন্মের আগে তোমার প্রাপ্য মৃত্যুর পাণ্ডুলিপি।
জন্মের পরে ভয় গ্রাস করে
রাতারাতি তুমি পাচার হয়ে যাও চোরাপথে ।
নিখোঁজ ডায়েরি স্তূপীকৃত হয় জঞ্জালের মত ।
যুগে যুগে নারী তুমি বঞ্চিতা, ধর্ষিতা
দেবদাসী, রক্ষিতা, বারাঙ্গনা, প্রেমিকা ভার্যা রূপে।
তবু তোমাতেই আঁকা হয় মূল্যহীনা শব্দ
একাকী এগিয়ে যাওয়ার মরণ লড়াই তোমার জন্যই।
অন্ধকার শেষে সূর্যোদয়ের দেশে, যদি পৌঁছাও ।

শুধু অন্ধকার নির্জন রাস্তায় নয়
সুরক্ষিত চারদেয়ালেও তুমি ধর্ষিতা
শিশু, কিশোরী, যুবতী, বৃদ্ধা ও- ভোগ্য
আসলে তুমি নারী।
পরিচিত অপরিচিত প্রিয়জন কেউ ছাড়েনি
কেউ ছাড়ে না
তোমার শরীরকে কুঞ্চিত করতে।
রাস্তার মোড়ে, ভীড় ট্রেনে, বাসে কর্মক্ষেত্রে
লোলুপ দৃষ্টি লেহন করে তোমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ।
বিক্রি হয়, প্রেম ভালোবাসা, দুদিনের সম্পর্ক
বিক্রি হয় দ্রুত, ভাতৃত্ববোধেও লালসার লিপি আঁকা।
বিক্রি ধর্ম, বিক্রি কর্ম, বিক্রি আজ মনুষ্যত্ব,
বিক্রি গেছে মনের তেজ
বিক্রি জীবনধারা, শুধুই ক্ষয় ধরা পথে তোমার হাঁটা ।
অবিশ্রান্ত কালের দহন পথ তোমাকেই পাড়ি দিতে হবে
তোমার বিলিয়ে যাওয়া জীবনের গল্প সবাই জানে
পুরুষ, সে গল্প ছাপার অক্ষরে বিক্রি করে
তবুও, আবার ফিরে আসে শরীরী ক্ষিধে মেটাতে।
সময়ের কালস্রোতে তুমি তৈরি হও
তোমার হিসাব বুঝে নিতে ।
যা তোমার চিরন্তন অধিকার ।

মোমবাতি মোর নাম

বিলিয়ে যাবো সদাই আলো, পুড়ে যত হই না ছাই
বেদনাময়ীর কড়াল স্রোতে ভেসেও যদি কূল না পাই।

বিনিদ্র রাত, ভোর হয়ে যায় শূন্য ঘরও ফাঁকা
সুখের কাছেও নিজকে বিকাই, ভিতর বিষাদমাখা।

রাত্রি দিন ভোর নীরব অশ্রু ঝরছে আজও মোর
বলো না কেউ একটিবারও, দুঃখ কেন এত তোর?

পড়ে আছে সারি সারি আমার কায়ার ধুলি
দুঃখের মাঝেও নেই প্রতিবাদ, একটি আঙুল তুলি।

জীবন ভরে জ্বলছি সদাই, কি আছে মোর দাম?
আমি হলাম মোমের বাতি, মোমবাতি মোর নাম।

Facebook Comments