শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ
প্রত্নমায়াজালে আজ জড়িয়ে ধরেছি তেতে-ওঠা দেহমন
 
শীতের উষ্ণতা যেন ধোঁয়া-ওঠা প্রেম, বুকের গহিনে
মিশে আছে হাজার বাতির আলো; শত শতাব্দীর
সভ্যতার বিজুলি চমকে খুলে যায় যত রুদ্ধদ্বার!
বরষার বৃষ্টিজলে ধুয়ে নিই তোমার শরীর ; রজঃস্বলা
হয়ে ওঠো পুণ্যতোয়া জলে! কী গভীর অস্তিত্বের মূলে
সুর তোলে শরীরের ভাষা, সম্ভাবনার দিগন্তে নেচে
ওঠে কুহকী-সময়! আহা, বসন্ত বাতাসে মন পোড়ে
পুষ্পবেণুবনে; তোমার প্রেমের কাছে নতজানু আজ
হাজার নদীর ঢেউ, শিশিরের শব্দের মতন ঘুম
নেমে এলে চোখের পাতায়… মন যেন শ্রাবণের
থইথই নদী! বৈশাখের রুদ্র ঝড় থেমে যায় যদি
সজল মাটির সোঁদাঘ্রাণ টেনে আনে গত জনমের
প্রিয়তমা রূপসিকে! ও শাপলাফোটা ভোর, ব্যঞ্জনার
রোদে তোমার সুবাস যেন নেশাতুর প্রেমের গুঞ্জন!
 
প্রত্নমায়াজালে আজ জড়িয়ে ধরেছি তেতে-ওঠা দেহমন!
১২.০১.২০২০
 
আমাদের গ্রামগুলো
আমাদের গ্রামগুলো হৃদয় নাচায় খুব সকালের রোদে!
 
এমন সবুজ গ্রাম কোথা পাবে? যখন তখন বেজে
ওঠে দোয়েলের শিস, পায়রার বাকুম বাকুম!
তাকালেই দূরের দিগন্তে রূপশালি ধানের কুহক!
সেই নিঝুমতা নেই আর গ্রামে; প্রযুক্তিসুবাদে সরু
পথগুলো উঠে গেছে মহাসড়কে; আশ্চর্য রূপসিরা
খেলা করে সেলফোন-ল্যাপটপের লাইভ স্ক্রিনে!
খবরের ডানাঅলা পাখিরা উড়ছে দিগ্বিদিক, মুহূর্তেই
বিশ্ব ঘুরে এসে কথা বলে বৈদ্যুতিন ভাষায়; কী
মুগ্ধকর ভাষালিপি! নেই কোনো ঘোরপ্যাঁচ, গমকে
গমকে খুলে যায় অন্দর-বাহির! এমন মহিমা নিয়ে
গ্রামগুলো জেগে আছে অধুনাকালে! যদিও নদী
তীরবর্তী মানুষেরা সম্ভ্রান্তি হারায় প্রকৃতির রোষানলে!
গ্রামে ও শহরে চলে টানাটানি, এমন দৃশ্যও দেখা
মেলে কখনোবা; তবুও গ্রামেরা জেগে থাকে
চেতনায়-বোধে!
 
আমাদের গ্রামগুলো হৃদয় নাচায় খুব সকালের রোদে!
১৩.০৪.২০২০
 
বস্ত্রবালাদের গান
উঠেছে ভোরের সূর্য, সড়কে নেমেছে বস্ত্রবালাগণ
 
পায়ে পায়ে শ্রমশক্তি, হাতে হাতে বাটি-ক্যারিয়ার,
যেতে হবে যথাসময়ে, উঠেছে জ্বলে কারখানার
উজ্জ্বল বাতি! অন্ধকার জীবনে যে আলো চাই আজ!
একবিন্দু আলো যদি মেলে তবে বাদ দিই শ্রমের
হিসাব। কষ্টরাশি তোলা থাকুক গাঁয়ের ফেলে আসা
বিষণ্ন সিন্দুকে! মায়ের ঠোঁটের কোণে যদি ফুটে ওঠে
মৃদু হাস্যরেখা, বাবার অসুখে যদি মেলে সামান্য
চিকিৎসাসেবা, তবে যত চাও শ্রমঘন শিল্পের উদ্ভাস,
এক পায়ে খাড়া আছি, ঢেলে দেবো অগণন বুকের
সাহস; স্বদেশের মাথা তোলা মহিমার কথা স্থিতি
পাক বিদেশ-বিভুঁই; শ্রমে-ঘামে বিনীত জীবন, বাঁচি
তবে আশায় আশায়। যদি পাখির উড়াল শেষে
ফিরে পাই সবুজ আশ্রয়, তবে আর অনুতাপ নেই।
পতপত ওড়ে জাতির পতাকা, যেন এক নবজাগরণ!
 
উঠেছে ভোরের সূর্য, সড়কে নেমেছে বস্ত্রবালাগণ।
১৬.০৯.২০২০
 
সমষ্টি মানুষের গান
সংঘশক্তি দূরে নেবে, দ্বিমত করি না, মেনে চলি।
 
সমষ্টি মানুষে যদি আস্থার অভাব, তবে একাই থাকো
না! কে তোমাকে খোঁজ দেয় সাফল্যের? কাকের
ঐক্যের কথা তোমাকে বলি না আর; খাদ্যের
মিছিলে যদি পিপীলিকা দেখে থাকো, তাহলে
বাড়াবো কেন কথার মিছিল! অভাজন শ্রমে-ঘামে
শিল্পের কথাই বলি; শ্রমঘন শিল্পে আছে আশার
বসতি। রোদে পুড়ে, বৃষ্টি ভিজে যারা করে ফসলের
স্তুতি, জ্ঞাতিভাই আমিও তাদের। কিষানির যে
আঁচলে প্রেমের পরশ পাই তাকে আমি আখ্যা দিই
রাজসিক বস্ত্রসোনা! জড়িদার রেশমি পোশাক
তখন কেমন তুচ্ছ হয়ে ওঠে! প্রাচুর্যের পাহাড়ে
কখনো শান্তি খোঁজো না! স্বস্তির কথা যদি তুলি
তবে ডুব দাও মাটিগন্ধা জলের গভীরে; আচানক
সত্যভাষ্যে ধরা দেবে প্রাণের মানুষ! শোনো, বলি…
 
সংঘশক্তি দূরে নেবে, দ্বিমত করি না, মেনে চলি।
০৮.০৯.২০২০
 
সোনারগাঁ
এ আমার সোনারগাঁ, পুরাসভ্যতার আদি নিদর্শন
 
এখানে রয়েছে জেগে অগণন সাহসী পুরুষ; যারা
রুখে দাঁড়ায় শত্রুর মুখোমুখি, ভিনদেশি নাবিকেরা
যদি পা বাড়ায় এই জনপদে, তবে গর্জে ওঠে
ঈশা খাঁর যোগ্য সেনাদল! ঈশা খাঁর নারীরাও যেন
অসম সাহসী; প্রেমকাব্যে নিপুণা ভীষণ! কত সদাগর
এলো সপ্তডিঙা নিয়ে; দেহতরি সাজালো রূপসীগণ;
ক্রমে ক্রমে মসলিনে ভরে ওঠে নাও; এর তুল্য কিছু
পাবে না কোথাও! সোনালি আঁশের দিন সেই কবে
তুলেছিল ঝড় বন্দরের ঘাটে; শীতলক্ষ্যা ব্রহ্মপুত্র
আর মেঘনার জল সাক্ষী; এমন মোহন অতীত কি
আর ঘরে ফেরে? তবু স্মৃতিসূত্রে বণিকেরা ঢেউ
তোলে সোনারগাঁওয়ের অন্দরে-বন্দরে; বদর বদর
বলে পাল তোলে ভাটির নাবিক আর গলা ছেড়ে
গান ধরে সাধুসন্ত জীবনের প্রিয় মাঝিমাল্লাগণ!
 
এ আমার সোনারগাঁ, পুরাসভ্যতার আদি নিদর্শন।
২৩.০৮.২০২০
Facebook Comments