শেয়ার করুন:

স্বপ্ন বোনার দেশ

শিশির ভেঙে রাখাল ধরে ভাটিয়ালি গান।
প্রাণ দুলিয়ে সাঁঝের বেলা পাখির কলতান।
ফুলের সৌরভ ছড়ায় মনে,
সবুজ ঘেরা পাহাড় বনে।
তোমার রূপে চোখ জুড়িয়ে হয় না তবু শেষ।
হায়রে আমার জন্মভূমি স্বপ্ন বোনার দেশ।
হায়রে আমার জন্মভূমি সোনার বাংলাদেশ।।
 
নদী নালা খাল বিলেতে মাছের-ই বাহার।
নানান রকম শস্য তোলে কৃষক ঘরে তার।
কৃষক শ্রমিক কুমার তাঁতী,
নেই তো বিভেদ কোনো জাতি।
স্বপ্ন আঁকি মিলেমিশে রূপ লাবন্যে বেশ।
হায়রে আমার জন্মভূমি স্বপ্ন বোনার দেশ।
হায়রে আমার জন্মভূমি সোনার বাংলাদেশ।।
 
দিন দুপুরে প্রজাপতি রং ছড়িয়ে যায়।
ফুল বাগানে মধুর টানে মৌমাছি গান গায়।
পুকুর ঘাটে বাঁশির সুরে,
হৃদয় হারায় অচিনপুরে।
একতারাতে বাউল সুরে মগ্ন রাখে বেশ।
হায়রে আমার জন্মভূমি স্বপ্ন বোনার দেশ।
হায়রে আমার জন্মভূমি সোনার বাংলাদেশ।।
 
 

গাঙচিল

যখন ইচ্ছে কাঁটবে সাঁতার।
ইচ্ছে হলে উড়বে আবার।
এরই মাঝে খুঁজে নিবো সুখের অনাবিল।
বন্ধু আমার মনের গাঙে হইও রে গাঙচিল-।।
 
হাসলে তুমি হৃদয় যেন স্বর্গ খুঁজে পায়।
কাঁদলে তুমি মরন যেন ডাকে ঈশারায়।
তুমি হাসো তুমি খেলো,
ভাবি না মন কি যে পেলো।
এমন করে যাক না কেটে সুখেরও স্বপ্নীল।।
 
তুমি পাশে থাকলে হৃদয় সুখে ভেসে যায়।
তোমার দূরে থাকা যেন বিরহে পোড়ায়।
সয় না প্রাণে থাকা দূরে,
তুমি আমার সবই জুড়ে।
এমনি করে থাকুক না হায় দিলের সাথে দিল।।
 
 
 

লাল গালিচা

মাথা রেখো আমার বুকে
থেকো তুমি অনেক সুখে
দেখবে সেথায় স্বপ্নে ঘেরা নাইতো কোন ফাঁকা-
আমার) এই দেহের ই বুক জমিন’টা
তোমার জন্য রাখা-
শুধু তোমার জন্য রাখা-।।
 
তুমি) সারা দেহের সড়ক পথে লাল গালিচায় হাঁটো
হৃদপিণ্ডতে মুখ লুকিয়ে অভিমানটা কাটো।
সুখ জড়ানো তোমার ঠোঁটে
জনম জনম যেনো জোটে
নরম ঠোঁটের ছোয়ায় থাকুক সারা দেহে আঁকা।।
 
আমার) শিরা নাকি ধমনীতে কোথায় তুমি থাকো?
তোমার সারা দেহখানি আমার দেহে রাখো।।
খুজে পাবে তোমায় তুমি
তোমার থাকা কতো ভূমি
শ্বাস প্রশ্বাসের গতি শোনো তুমি তুমি ডাকা।।
 
 
 

মরণ

মাথার চুলে পাক ধরেছে,
চোখের নজর কমে গেছে,
বাহুতে নাই বল।
ও মন) মরণ বুঝি ডাকলো এখন
কবর দেশে চল-।।
 
ভেবে দেখরে এই তোরইতে
রূপের বাহার নাই।
যেই তোর মাঝে সদাই ছিলো
রূপেরই বড়াই।
বাহু বলে চোখ রাঙাইয়া,
নিজের মতো সব সাজাইয়া।
এখন কি তার ফল?
ও মন) মরণ বুঝি ডাকলো এখন
কবর দেশে চল-।।
 
বড় সাধে বানাইলা যে
সোনার তাজমহল।
মাটির ঘরে থাকবি একা,
আপন কে তোর বল?
রঙ্গ রসে করলে খেলা,
বিধির কাজে অবহেলা।
এখন কি তোর ছল?
ও মন) মরণ বুঝি ডাকলো এখন
কবর দেশে চল-।।
 
 

কপাল পোড়া

আমি) জনম দুঃখী কপাল পোড়া
পাড়ার লোকে কয়।
আমায় দুঃখ দিয়া বিধি
তোমার কি সুখ হয়?-।।
আমার মতো ও ও ও ও
আমার মতো এমন কপাল
আর কি কারো হয়?
 
পৃথিবীরই আলো দেখতে
হারাই মায়ের কোল,
ভালবেসে বাপ না পারলো
দিতে আমায় দোল।
এখন) দিবা রাত্রি আমার চোখে
পদ্মা মেঘনা বয়।।
 
সর্বহারা জীবন হইলে
থাকে কি আর আশা?
ধর্মধারায় জীবন গড়তে
বাঁধতে হয় রে বাসা।
 
পৃথিবীর এই মায়ার বাঁধন,
বাঁধতে দিলাম মন।
ভাগ্যদোষে সেই না আপন
স্মৃতিরই বাঁধন ।
ও তাই) মনের মাঝে আমার এখন
চৈত্রের খরা বয়।।
 
 

সমান্তরাল

দিন আর রাত হয়তো বেহাল,
সুখ আর দুখ সমান্তরাল,
যতই আসুক জীবনে ঝর
চলবে সময়েরই গতি।
জীবন মানেই
সুখ আর দুঃখের গাঁথা এক নথি।।
 
অট্টালিকায় জীবন যাপন
তবুও যে দীর্ঘশ্বাস,
হোক না যতই স্বপ্ন পূরণ
থেকে যায় তবু নিরাশ,
জানে নাতো কেউ কোথায় যে হাল
সুখ আর দুখ সমান্তরাল।।
 
রাস্তায় ফুটপাতে বাস করে
তাদেরও রয়েছে আশা।
প্রভাতের আলো খুশি বয়ে এলো
আহারের খেলবে পাশা।
পেটে রেখে ক্ষুদা করে সুখ তাল
সুখ আর দুখ সমান্তরাল।।
 
 
 
 
 

ভাগ গুণনে শূণ্য

ভালো বাসা হয় কি এমন?
করবে তুমি যখন যেমন!
তোমার এমন অবহেলায় আশা শূন্য রয়!!
আমি গুণ করি আর ভাগ করি তাই
শূন্য শুধু হয়।
ভালবাসা আমার এখন যন্ত্রণাতে বয়।।
 
ভেবে ছিলাম সরল মনে
সরল তোমার মন।
মতি গতি বুঝি না তো
করবো কি এখন?
তোমার মনে নাই তো আমি করছো অভিনয়!
আমি গুন করি…… অনাদরে রয়।।
 
পঞ্চভুজের খেলায় খেলো
ত্রিভুজ প্রেমে ছাই।
কখন তুমি কি যে করো
বোঝার সাধ্য নাই।
ছেদ চিহ্নের এমন চলন ধৈর্য্যে কি আর সয়?
আমি গুন করি…… অনাদরে রয়।।
 
 
 
 

তাসের ঘর

নতুন প্রেমিক এই জীবনে
প্রতি রাতের বেলা
এখন) তাসের ঘরের মতোই জীবন
শুধু ভাঙার খেলা
হায়রে) কেউ শোনে না দুঃখ আমার
করে অবহেলা -।।
 
জন্ম আমার হয়নি তো আর
পতিতা দাগ নিয়ে
ভুল মানুষের ভালো বাসায়
হাটছি এই পথ দিয়ে।
পাতানো ছল প্রেমের নামে
জীবন দুঃখের বেলা।।
 
মনের মানুষ ভাঙবে এই মন
ভাগ্যে আমার ছিলো?
মনটা ভেঙে হয়নি তার সুখ
নরক ডেকে দিলো;
প্রেমের নামে কেমন খেলা
খেলে তুমি গেলা-।।
 
 
 
 
 
 

মা…

এ-কাল ও-কাল হারাবে সব কাল
ও তোর- মায়ের অভিশাপে।
সব হারাইয়া কান্দিস না মন
নিজের অনুতাপে।
মায়ের সেবায় শান্তি পাবে
জগত আখিরাতে।
মায়ের সেবা করো রে মন
থাকতে দুনিয়াতে-।।
 
তোমার মুখটা দেখবে বলে
শত ব্যাথা সয়ে গেছে মায়-
গর্ভে থেকে লাথি মারছো মায়ের কলিজায়।
চোখের জলে ভাসিয়ে বুক
দেখিবে মায় তোমারই মুখ
অপেক্ষার সুখ তাতে-
মায়ের সেবা……. দুনিয়াতে।
 
গর্ভে রাখলো দশ মাস দশ দিন
বিশটি বছর রাখলো বুকে মায়।
কার পিরিতে কান্দাও ও মন মাকে বেদনায়।
দু’হাত তুলে করে দোয়া,
লাগে না যেন দুঃখ ছোঁয়া,
সুখে থাকো যাতে।
মায়ের সেবা……. দুনিয়াতে।।
 
 
 

মাওলা আমার

সাড়ে তিন হাত মাটির দেহে
যতন করা ঘর।
সেই ঘরেতে মনটা রাখছে
কইরা গো আদর।
মাওলা আমার নিবিড় কারিগর;
ও মন) সময় থাকতে তারই সেজদা কর।।
 
কোথায় ছিলে কোথায় এলে,
কতটুকু দেহ নিয়ে?
আবার তুমি কোথায় যাবে,
করবে কিবা সেথায় গিয়ে?
মধ্যখানের কর্ম তোমার
কিসের হবে ভর?
মাওলা আমার নিবিড় কারিগর
ও মন) সময় থাকতে তারই সেজদা কর।।
 
রক্তে মাংসে গড়া দেহে
প্রানের সঞ্চার বাঁচার তরে।
নাইরে চালক তবু এই প্রাণ
চলছে দেখ নিয়ম করে।
স্বাদ আহ্লাদ দমের উপর
করে যে নির্ভর ।
মাওলা আমার নিবিড় কারিগর
ও মন) সময় থাকতে তারই সেজদা কর।
 
 
 

দিন যেনো বছর…

কতটা যে আপন প্রিয় জানে এই মন।
তুমি বিহীন আমার যেনো শুধু মরণ।
বুঝেছি আজ হয়ে দিশেহারা।
আমার- একটি দিন বছরের মত
কেটে গেলো তুমি ছাড়া-।।
 
তুমি নেই তাই অস্থিরতায়
কেটে গেলো কাল সারা দিন
বুঝে গেলাম খুঁজে পেলাম
বিরহী মনে বাজে কি বীন-।
তুমি আমার বেঁচে থাকার শুধু এক নাম
বুঝেছি আজ হয়ে পথহারা।।
 
তুমি নেই তাই একা নির্ঘুম
কেটে গেলো কাল সারা রাত।
অপেক্ষায় মন হবে কখন
ডাহুকের সেই বিরহী প্রভাত-
তুমি আমার বেঁচে থাকার শুধু এক নাম
বুঝেছি আজ হয়ে গতিহারা।।
 
 

আমি- ভুলে গেলাম

 
যেদিন বললে ভুলে যেতে
সেদিন ছিলো ভারী বৃষ্টি!
আমার- অশ্রুর ঢলে তাই পড়েনি তোমার দৃষ্টি।
শুধু তুমি থাকবে সুখে;
আমার স্মৃতি ডাকবে বুকে।
আমি- ভুলে গেলাম তোমার সুখে কতো শতো কৃষ্টি।।
 
হৃদয়ের কম্পন শোনতে করোনি কর্ণপাত
বৃষ্টির সাথে হয়তো ছিলো কিছু বজ্রপাত।
তোমার সুখে ভুললে তুমি
মায়ার বাঁধন খুললে তুমি
আমি- দুঃখটাকে নিলাম মেনে তোমার সুখের সৃষ্টি ।।
 
বিদায় বেলায় বললে তুমি ধরে দুইটি হাত।
পরও কালে আমায় পেতে থাকবে তোমার সাধ।
সত্যিই অবাক করলে তুমি
সুখের জীবন গড়লে তুমি।
আমার- হয়না যেনো জন্ম কভু তোমার জন্য সৃষ্টি।।
Facebook Comments