শেয়ার করুন:

 

ধোঁয়াশার তামাটে রঙ
লেখক : রফিকুজ্জামান রণি
প্রকাশক : কাগজ প্রকাশন
প্রচ্ছদ : মোস্তাফিজ কারিগর
মূল্য: ১২০ টাকা

পাঠমূল্যায়ন: আইরিন সুলতানা লিমা

‘দেয়াল উঠেছে চোখে-মন ও মননে
নৌকাগুলো কুমির, বৈঠারা কালসাপ’
[দেয়াল, ধোঁয়াশার তামাটে রঙ]

কবিতা সম্পর্কে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন- ‘রূপের মধ্যে অরূপের সন্ধানই কবিতা।’ প্রায় একই কথা বলেছেন রবার্ট ফ্রস্টও। তিনি বলেন-‘সেটুকুই বিশুদ্ধ কবিতা, যার অনুবাদ সম্ভব নয়।’ কবিতা আসলে এমন এক শিল্প যা পড়ে অন্যকে বোঝানো যায় না কিংবা খুব সহজে ভাষায় প্রকাশও করা যায় না। তবুও একটি বই পাঠ শেষে কিছু কথা জড়ো হয় মনের গভীরে। যা না বলে থাকা যায় না। কেননা, কবিতা হচ্ছে সাহসী উচ্চারণ, বলিষ্ঠ প্রতিবাদ ও সত্যের সপক্ষে সুদৃঢ় অবস্থান।
জেমকন তরুণ কবিতা পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি রফিকুজ্জামান রণির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ধোঁয়াশার তামাটে রঙ’ কাশিত হয় অমর একুশে বই মেলায়। কাগজ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয় বইটি। প্রচ্ছদ করেছেন মোস্তাফিজ কারিগর। আলোচ্যমাণ গ্রন্থে কবির অর্ধশতাধিক কবিতা স্থান পেয়েছে। তার মধ্য থেকে যে কবিতাগুলো ভাবনার খোরাক যোগাতে সক্ষম হয়েছে সেগুলো নিয়ে আলোচনার প্রয়াস পাওয়া গেলো।

‘সব নিভেছে দাঁড়িয়ে আছে তুর্কি সাপের ফণা
ক্রুদ্ধ আকাশ, রুদ্ধ বাতাস–ভুলছে বচন খনা
রেশমি দিনের রশ্মি পেয়ে অসুর–শনি পা বাড়াল
ধূসর-ছায়ায় পথটা নিজেই অন্ধকারে পথ হারাল’
[সময় অসময়, ধোঁয়াশার তামাটে রঙ]

মানুষই কবিতার উৎস। মানুষকে ঘিরেই আবর্তিত হয় কবিতা। অনেক কবি আছেন যাকে চেনার আগে আমরা তার কবিতাকে চিনি। যে সমস্ত কবিতা আমাদের নিয়ে যায় ‘কাল থেকে কালান্তরের বন্দর ছেড়ে। নোঙরবিহীন সময়ের খেয়াতরী’ শেখায় কী করে প্রতীক্ষা করতে হয়।‘আজও একটি জাহাজ ভেড়েনি, আজও একটি মানুষ ফেরেনি’ তবুও আমি প্রতীক্ষা করি কবির মতো করে; পাশের বাড়ির অবুঝ মেয়েটির মতো প্রিয়জনের অপেক্ষায় না থেকে আত্মহত্যা করি না। আমাকে বাঁচিয়ে রাখে কবিতা। কবির মতো আমিও-

‘কিছুদিন বরফ ছিলাম, গলে গলে নিঃশেষ হয়েছি কেবল…
নিজেকে যেদিন পাথর বানিয়ে ফেললাম
সেদিন বুঝেছি–এবার অন্তত
বেঁচে থাকাটা সহজ হয়ে উঠবে’

[কিছুদিন বরফ ছিলাম, ধোঁয়াশার তামাটে রঙ]

বেঁচে থাকাটা সহজ হয়েছে বলেই, ‘রোদ, বৃষ্টি এবং ঝড়ের প্রকোপ আমাকে কখনোই নতজানু করতে পারেনি–আমার চোখের অগ্নিতে পৃথিবী পুড়ে ছাই হয়েছে বহুবার–তারপরও কুটিরশিল্পের মতো স্বপ্নীল অঙ্গদগ্ধতায় বেঁচে আছি আমি!
কোথাও দেখিনি চিরপ্রত্যাশিত সেই মুখগুলো!’
কবি রফিকুজ্জামান রণি কখনো প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকেন আলো আঁধারির গ্রীবায়, কখনো কান পেতে শোনেন ভাঁটফুলের মতো সরল দেহে মধুখোরের হানা দেওয়া নারীর আর্তস্বর।
কবিতা তো এমনই হওয়া উচিত যেমনটা আমরা অনুভব করি। এটা তো সহজে বুঝে ওঠার বিষয় নয়। তেমনই ‘নদী ভাঙে না’ কবিতাটি বারবার পাঠ করেও বুঝে উঠতে ব্যর্থ হই। অতঃপর অনুভব করলাম নদীর মতো নারীরও ভাঙন নেই। আছে কেবল নদীর পাড়ের মতো নারীর হাড়ভাঙা করুণ ইতিহাস। নদীর যে জল আদতে তা জল নয়!

‘ওসব কেবল অশ্রযু, ঘাম এবং মানুষের রক্ত!
নদীর কোনো প্রাণ নেই, গান নেই–
নিষ্প্রাণ নদীকে মানুষই দেয় প্রাণ এবং মানুষই করে হত্যা!’

কবি মানেই প্রেমিক। প্রেম অন্তর্দাহে কবির জীবন পুড়ে খাঁক হয়ে যায়। তবুও কবি প্রেমকে গেঁথে রাখেন অতি সযতেœ। তেমনই প্রেমবোধ ফুটে উঠেছে কবিতায়–

‘চক্ষু তো নয় পাপড়ি যেন বানরকলা ফুল
দুপাশটাকে রাখছে ঘিরে শকুন্তলার চুল
ঠিকরে পড়া আগুন আমায় পুড়িয়ে করে ছাই
এমন আগুন বিনাশ করার জল যে কোথায় পাই
পদ্মা-মেঘনা ফুরিয়ে যাবে শূন্য হবে জল
তারপরেও নিভবে না রে ওই আগুনের দল
এক জীবনে পুড়ে পুড়ে জীবন হলেও খাঁক
ওই দুটি চোখ চিরটাকাল বুকেই গাঁথা থাক!’

কখনো কখনো মানুষের অন্তর মরে যায় বেঁচে থাকে দেহ। ধোঁয়াশার তামাটে রঙে ঘরে ফেরা বেকার যুবক-যুবতীর করুণ আর্তনাদ শুনতে পাই আমরা–

আমি তো আমার লাশই কাঁধে নিয়ে হাঁটি।
দিনের শেষে–

এক প্লেট আগুনের জন্যে
বোতলভর্তি বিষের জন্যে
আর একটা ঘাড়-ধাক্কার জন্যে
আমি ঘরে ফিরে আসি!’

অবহেলা, উপেক্ষা কখনোই ভালো ফলাফল বয়ে আনে না। তেমনি অবহেলার বিরূপ প্রভাব আমরা দেখতে পাাই ধোঁয়াশার তামাটে রঙ কবিতার দিকে তাকালে-
দীর্ঘ অবহেলায় যদি ক্লান্ত হয়ে উঠি বিষণ্ন সন্ধ্যায়-

‘মনে রেখো এই পথ, আবাদি জমিন, সবুজ অরণ্য সুতীব্র বন্ধ্যায়
ভুগে ভুগে ক্ষয়ে যাবে চাঁদ; অনন্তের মায়াহীন প্রবল ছায়া–
ঢালবে আঁধার, থামাবে সুখ : ছড়াবে দিঘল কায়া।
তখন পাখিরা খোয়াবে ডানা; পৃথিবী পড়বে ভীষণ রকম মন্দায়!’

নারী পৃথিবীকে আলোকিত করে তার মাতৃত্বে। নারী পথ দেখায়। সেই পথে আমরা হাঁটি। কিন্তু সেই পথ দেখানো নারীর কথা আমরা কেউ মনে রাখি না। এভাবেই একদিন নারীরা মৃত কফিনে পরিণত হয়। সড়কের আধুনিক সংস্করণে কবি যেন সংসারে নারীর অবস্থানই তুলে ধরেছেন।

‘এই পথ একদিন নারী ছিল। তার চোখ ছিঁড়ে বেরিয়েছে শক্ত পাথর।… নির্বিকার সে কফিন মাড়িয়ে আজও আমরা গন্তব্যের দিকে হাঁটি।
তোমরা তাকে রাস্তা বললেও; আমি বলিব–মৃত নারীর কফিন!’

আমাদের ইতিহাস অত্যাচার ও শোষণের ইতিহাস। এদেশের জন্ম হবার পূর্বে বহুবার মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে আমাদের। লাল-সবুজের পতাকায় জ্বলজ্বল করা নক্ষত্রও হারিয়ে গেছে বিশ্বাসঘাতকদের উদরে। ফলে মৃত্যু অনুভব করেছেন কবি। কবি এখন নতুন একটি নক্ষত্র দেখার প্রত্যাশায় বুক বেঁধে আছেন–

‘আমার প্রথম মৃত্যু হয়–পলাশি প্রান্তরে।
আততায়ীর আঘাতের ক্ষতচিহ্নগুলো তলপেটে
আজও সন্তানের মতো বয়ে বেড়াই
…………………………….
তৃতীয় মৃত্যুটা ছিল শপথের
আমি তা সানন্দে গ্রহণ করি,
…………………………..
ট্রিপল মৃত্যু! তারপরও বেঁচে আছি দৈবক্রমে
আরও একটি নক্ষত্র দেখার প্রত্যাশায়’

মানুষের স্মৃতি বড়ই অদ্ভুত। ভ্রমণকালে হঠাৎ দেখা অচেনা এক মেয়েকে নিয়েও যে স্মৃতি রোমন্থন করা যায়; ভাবনার খোরাক হয়ে ওঠে তেমনটাই দেখা যায় তার ‘ভ্রমণপথে’ কবিতায়–

‘কত হলুদ সন্ধ্যা মরে গেছে তারপর
বিকেলের ধূসরতা হারিয়েছে মায়াঘোর ;
সোনালি ভোর সাঁইসাঁই করে উড়ে গেছে দক্ষিণের জঙ্গলে–
স্মৃতির অলিন্দে সে কেবল নিশ্চল, স্থাণু–
…………………………
কে জানে, তার নির্ভার চোখ সেদিন
দুলে উঠেছিল কোন ভ্রমরের খোঁজে
কালের নিঝ্ঝুম বুনোছায়ায়, অনন্তের নির্জনে
তবে কি সে সখাহারা হয়েছিল?’

আসন্ন ভবিষ্যতকে কবি তুলে ধরেন তার কল্পনায়। তেমনই রক্তশুদ্ধি ও ‘ভেঙে পড়েছে সব’ কবিতাদ্বয়ে যেন বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি কল্পনা করেই লেখা হয়েছে–

‘শুধু চোখভর্তি মরা নদী
অগণন মুষ্টিবদ্ধ লাশ নিয়ে
এগিয়ে চলেছি অবিরাম
সামনে বিরাট হাই তুলেছে
রক্তসাগর’


‘শুধু স্তব্ধতা, ভীষণ রুক্ষতায়-
ভেঙে পড়ছে তারা থেকে তারা!’

জগতের প্রতিটি সৃষ্টির পেছনে লুকিয়ে রয়েছে নিগূঢ় রহস্য। স্রষ্টার কোনো সৃষ্টিই গুরুত্বহীন নয়। আবার প্রতিটি সৃষ্টির ধ্বংস অনিবার্য। পৃথিবীও একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। কবির ভাষায়–

‘কেউই জানে না
একটি কুকুরের চিৎকারেও একদিন
ভেঙেচুরে ছত্রখান হয়ে যেতে পারে সমস্ত সৃষ্টিজগৎ’

মা– সংসার নামক সমাজবৃত্তে আটকে থাকা একটি নাম। সংসারের দুঃখ ঘোচাতে তিনি দিন-রাত খাটেন। অথচ এই মায়েরা আজ সমাজে কতটা অবহেলিত! কারো ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রম, কারো ঠিকানা ডাস্টবিন। কবির মতো সবাই মায়ের বন্দনা করুক এটাই প্রত্যাশা।

‘সংসারের লরি, ফসলের উষ্ণ প্রহরী
মাকে পানকৌড়ি বানিয়ে দিল’

কবিরা বিশ্ব-সমাজ সংসারের পরিবর্তন ও উন্নয়ন নিয়ে সবসময় চিন্তামগ্ন থাকেন। তেমনি বিশ্বায়ন ও আধুনিকতা যে আমাদের আত্মার বন্ধন ছিঁড়ে দিয়েছে তা ভেবে কবি আহত হন–

‘ক্রমশ বড় হয় শহর, ছোট হয় গ্রাম
পাথরের কাছে হেরে যায় মানুষ
মাটির গন্ধ এবং নদীর উচ্ছলতা–
ধীরে ধীরে ছিঁড়ে যায় যুগের বন্ধন’

কৈফিয়ত! লেখক তার লেখার জন্য বইয়ে কৈফিয়ত দেন এ বিষয়টি আগে কোনো বই পড়তে গিয়ে দেখিনি। কৈফিয়তের ধরনে আমি আশ্চর্যান্বিত হয়েছি; যে বইয়ের কৈফিয়ত পড়তে গিয়ে আমি মুগ্ধ হয়ে আটকে থাকি সে বইয়ের ভেতরে লেখা কবিতাগুলো কেমন হবে এটা ভেবে! কবিতা সম্পর্কে কবির গভীর ভাবনা ও সৌন্দর্যবোধ যেন এখানেই প্রতীয়মান হয়েছে–‘কবিতা আসমান থেকে ছিটকে পড়া মর্মস্পর্শী প্রাচীন মান্নাছালওয়া, নাকি পাতাল ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা অলৌকিক কোনো জন্তু-জানোয়ার–সে রকম অলীক ভাবনা আমাকে কখনোই আচ্ছন্ন করেনি। তারপরও কেউ যদি কবিতার আকৃতি-প্রকৃতি সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন ছুড়ে মারেন, আমি দ্বিধাহীন ভাষায় জবাব দেব–আমি নিজেই একটি কবিতা! মহাবিশ্ব-মহাকাল-মহাজীবন-মহানুভবতা–কোনোটাই কবিতার বাইরের কোনো গণ্ডি নয়। কবি পথ হারালেও কবিতা পথ হারায় না কোনোকালেই।’
কবির প্রত্যেকটি কবিতা হৃদয় ছুঁয়ে যায়, আনন্দ বেদনার রাজ্যে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। শব্দ দিয়ে হৃদয়ের ঘুমিয়ে থাকা ভাবকে ছন্দের আকারে উপস্থাপন এটাই তো কবিতা। যেমনটা আমরা দেখতে পাই কবির ‘প্রত্যাশা’ কবিতায়–

‘শতবর্ষী হে রাত! আমার চক্ষু ফিরিয়ে দাও
আমি হতে চাই পতঙ্গযুগের ক্লোরোফিল–
আমাকে ফিরিয়ে দাও ঢেঁকির গণসংগীত’

ধোঁয়াশার তামাটে রঙ–বইটির কবিতাগুলো যে কোনো পাঠকের মনে দোলা দিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করি। কবি হারিয়ে গেলেও তার কবিতা বেঁচে থাকবে পাঠকের মনে। কবির লেখা মানুষের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে; তাই কবিতারা হয়তো উচ্চারিত হবে মানুষের মুখে মুখে। ফেরি হবে লাইনের পর লাইন।

‘হাতের মুঠোয় পৃথিবী বিরাট
তবুও কেন-
কবরের দুর্বাঘাস যা জানে
আমরা তার কিছুই জানি না!’


‘ইলিশের গন্ধে আমি মাকে খুঁজে পাই
বাবাকে খুঁজে পাইপৃথিবীর আলপথে।’

কিংবা,

‘আমার জন্মচিৎকারের নাম সংগীত
তাল-লয়-ছন্দ-সুর কিংবা স্বরলিপি না জেনেই একদিন
আমিও গেয়ে উঠেছিলাম ‘ওঁয়া ওঁয়া জন্মসংগীত!’

আরো যেমন,

‘ঘাসের জীবন চাষের জীবন–জীবন পুরোহিত
কোথাও নেই বিশুদ্ধতার ধ্রুপদী সংগীত’

কবি রফিকুজ্জামান রণির জন্ম ৩০ ডিসেম্বর ১৯৯২, চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার দোঘর গ্রামে। গাঁয়ের কাঁচা মাটির পরশে কেটেছে তার শৈশব। সে ছাপ পড়েছে তার কবিতায়। কৈশোর জীবন থেকে পরিবারসহ বসবাস করছেন চাঁদপুর শহরে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় জসীমউদ্দীনের ‘নিমন্ত্রণ’ কবিতা পড়ে কবিতার প্রতি তার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। সাহিত্যে স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন : জেমকন তরুণ কবিতা পুরস্কার-২০১৯; এবং মানুষ তরুণ লেখক পুরস্কার-২০১৯; দেশ পাণ্ডুলিপি পুরস্কার-২০১৮; চাঁদপুর জেলা প্রশাসক পাণ্ডুলিপি পুরস্কার-২০১৮, সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার-২০১৪, শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার সহ অসংখ্য পুরস্কার-সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। ‘ধোঁয়াশার তামাটে রঙ’ তার প্রথম কবিতার বই। বইটির বিশেষত্ব উৎসর্গপত্রের ধরন দেখলেই প্রতীয়মান হয়–‘কীভাবে নারীরা কেঁদে উঠেছিল আহত জন্তুর মতো’ অর্থাৎ বইটি উৎসর্গ করা হয়–এমিলি ডিকিনসন, সিলভিয়া প্লাথ ও আন্না আখমাতোভার মতো বিশ্বকবিতার তিন ক্ষণকালীন নারী কবিকে। ‘ধোঁয়াশার তামাটে রঙ’ পাঠকের মনকে নতুনভাবে রাঙিয়ে তুলবে এটাই কামনা করি।

Facebook Comments