শেয়ার করুন:

নিশাচর আমি

জ্যোৎস্না রাতে
স্বরবার্তায় মেঘের সাথে ,
আমার ঘুম চুরি
জাগি নিশাচর বিভাবরী ।

সময় যায় আমি দিশেহারা
বিবেকবিরোধী জ্ঞানের সমারোহে স্মৃতিগুলো করি ভাড়া ,
আমি তো আবেগের চেয়ে বেশি আবেশি
পলকে পলকে স্বপ্নকে তাই ভালবেসেছি ।

দিশেহারা স্বপ্ন আছে মনের গহীনে, যা অনেক প্রবীণ
ভালবাসার প্রতিক্ষণে আছে আমার বহু ঋণ,
বেরসিক জীবন ছিলো
প্রাণোচ্ছলে ভালবাসায় ভরে নিলো ।

শিরা – উপশিরায়
শিহরণ বয়ে যায় ,
কি সুন্দর সেই মুহূর্ত
যেন প্রেম কুহকিনীর নৃত্য॥

সম্পর্ক

সম্পর্কময় সন্ত্রাসে সময়ে-অসময়ে নড়ে যেতে
পারে অনেক দিনের মহিত পিলার ।
তবুও ধংসস্তূপে জেগে থাকে কণা কণা রোদ ।
প্রত্যেক বারই পুড়িয়েছো –
প্রেমে -আপ্রেমে,
দ্রোহে – অভিমানে,
আদরে – অনাদরে,
পাপে – নিস্পাপে ।
আমি শুধু প্রস্তুত ছিলাম ।
সূর্যের পত্নীর মতো চরম চন্দ্রাতাপে ধবংস হতে,
চেয়েছি হৃদয় স্পন্দনের স্পর্শ থামুক –
তোমার আকাশে সুখের গীর্জার ঘন্টা
আমার আকাশে রক্তের দগদগে ক্ষত চিহ্ন,
বৈশাখের রুদ্র জামা নিলাম পরে
বারুদের গন্ধ্য খুব আপনার আপন করে –

অথচ
আজ ভয়ে – অকুতোভয় এই আমারও চোখের পাতা বন্ধ
বুকে ক্ষত – বিক্ষত অবিরত তীক্ষ্ণ ছুরিকাঘাত ।
যন্ত্রণার পাখি কাতরায় অন্ধকূপে
পৃথিবীর রঙ পাথরের ঘাম,
বাতাসের বীর্যধারায় বিনীত আয়োজনে উড়ছে বিষাদের উড়নি।
দুঃসহ অস্থিরতা
সময়হীন
স্বপ্নহীন
গন্ধহীন
শয্যাহীন ঘুমের মতো তন্দ্রার ছাউনি ।
হৃদয়ের ব্লাক বোর্ডে তাক করা কম্পাস অনবরত
জানান দিচ্ছে ,
শ্বাসকষ্টজনিত অন্ধকার সময়ের হয়েছে শুরু ।
তুমি আমি আর নির্ঘুম রাত–
অত:পর–
মূলত:একজনই ॥

আমার প্রতিচ্ছবি আসবেই

আমি আসবো – কোন এক ক্লান্ত চাকরিজীবী যেভাবে ফেরে ঘরে,
আমি আসবো – কোন এক মুসাফির জিরায় যেভাবে গাছের ছায়ায়,
আমি আসবো – কোন এক স্রষ্টাপ্রেমি ঘুরতে থাকে যেভাবে মসজিদ, মন্দির, গির্জায়
আমি আসবো – কোন এক গভীর রাতে, যেভাবে রাধা যেত বৃন্দাবনে,
আমি আসবো – যেভাবে সদ্য বিবাহিত বালিকা প্রবেশ করে বাসর ঘরে।
আমি আসবো – যেভাবে চাঁদরাতে হাতে মেহেদীর রঙ আসে।
আমি আসবো– যেভাবে শীর্ষ-সুখের যন্ত্রণায় প্রেমিকার গলা ফাটা চিৎকার আসে।
আমি আসবো– তোমার ভিতর আসবো – অনবরত, অক্লান্ত, অটল,
আমি চিরকাল আসতেই থাকবো।

যেন, আমি পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তুমি দেখতে থাকো – আমি আসছি,
একটানা বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায় আকাশ থেকে – আমি নামছি,
জানালা দিয়ে চিলতে রোদ ঘরে ঢুকলে ভাববে – আমি আসছি,
দূর পাহাড়ের গায়ে মেঘ এসে বসলে জানবে – আমি আসছি,
পরিচিত খাবার হোটেল, পরিচিত পার্ক ,
পরিচিত সেই ঘর – যে ঘরে আমার পদচিহ্ন আছে – আমি আসতেই থাকবো…
অবিরত, অনিবার – অনন্তকাল।

ভাসানের ডিঙায়

গ্লানির দহন নয়, ক্লান্ত দিনের শেষে আসে বিমর্ষ রাত
আত্মবিশ্বাসী সন্ধানে জানি থাকবে না – রাখবে না এ হাতে হাত,
হালকা হিমেল হাওয়ার কাছে পাঠিয়ে দেবো খোলা চৈত্রের সকাল
যার পদশব্দে শুনে তুমি সাজাবে অজস্র ছায়ার দেয়াল
পরিকল্পিত প্রত্যাখ্যান আর হাসির আড়ালে পালিয়ে আছে কান্না ,
মৌশুমি ফুলের উল্লাস চাই শুধু, চাইনা তো অনেক কিছু হিরা – মতি পান্না ।

স্মৃতিচিহ্ন জ্বলতে জ্বলতে জ্বালাবে আরও
চোখের বর্ষায় ধুয়ে মনে দুলবে খেয়া কারও
তুলবে বাঁশের বাঁশিতে তোলা ভালবাসার সুর
আর চোখের বৃষ্টি পাক নিখাদ আপন সমুদ্দর ।

তার থেকে ভালো– ভালবেসে চলো ঈশ্বরের কাছে স্বীকার করি
জন্মের ক্লেদে ভেসে চলো প্রার্থনা করি
ফসলিম চোখে রাতের তাজমহলের শ্বেত পাথর ছুঁয়ে ,
প্রেমের প্রতিমা হয়ে কত কথা বলতে ইচ্ছা হয় নুয়ে ।

অনেক সময় শেষে প্রাণের উল্লাসে এমন সময় আসে
অভিমান নয়, সর্বোত্তম বিরহে ব্যাথায় বুক ভাসে
আর মনে হয়
ভাসমান ডিঙায় স্পর্শই জীবন ॥

ভাবনাতে ধূপছায়া স্বপ্ন

তোমার দেখি জানালাভর্তি কাঁচা সোনারোদ
আমার তখন মনবারান্দায় শুধুই অবরোধ
মেঘকণারা জমে থাকে ছোট্ট কোনো বাঁকে
অবচেতন মন আমার জল-আলপনা আঁকে।

যখন দেখি মত্ত সবাই আলোক পুরীর দেশে
আমি তখন শয্যাহীন জানালার একপাশে
প্রস্তুতিহীন অযাচিত আত্মযুদ্ধের ডাক
ঘুম না গিয়ে দেখি শত বিস্ফোরণের বাঁক।

আমার শুধুই রাতজাগা মন খেয়ালি জীবন
নিসর্গ ভালবেসে আঁকি, না-পাওয়া সব ক্ষণ
হাতেতে নেই ঢাল তলোয়ার, হনন হাতিয়ার
আছে উদ্যতশোক, একঘেয়েমি মিথ্যা অঙ্গিকার।

আর তখনই নিজস্ব নিয়ম ভেঙে ,
আমার ছায়াসঙ্গী বলে ওঠে —
ওলো নারী, কেনো করোনি চাষ চৌষট্টি কলা!
শ্রাবণের বেনোজলে না ভেসে করতে ছলাকলা
সে হতো সঠিক শৃঙ্গার
পূর্ণ হতো নির্মম অঙ্গিকার।

Facebook Comments