শেয়ার করুন:

ভূমিকা ও ভাষান্তর : মাইনুল ইসলাম মানিক

 

সর্বকনিষ্ঠ বুকারজয়ী লেখিকা হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন মেরিয়েকে লুকাস রাইনেভেল্ড। প্রথম উপন্যাসেই বাজিমাত করে জিতে নিলেন ইন্টারন্যাশনাল বুকার পুরস্কার। আধা-আত্মজৈবনিক এই উপন্যাসটি অনুবাদ করেছেন মিশেল হাচিনসন। বুকার পুরস্কারের নিয়ম অনুযায়ী পুরস্কারের তালিকায় উঠে এসেছে তার নামও। এবারের বুকার পুরস্কার একাধিক কারণে বিশেষায়িত হয়ে আছে। বুকারের ইতিহাসে এবারই প্রথম সর্বোচ্চ পাঁচজন মনোনীত প্রার্থীই নারী। তাছাড়া এই পুরস্কারটি টানা তৃতীয়বারের মতো এবং সর্বশেষ পাঁচবারের মধ্যে চারটি পুরস্কারই উঠেছে নারী ঔপন্যাসিকের হাতে। এ আগে হ্যান ক্যাং (২০১৬), ওলগা তোকারজুক (২০১৮), জোখা আল-হার্থি (২০১৯) এই পুরস্কার জিতে নেন। অনুবাদক মিশেল হাচিনসনও একজন নারী। লেখালেখি ও অনুবাদের জগতে নারীর শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করে এই পুরস্কারটি। ২০২০ সালের পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকা ঘোষণার পর বুকার কর্তৃপক্ষ রাইনেভেল্ড ও হাচিনসনের একটি ছোট্ট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। সাক্ষাৎকারটির বাংলারূপ পাঠকের সুবিধার্থে তুলে ধরা হল।

মেরিয়েকে লুকাস রাইনেভেল্ড পুরস্কার জয়ী গ্রন্থ

 

প্রশ্ন: বুকারের দীর্ঘ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে কেমন বোধ করছেন?

মেরিয়েকে লুকাস রাইনেভেল্ড: ইন্টারন্যাশনাল বুকার প্রাইজের মনোনয়ন পাওয়া সম্মানজনক একটি ব্যাপার। এটি প্রথমত এই কারণে সম্মানজনক যে, এই মনোনয়ন পাওয়ার অর্থ হচ্ছে বইটি নেদারল্যান্ডের বাইরেও পাঠকসমাজের কাছে স্থান করে নেবে। এটি আর যাই হোক আপনার কাজের স্বীকৃতি। দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে, এই পুরস্কারটি শুধুমাত্র লেখকের জন্যে নয়, অনুবাদকের জন্যেও। আমরা মাঝেমাঝে অনুবাদকের নাম উল্লেখ করতে ভুলে যাই। কিন্তু মিশেল হাচিনসন ছাড়া এই পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকায় স্থান পাওয়া সম্ভব হত না আমার। সে উপন্যাসের ভাষাকে যথাযথভাবে প্রতিস্থাপন করতে সÿম হয়েছে, বইয়ের কাব্যিকতাকে প্রতিস্থাপন করতে পেরেছে যা সহজ কাজ নয়। সে উপন্যাসটিকে একেবারেই অক্ষ ত রেখেছে, আর একদমই সেরা অনুবাদকের ক্ষে এই কাজটি করা সম্ভব। তাছাড়া এই তালিকায় আমার অন্তর্ভুক্তি আরেকটি কারণে সম্মানজনক, কারণ এর আগে মাত্র দুজন ডাচ লেখক এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন–টমি উইরিঙ্গা ও হ্যারি মুলিস এবং তারা দুজনেই আমার লেখালেখির জগতে বড় আদর্শ। বিদেশী যেসব লেখক পূর্বে মনোনয়ন পেয়েছেন তাদের নাম এখন উল্লেখ করছি না। কিন্তু আমি যাদের ব্যাপক প্রশংসা করি এমন অনেক লেখক আছেন, যেমন– ফিলিপ রথ, এলিস মুনরো, লিডিয়া ডেভিস।

 

প্রশ্ন: আপনার ‘দ্য ডিসকমফোর্ট অব ইভিনিং’ বইটির কিছুটা আস্বাদন আমাদেরকে দিতে পারবেন?

মেরিয়েকে লুকাস রাইনেভেল্ড: এই বইটি এমন একটি সংস্কারকৃত কৃষক পরিবারের গল্প যে পরিবারটি একটি শিশুর মৃত্যু দ্বারা প্রভাবিত হয়। ক্রিসমাসের দুই দিন আগে ম্যাথিয়েস আইস-স্কেটিংয়ে যায় এবং আর কখনোই ফিরে আসে না। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র জ্যাস। সে এমন একটি বয়সে উপনীত যে সে একজন শিশুও নয়, পূর্ণ বয়স্ক মানুষও নয়। তার চোখ দিয়েই আমরা দেখতে পাই পরিবারের একজন সদস্যের মৃত্যুর ÿতিটিকে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের নিজেদের মতো করে কে কীভাবে মানিয়ে নেয়। জ্যাসের বাবা-মা দুজনেই সীমাহীন দুঃখে প্যারালাইজড হয়ে যান এবং দেখতে পান না কীভাবে তাদের সন্তান জ্যাস, তার বোন হান্না এবং ভাই ওবে তাদের পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। এই কাহিনিটি যৌণতা, ধর্ম এবং অ¯িÍত্বের কলুষতা দ্বারা পরিপূর্ণ।

                                                                লেখিকা মেরিয়েকে লুকাস রাইনেভেল্ড

প্রশ্ন: ‘দ্য ডিসকমফোর্ট অব ইভিনিং’ একটি আধা-আত্মজৈবনিক উপন্যাস। এটির লেখার ও প্রকাশের প্রক্রিয়াটি কেমন ছিল আপনার জন্যে? যন্ত্রনাদায়ক নাকি স্নায়ুক্ষয়কারী?

মেরিয়েকে লুকাস রাইনেভেল্ড: এই উপন্যাসটি নিয়ে আমি ছয় বছর ধরে কাজ করেছি। এই দীর্ঘ সময় নেয়ার আংশিক কারণ হচ্ছে আমি এই গল্পটি লিখতে পুরোপুরি অনিচ্ছুক ছিলাম। এটি বাস্তবতা ও কল্পনার সন্নিবেশ। আমি অস্বীকার করতে পারি না, জ্যাসের অনেক কিছুই আমার মধ্যে বিরাজ করছে। আমি অনেকবার চেষ্টা করেছি এই বইটি থেকে বেরিয়ে ভিন্ন একটি বই লেখার। কিন্তু আমি প্রতিবারই এই মূল বইটিতে ফিরে এসেছি। আমার এক সারথী লেখক যিনি আমার একজন ভালো বন্ধুও, তিনি আমাকে কোন এক সময় বলেছিলেন, আমাকে নাছোড় হতে হবে আমার চারপাশের মানুষের প্রতি, বিশেষ করে আমার নিজের প্রতি। এই নাছোড় শব্দটি বড় করে লিখে আমার লেখার টেবিলের দেয়ালে সাটিয়ে দিই। এটি আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। লেখক হিসেবে আপনাকে সকল বাধাবিপত্তির উর্ধ্বে থাকতে হবে, আপনার ভেতরে যে গল্পটা আছে, তার সেরাটুকু আপনাকে বলতে সক্ষম হতে হবে।

বইটা যখন প্রকাশিত হল, হঠাৎ করেই আমার উপর অনেকের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। হঠাৎ করেই বইটি সর্বত্র পৌঁছে যায়। সবখানেই বইটির রিভিউ হতে থাকে এবং এমনকি আমি যে শহরে থাকি, যে পথ দিয়ে হেঁটে যেতাম সেখানে পোস্টারও সাটানো হয়। আমি কিছুটা লজ্জিতবোধ করি। লজ্জিত হওয়াটা আমার বইয়ের কারণে নয়, আমার বইয়ের কারণে কখনোই আমি লজ্জিত হইনি, কিন্তু আমাকে একটা বিষয়ে লড়াই করতে হয়েছিল, আমার পরিবার একটা কঠিন সময় অতিক্রম করছিল এবং তারা তা তাচ্ছিল্যও করতে পারছিল না। আমার জন্ম যে গ্রামে, সেখানেও সেলুনের নাপিত থেকে শুরু করে কসাই পর্যন্ত এ ব্যাপারে বলাবলি করছিল। বইয়ের সকল প্রশংসাই আমাকে প্রভাবিত করছিল। অবশ্য এই নিয়ে আমি আনন্দিত ও কৃতজ্ঞই ছিলাম। আমি যেখানে অনেকগুলো বছর নিঃসঙ্গতায় ছিলাম, একাকীত্বে ছিলাম; সেখানে হঠাতই আমি দৃশ্যমান অনুভব করলাম, হঠাতই নিজের অস্তিত্ব অনুভব করলাম।

একই সময়ে আমি এক ধরণের বেদনাবহ অভিজ্ঞতালব্ধ হচ্ছিলাম কারণ আমি জ্যাসকে হারিয়েছি। আমার উপন্যাসের প্রধান চরিত্র জ্যাস যাকে ঘিরে আমার এতদিনের জগত। যখনই আমি ঘরে প্রবেশ করি, আমি আর সে জগতে যেতে পারছিলাম না। এই জগতটা আমার কাছ থেকে হারিয়ে গেছে, এটা আমার পৃথিবীর বাইরে চলে গেছে। যা আমার জগতে আমাকে ভাসিয়ে রাখত, দুলিয়ে রাখত; আমার মনে হয়, সে জগতের বাইরে থাকা আমার জন্যে জীবনের একটা কঠিন অংশ। আপনি যখন লিখবেন, তখন শুধু একটা গল্পই দাঁড় করান না, এটা এমন একটা ঘরের ভেতর আপনাকে নিয়ে যাবে যা নিরাপদ, যেখানে আপনি নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারেন। আর হঠাতই আমার এই জগতটি হারিয়ে গেছে। জ্যাসকে এখন অনেকেই গ্রহণ করেছে, এই ভাবনাটি তাকে হারানোর অনুভূতিটুকুর কিছুটা লাঘব করেছে।

 

প্রশ্ন: আপনার পূর্বের প্রকাশিত সৃষ্টিকর্মগুলো ছিল কবিতা। উপন্যাস লেখায় কীভাবে অভিষেক ঘটল?

মেরিয়েকে লুকাস রাইনেভেল্ড: যেভাবে কবিতা লিখি, সেভাবে প্রথম উপন্যাসটি লেখা যাবে না, এটা বুঝতে কিছুটা সময় লেগেছিল আমার। উপন্যাস লেখার ক্ষেত্রে প্রথম বাক্য থেকেই আপনি পাঠককে বাগিয়ে নিতে হবে যেটা কবিতা লেখার ক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়ে না। কবিতা লেখার ক্ষেত্রে আপনি অনেক বেশি স্বাধীন এই কারণেই যে, পাঠক একটি বাক্য পড়ামাত্রই বুঝে যাবেন, এমনটা ভাবেন না, কিংবা তাকে আবারও পড়তে হবে এমনটা মনে করে থাকেন। তাই আমার উপন্যাসটা প্রথমে ছিল এক ধরণের কবিতা এবং দৃশ্যকল্পে ভরপুর। এটা কেউই পড়তে চাইত না। তাই উপন্যাসটির সমৃদ্ধি সাধন নিয়ে আমাকে কাজ করতে হল, এই কাব্যরূপের পরিবর্তে যথার্থ স্বর খুঁজে বের করতে হল। অবশ্য স্বরটা সেখানেই ছিল, কিন্তু সেটিকে ঘষামাজা ও পরিশুদ্ধ করতে হল। কাব্যিকতা ও গদ্যরূপ– দুটোর সমন্বয়েই আমাকে উপন্যাসটি দাঁড় করাতে হল। মূলত এই দুটো রূপ ছাড়া এই উপন্যাসটিকে কখনোই এখানে আনতে পারতাম না। আমার উপন্যাসে অনেক কবিতা বিরাজ করে, আর কবিতায় বিরাজ করে অনেক গদ্য। একটাকে ছাড়া আরেকটা চলতে পারে না।

কবিতা লেখাটা আমার জন্যে কিছুটা সহজতর আর এটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে অধিক সন্তুষ্টি দেয় কেননা কবিতা আপনি যেদিন শুরু করবেন সেদিনই শেষ করতে পারবেন। আর আমি একটা উদ্ঘাটনের ভেতর ডুবে যেতে পছন্দ করি। একটা সুন্দর বাক্য বা সুন্দর শব্দের ভেতর। একটা সুন্দর শব্দ বা বাক্যই আমাকে বিহবল করে, আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে যাই, পুরো কক্ষ জুড়ে দৌড়াতে থাকি, আমার শরীরে এক ধরণের শিহরণ অনুভব করি, এক অদ্ভুত চঞ্চলতা আমাকে পেয়ে বসে, আমাকে দৌড়াতে হয়। তারপর আমি শান্তচিত্তে কাজে ফিরে আসি। উপন্যাস এরচেয়ে অনেক কঠিন কাজ। এটাকে প্রতিনিয়ত কাটাছেঁড়া করতে হয়, পুনর্লিখন করতে হয়। আপনাকে কাজ করতে করতে একজন ভূতত্ত¡বিদ হয়ে উঠতে হয়, আপনাকে ভেতরের চোখ দিয়ে মাটির গভীরের সম্পদটুকু দেখতে হয়, আপনি জানেন, ভূগর্ভে চমৎকার কিছু একটা আছে, কিন্তু আপনাকে খনন করতে হবে এবং খুবই সন্তর্পণে তা তুলে আনতে হবে, তারপর বাটালি দ্বারা খুঁচিয়ে এর উপরের আস্তরণ সরাতে হবে, আপনি শুরুতে যা দেখেছেন তা বের করে আনার জন্যে আপনাকে এটা করতেই হবে। কিন্তু একটা উপন্যাসে একটা কবিতার চেয়ে অনেক বেশিকিছু আপনি উদ্ঘাটন করতে পারবেন। আপনি আপনার চরিত্রগুলোকে, তাদের আকাঙ্খা ও ভীতিকে পেয়ে যাবেন। এটা খুবই চমৎকার বিষয়। একই সময়ে আমি খুবই স্বাচ্ছন্দবোধ করি কারণ একই সময়ে আমার সুন্দর পেশাটিকে চালিয়ে যেতে পারি।

 

                                                                             অনুবাদক মিশেল হাচিনসন

 

প্রশ্ন: বুকারের দীর্ঘ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে কেমন বোধ করছেন?

মিশেল হাচিনসন: এই মনোনয়ন প্রাপ্তিতে আমার মনে হচ্ছে, আমি চাঁদের দেশে আছি, আর এজন্যেই বেশি ভালো লাগছে যে, সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পাওয়া এটিই প্রথম ডাচ উপন্যাস। স্বত্ব পাওয়ার পর থেকেই উপন্যাসটি নিয়ে ফ্যাবের অবিশ্বাস্য উদ্যমে কাজ করছে। তারা এই উপন্যাসের সম্পাদনায়, উৎপাদনে এবং বিপণনে তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ প্রয়োগ করেছে। তাই তাদের দায় মিটতে দেখা, প্রত্যাশা পূরণ হতে দেখাটাও আনন্দের। উপন্যাসটি প্রকাশের পর নেদারল্যান্ডে অনেকেরই দৃষ্টি কাড়ে কিন্তু সেটি বাইরের দেশে একইভাবে সফলতা পাচ্ছিল না। তাই এই পর্যায়ে এসে বইটির যথাযথ মূল্যায়ণ হতে দেখাটা সত্যিই আনন্দের।

 

প্রশ্ন: কোন বিষয়টি আপনাকে ‘দ্য ডিসকমফোর্ট অব ইভিনিং’ অনুবাদে আগ্রহী করেছে?

মিশেল হাচিনসন: আমি মূলত কবিতার অনুবাদ করতেই পছন্দ করি। এই উপন্যাসটি কবিতায় ভরপুর। এই উপন্যাসটি নিয়ে কাজ করার এটি অন্যতম একটি কারণ। শিশু কথকের প্রতিও একটা বিশেষ টান বোধ করি আমি। তারা আমার ভেতরের হারিয়ে যাওয়া শিশকে জাগিয়ে দেয়। জ্যাস যেভাবে দুনিয়া দেখেছে তা পরম অকৃত্রিম। উপন্যাসটি এর চিত্রকল্পের বৈচিত্র্যের কারণেই মূলত জীবনগ্রাহী হয়ে উঠেছে।

 

প্রশ্ন: অনুবাদ-অযোগ্য শব্দসমূহ এবং শব্দবন্ধগুলোকে আপনি কীভাবে সমন্বয় করে থাকেন?

মিশেল হাচিনসন: আমার মনে হয় না এই উপন্যাসে এমন কিছু আছে যা ভাষাভিত্তিক পর্যায়ে কৌশলগত দিক থেকে অনুবাদ-অযোগ্য। যদিও এই উপন্যাসে কিছু উদ্ধৃতি রয়েছে যা নিজস্ব সংস্কৃতিতে বিশেষায়িত। যেমন ধরুন, কোন ইংরেজ পাঠকের সম্ভবত জানার কথা নয় শিশুদের টিভি উপস্থাপক ডাইয়ার্ট ব্লক কে। অনুবাদের প্রাক-প্রক্রিয়ার সময়  আমি এবং সম্পাদক স্থানীয় রঙটুকু ধরে রাখার জন্যে সেগুলোকে অবিকৃত রাখার সিদ্ধান্ত নিই। জ্যাস নামটা অনুবাদ-অযোগ্য। ডাচ ভাষায় এই নামের অর্থ দাঁড়ায় কোট। কিন্তু আমরা এই নামটিকে জ্যাকি বা পার্কার এমন নামে পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত নিই কারণ এতে উপন্যাসের ডাচ সত্তাটুকু হারিয়ে যাবে।

 

প্রশ্ন: এটা তো মেরিয়েকে লুকাসের প্রথম উপন্যাস। ‘দ্য ডিসকমফোর্ট অব ইভিনিং’ অনুবাদে কোন রকমের চাপ অনুভব করেছেন?

মিশেল হাচিনসন: উপন্যাসটি প্রথম কি প্রথম নয়, সেটি আমার কাছে কোন বিষয়ই নয়, আমি যখনই অনুবাদ করি একটা চাপ অনুভব করে থাকি। এটাতে অন্যের শিশুকে পালনের মতো বিশ্বস্ততার একটা ব্যাপার থাকে, তারপর আবার সেটিকে অন্য একটা সংস্কৃতিতে বড় করে তোলার একটা ব্যাপার। সবগুলো জিনিস পুরোপুরিভাবে একই রকম করতে না পারার কারণে আমি সীমাহীন বিচলিত হই। অনুবাদের কাজে খুব বেশি রকমের মনোযোগ দিতে হয়, স্পন্দন থেকে দৃশ্যকল্প এমন কি সু²তম তারতম্যের বিষয়েও। সাহিত্য বিষয়ক অনুবাদে অনেক বেশি দায়বদ্ধতা থাকে এবং অনুবাদকেরা এর মধ্য দিয়ে বিচলিত শুদ্ধতাপ্রবণ হয়ে ওঠে।

কোন লেখকের সাথে একাধিক বই নিয়ে কাজ করাটা আপনার জন্যে সাবলীল হবে, কারণ একবার যখন আপনি তার শৈলীর উদ্ভাসনে অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন, ঋদ্ধ হয়ে উঠবেন; তখন আপনার কাজের প্রক্রিয়া অনেকটা সহজতর হয়ে উঠবে। তাই আমার মনে হয়, কোন লেখকের প্রথম লেখা অনুবাদের ক্ষেত্রে কিছুটা অসুবিধা থাকেই।

………………………………………………………

 

[সূত্র: সাক্ষাৎকারটি বুকার কর্তৃক্ষের ওয়েবসাইট thebookerprizes.com (২৬ মার্চ, ২০২০) প্রকাশিত সাক্ষাৎকার হতে ভাষান্তরিত করা হয়েছে]

Facebook Comments