শেয়ার করুন:

এক.

 
জীবন হেসে খেলে বিলীন করে ফেলার মতো নয় তো
ইচ্ছে করলেই ঘষে ঘষে প্রাণটা করা যায় না ক্ষয় তো
 
যতটুকু চলার জীবন ততোটুকু চলবে
পরীক্ষার আগুনে পুড়ে প্রয়োজনীয় গলবে
চলার পথে বাঁধা বিঘ্ন ছোট বড় আসবে
অনেক শত্রু রাস্তা আগলে দাঁত কেলিয়ে হাসবে
জীবন আশার আলোর খুঁজতে থেকে সদাই সামনে রয় তো।
 
জীবন চলার পথে লাভের সাথে আসে ক্ষতি
হতাশায় খুব ভেঙ্গে পড়লে চলায় আসে যতি
একান্ত সাধনায় সদাই সিদ্ধিলাভ তো নিশ্চিত
একটু ভেজাল ঢুকলে নড়ে উঠে শক্ত সেই ভিত
নিয়ম মেনে চেষ্টা করলে মুঠোয় কাঙ্খিত জয় হয় তো।
 
 

দুই.

 
প্রিয় দেশের মাটি আমার বুকে তুলে রাখি
তপ্ত শরীর শীতল করতে মাটি গায়ে মাখি।
 
এই মাটিতে আমি ফলাই ফসল
এই মাটি দেয় আমায় পিপাসায় জল
এই মাটিতে আমি বানাই বাড়ি
বৃক্ষ জন্মাই তাতে সারি সারি
মনের কষ্টগুলো সদাই মাটি দিয়ে ঢাকি।
 
দেশের মাটি সোনার চেয়ে খাঁটি
শুদ্ধ হতে সকাল বিকাল হাটি
সারাদিন মাটিতে হাসি খেলি
কষ্ট পেয়ে ব্যথার অশ্রু ফেলি
শান্তি পেতে হতাশায় মাটিতে শুয়ে থাকি।
 
 

তিন.

 
লাউ বাজিয়ে আমি দিনরাত ঘুরি পথে পথে
দয়াল মুর্শিদের গান শান্তির পরশ মনের ক্ষতে।
 
আমি সংসার জানি না চিনি না আপন জন
লাউ জীবনের সাথি আমার আশ্রয় আমার বন
থামবে না গান গাওয়া আমার কাহারো অমতে।
 
লাউয়ের মাঝে পরাণ আমার লাউয়ের মাঝে জান
লাউয়ের তারে সুর না থাকলে জানে ভাটার টান
আমার চলা থামবে না গো বর্ষা বা শরতে।
 
 
 
 

চার.

 
আমার মনে বাজে রাখালের বাঁশির সুর সুমধুর
আমি মেঠোপথে হেঁটে যাই চলে দূর বহুদূর।
 
সাধের লাউয়ে বাজে বাউলের মনভোলা গান
নদীর ঠাণ্ডা জলে নেমে শীতল করি প্রাণ
আমি গাছের ছায়ায় শুয়ে শুনি শুধু কোকিল সুর।
 
ঘাসের শিশির ছুঁয়ে বুজে নেই আবেশে চোখ
পাকা ধানের ঘ্রাণে ভরে উঠে আমার বুক
জোছনায় পাঠ করে পুঁথি থাকি খুশিতে ভরপুর।
 
 
 
 

পাঁচ.

 
ঝর ঝর ঝরছে বৃষ্টি অঝোর ধারায় ঝরছে
একলা ঘরে তোমায় অনেক মনে পড়ছে।
 
এমন বৃষ্টির দিনে তুমি ছিলে কাছে
কদম ফুটেছিলো মনের কদম গাছে
পলকে শেষ হতো কতো যে হাজার সাল
মনটা বলেছিলো আবার না আসুক কাল
ঝর ঝর ঝরছে বৃষ্টি অঝোর ধারায় ঝরছে
একলা ঘরে তোমায় অনেক মনে পড়ছে।
 
আজকের ভরা বাদল দিনে আমি একা
হাজার বছর পরও তোমার নেই যে দেখা
এমন বাদল দিনে তুমি হাতটি নেড়ে
চলে গেলে নিরব থেকে আমায় ছেড়ে
ঝর ঝর ঝরছে বৃষ্টি অঝোর ধারায় ঝরছে
একলা ঘরে তোমায় অনেক মনে পড়ছে।
 
 
 
 

ছয়.

 
তুমি আছো বলেই আজকের সকাল এতো মিষ্টি
ভালোবাসো বলেই আমার সব কবিতার সৃষ্টি।
 
তোমার আঙ্গুল দেখায় যাদুটোনা
তোমার স্পর্শে আমার বিশ্ব সোন
তোমার গায়ের ঘ্রাণে আমি পাগল
তোমার কাছে আসি ধরিয়া ছল
তুমি হাসো বলেই খরায় ঝরে অঝোর বৃষ্টি।
 
আমি শুধু তোমায় চাই তোমাকে
তুমি বিহীন ভুবন কালোয় ঢাকে
আমার হৃদয় জুড়ে শুধু তুমি
তুমি ছাড়া জীবন মরুভূমি
তুমি ধরো বলেই তোমায় দেখে আমার দৃষ্টি।
 
 
 
 

সাত.

 
 
দেশের মাটিতে ঘুমিয়ে আছে হাজার মুক্তিসেনা
ওদের কাছে রয়েছে যে আমাদের অমূল্য দেনা।
 
জীবন দিয়ে করে গেছে দেশটা স্বাধীন
জীবনভর ফুল দিলেও শোধ হবে না ঋণ
হাজার শহীদের জীবনে এই দেশটা হয়েছে কেনা।
 
দেশবাসি দোর-জানালা দিনরাত খোলা রাখো
চুপি চুপি আসলে ওরা বুকে ধরে থাকো
একটু অবহেলা করলে ওরা কাছে আর আসবে না।
 
 
 
 
 

আট.

পুব দিগন্তে সূর্য উঠে পশ্চিমে যায় অস্ত
আমার সোনার বাংলা জানি আকারে খুব মস্ত।
 
হাজার নদীর জলে ধোয়া দেশের মাটি
প্রিয় মাটি সকল দেশের চেয়ে খাঁটি
ভাষার জন্য রফিক জব্বার দিয়েছে প্রাণ
মাঝির কণ্ঠে শুনি তাই ভাটিয়ালি গান
দেশের জন্য জীবন দিতে মোদের বুক প্রশস্ত।
 
ছয়টি ঋতুর যাদু আমার প্রিয় দেশে
বর্ষায় অভ্র ভাসে বধূর কালো কেশে
সাগর রক্তে পাওয়া দেশের স্বাধীনতা
কখনো মানবো না আর পরাধীনতা
অন্যায় রুখতে অস্ত্র ধরতে প্রস্তুত সকল হস্ত।
 
 
 

নয়.

 
চলো চলো সবাই পড়তে চলো
বলো বলো সবাই সত্য বলো।
 
গুরুজনে ভক্তি করো
দুর্বলের হাত টেনে ধরো
উর্ধে রাখো তোমার ঐ শির
মননে হও সর্বদা ধীর
বলার সময় বিনয়ে খুব গলো।
 
সবাই দেবে দাম সময়কে
তবেই পাবে সবাই জয়কে
দুষ্টু কর্ম করবে নাকো
দুষ্টু বন্ধু ধরবে নাকো
দরিদ্রে চোখ করো ছলোছলো।
 
 
 

দশ.

 
মাঝে মাঝে ছেলেবেলায় যেতে চায় যে মনটা
হৃদয় বলে প্রিয় ছিলো জীবনের সেই ক্ষণটা।
 
নাটাই ছাড়া ঘুড়ির মতো কেবল ছুটাছুটি
খেলায় মজে ভুলে যাওয়া মজার মাংশরুটি
ঝড়ের সময় বিপদ মাড়িয়ে আম কুড়াবার সুখ
মায়ের বকা খেয়েও খুশ থাকতো ছোট সেই বুক
ভুলে গেলে ভালো লাগতো স্কুলের কর্কশ ঘন্টা।
 
ক্লাশে চলতো পাশের সাথে খানিক হুটোপুটি
খেলার মাঠে বলের সাথে দারুণ ছুটাছুটি
 
পরীক্ষায় পাস করতে পারলে নতুন জামা পাওয়া
লজ্জায় মাথা খেয়ে জোরে গান বাথরুমে গাওয়া
মনে আসে মারের ভয়ে লুকোবার সেই বনটা।
 
Facebook Comments