শেয়ার করুন:

আমার শাস্তি দাবী করছি

কোন নির্বিঘ্ন সুন্দর নারীকে ভালোবাসার জন্য আমার শাস্তি হোক,
হাসনাহেনার গন্ধমাখা সন্ধ্যেবেলায় কোন নারীর ঠোঁট আমার মসৃণ ঠোঁটের নির্লিপ্ত আন্দোলনে ভিজে যাওয়ার অপরাধে আমার শাস্তি হোক,
কোন বেয়াড়া সুন্দরীর চোখে চোখ রেখে যৌবনের স্বর্গ বর্ণনা করার দায়ে আমার শাস্তি হোক,
নিদারুণ নিষ্পলক নিরহংকার বালিকার নাকে নাক ঘঁষে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ানোর দায়ে আমার দণ্ডপ্রাপ্তি হোক,
বুদ্ধ পূর্ণিমার রাতে হিজল বনের নির্জন পরিবেশে নিশ্চুপ বসে থাকা কোন বালিকার বুকে নিতান্ত নির্বোধের বালকের মতো হাত রাখার দায়ে আমার কঠিন শাস্তি হোক,
কোন তীব্র ও ঝাঁজালো সাবালিকার ঠোঁট কামড়িয়ে কামনার বহিঃপ্রকাশ করার দায়ে আমার কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি হোক,
বিদগ্ধ সুন্দর নারীটাকে নিকষ কালো অন্ধকারে প্রেমের ত্রিমাত্রিক গল্প শোনানোর দায়ে আমার নৃতাত্ত্বিক শাস্তি হোক,

স্বর্গের মৃন্ময়ী সুন্দরীর নাভিকমলে নিকুম্ভিলা যজ্ঞের নির্বাক অগ্নির মাতোয়ারা উল্লাসের জন্য আমার ন্যায্য শাস্তি দাবী করছি,
কোন ক্রুদ্ধ তাজা যুবতীর উঁকিমারা অপলক পিরিতে আমি চমৎকারভাবে নিষ্পেষিত হইনি বলে আমার কড়া শাস্তি হোক,
কোন উত্তপ্ত সুন্দরীর যৌবন আমার শরীরে বিসর্জিত হয়নি বলে আমার নির্দয় কঠিন শাস্তি প্রার্থনা করছি,
আমার শাস্তি হোক এই কারণেও- পৃথিবীর উদ্বাস্তু কোন বালিকার একান্ত সময়েগুলোর অবমূল্যায়ন করার জন্য।
ট্রয় সুন্দরী ‘হেলেন’ এর মনস্তত্ত্ব সূক্ষরুপে অতিশয় বিশ্লেষণ না করার ক্ষমা অযোগ্য অপরাধে আমার মারাত্মক শাস্তি হোক,

যৌবনের উদ্বিগ্ন প্রাক্কালে প্রেমিকা না থাকার দায়ে আমার জটিল কোনো শাস্তি হোক,
আমার পরিচিত সুন্দরীদের সাথে প্রেম না করার দায়ে আমার শাস্তি হোক।

সমস্ত আশার আলো

বেদনার অশ্রু ধারা অক্লান্ত হয়ে ঝরছে যখন
একজোড়া শালিকের চোখে প্রেমের বিলাস তখন।

জীবনের বিষন্ন নীরবতার সময় পাহাড় সমান ব্যাথা,
ঠোঁট নেড়ে নেড়ে শালিক দুটো শুনালো আশার কথা।

যুগ যুগান্তর এমন করে ব্যর্থতার ধুলা উড়েছে পথে,
তাই বলে কেউ হঠাৎ করে যায়নি থেমে এতে।

পৃথিবীর সকল অপবিত্রতা রাত্রি ঝেড়েছে শিশিরে,
সূর্য দিয়েছে শিশিরে আলো বেসেছে ভালো দিবস-এ।

মাথার উপরে মেঘ জমেছে পায়ে জড়িয়েছে ধুলা,
মেঘ তাড়াতে এসেছে বাতাস উড়িয়ে শিমুলের তুলা।

অদ্ভুত আঁধার যখনই এসেছে এই পৃথিবীতে নেমে,
কোন না কোন উপায় হয়েছে আঁধারে গিয়েছে থেমে।

নিকষ আঁধারে ছেয়েছে দিক আজ আমাবস্যা বলে,
কদিন পরেই চাঁদ আসবে পূর্ণ জোছনা জ্বেলে।

দুঃখের ধারা নেমেছে যখন অগত্যা কোন প্রকোপে,
আনন্দ এসেছে পিছে পিছে তার শতাব্দীর সন্ধিপথে।

ভেবোনা ভেবোনা স্বপ্ন আশা ঢেকে কুয়াশার চাদরে,
ইতিহাস বলে ক্ষয় দিয়ে জয় লক্ষ আশা বন্দরে।

কখনো হঠাৎ আগুন লেগে জ্বলে যায় যদি কেহ-
হিমেল বাতাসের দমকা হাওয়া জুড়িয়ে দিবে দেহ।

রাত্রি গিয়ে প্রভাত হবে দিনের আলোর মতো,
শালিক জোড়া নেচে নেচে বলে; কত কথা শতো।

নিরাশ হয়োনা নিরাশ করোনা আশারা থাকুক জেগে,
এক পৃথিবীর ভালোবাসা থাক,- সবার ললাট ভাগে।

অষ্টাদশী কবিতা

প্রেমে পড়লে ছেলেরা বুকের উপর পৃথিবী সমমানের একটা অথর্ব পাথর নিয়ে ঘুরে,
আর প্রেমে পড়লে মেয়েদের মন ছলাৎ ছলাৎ করে।

প্রেমে পড়লে ছেলেরা যেকোনো দুঃসাধ্যে অভিযান চালাতে পারে নির্দ্বিধায়,
আর প্রেমে পড়লে মেয়েরা লুকোচুরি খেলে অন্তরায়।

প্রেমে পড়লে ছেলেদের মন হয় আকাশ সমান,
মেয়েরা পাখপাখালি-গাছগাছালি, কবিতায় মুখ ডুবান।

প্রেমে পড়লে ছেলেরা বাউন্ডুলে ভাব ছেড়ে গৃহস্থ হবার আশায় নেশা পালে দিনরাত,
মেয়েরা অগত্যা জঞ্জালে প্রিয় সময়গুলোকে করে অনর্থ বরবাদ।

প্রেম হলো নেশা, ছেলেদের চোখে-মুখে-বুকে সুপ্ত আগ্নেয়গিরির লাভা,
মেয়েরা অস্বীকার করে দারুণ! ওই ছেলেটা কে? আমি চিনি না বাবা।

প্রেমে পড়লে ছেলেরা জিভ্ কাটে, অসহ্য কোলাহল আর ত্রিমুখী যন্ত্রণায় ছটফট করে গলাকাটা মুরগির মতোন,
কী আশ্চার্য মাইরি! মেয়েরা সবকিছু লুকাতে পারে- প্রেমে পড়ে মিথ্যা বলা ওদের কাছে ঐশ্বরিক বচন।

না না বলবো না আর, সদা সত্য বলা পাপ। ঢের বলেছি হয়তো-
যদি প্রেমিকা থাকে মোর- চামড়া তুলে নিবে, ইয়ে ধরে ঝুলিয়ে রাখবে নয়তো।

তুমি ভালবাসলে আমি কাঙ্গাল হব

আমাকে গিলে ফেলো-
আমাকে আগাগোড়া গিলে ফেলো,
দেখি কতটা উন্মাদ ভালোবাসার স্রোত জন্ম নিয়েছে তোমার কলিজায়।

তোমার বুকের পাজরে অজস্র চাঁদ বেহিসাবী আনাগোনা করে, কেবল আমৃত্যু সানন্দে পবিত্র প্রেম ছুঁয়ে নিদারুণ নিঃস্ব হবার ব্যাকুলতায়।
এতটুকু প্রেম জমা রেখেছো কোমল নৃতাত্ত্বিক বুকে, কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে আবৃত্তি করেছো প্রেমের পদাবলী- তোমার সমগ্র পঞ্চপ্রাণে জন্ম নেয়া অকুণ্ঠ পাণ্ডুলিপিতে আমাকে জড়িয়ে রেখেছো।

গিলে ফেলো-
আমাকে সম্পূর্ণরূপে গিলে ফেলো,
তোমাতে অসহায় আত্মসমর্পণের জন্য আমার ইন্দ্রিয় শক্তি প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে ।
তোমার উন্মাদ ভালোবাসা লেলিয়ে দিয়ে- আমাকে তোমার করে ফেলেছে বহু আগেই।

বালিকার বিষম প্রেম

যদি কখনো চোখে কাজল মেখে কেউ এসে দাঁড়ায় কপাট ঠেলে-
বুকে জড়িয়ে নিয়ো, এ তো বালিকা নয় শুধু। তুমি লক্ষ্মী পেলে।
কখনো ভুল ভেঙ্গে খোলা চুলে এসে যদি দাঁড়ায় নয়নে নয়ন রাখি-
ভালোবাসিও তারে, চেয়ে দেখিও ফের। বুকে নিয়ো আলিঙ্গনে ডাকি।
অভিমানের কিঞ্চিৎ মালা গেঁথে যদি রাখে কোন বালিকা তার মনে-
মান রোষাবেশ, ভাঙ্গিয়ে দিও যত্ন করে। একান্তে ডেকে সংগোপনে।
অসন্তোষে ঠোঁট যদি উল্টায় বালিকা কোন যাত্রাপালার মোহে ভীড়ে-
ধাক্কা দিয়ে, তারে ফেলে দিও না সরায়। অসন্তোষীর প্রেম রবে তোমাকে ঘিরে।
যদি কখনো চোখে কাজল মেখে কেউ এসে দাঁড়ায় কপাট ঠেলে-
বুকে জড়িয়ে নিয়ো, এ তো বালিকা নয় শুধু। তুমি লক্ষ্মী পেলে।
কখনো ভুল ভেঙ্গে খোলা চুলে এসে যদি দাঁড়ায় নয়নে নয়ন রাখি-
ভালোবাসিও তারে, চেয়ে দেখিও ফের। বুকে নিয়ো আলিঙ্গনে ডাকি।
অভিমানের কিঞ্চিৎ মালা গেঁথে যদি রাখে কোন বালিকা তার মনে-
মান রোষাবেশ, ভাঙ্গিয়ে দিও যত্ন করে। একান্তে ডেকে সংগোপনে।
অসন্তোষে ঠোঁট যদি উল্টায় বালিকা কোন যাত্রাপালার মোহে ভীড়ে-
ধাক্কা দিয়ে, তারে ফেলে দিও না সরায়। অসন্তোষীর প্রেম রবে তোমাকে ঘিরে।

Facebook Comments