১৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯; ২ ডিসেম্বর, ২০২২;ভোর ৫:৪৯

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল এর গুচ্ছকবিতা

আড্ডাপত্র

জানু ৭, ২০২২ | গুচ্ছ কবিতা

[সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল বহুমাত্রিক লেখক। তিনি গবেষক, সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক। এইসব পরিচয় ছাপিয়ে তিনি আপাদমস্তক একজন কবি।সত্তর দশকের এই কবি ক্রমাগত নিরীক্ষা ও ভাংচুরের মধ্য দিয়ে নিজেকে আবার গড়ে তোলেন। তরুণদের কবিতা নিয়ে যারা কথা বলেন, দুচার কলম লেখেন বোধকরি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল তাদের অগ্রগণ্য। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ১৩টি কবিতা রচনা করেছেন। আড্ডাপত্র সেই কবিতাগুলো একত্রে প্রকাশ করলো। এর মাধ্যমে ক্রান্তিকালে একজন কবি কিভাবে তার সময়কে অনুভব করেছেন; দেশ, সমাজ মানুষ, প্রেম, কষ্টকে কিভাবে উপলব্ধি করেছেন তা আমরা জানতে পারবো।– সম্পাদক]

ধারাবাহিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত

‘উপ’ একটি অব্যয়
পূর্ণাঙ্গ নয়;
নৈকট্য অথবা সাদৃশ্য ইত্যাদি সূচক উপসর্গ;
সেভাবেই আবার শুরু হয়েছিলো-
উপ-নিবেশিকতার শেষে আরেক উপনিবেশবাদ।

আসুন- পাঠ করি ভোর, ভোরের প্রথম পৃষ্ঠা
সূর্যাস্তের পর সূর্যোদয়ের রক্তরেখাচিহ্ন।
পাঠ করি- প্রথম প্রস্তাব
এবং প্রতিবাদ।

মায়ের আঁচলে স্বাধিকার এবং স্বাধীনতা সহোদর
ভোরে, দুপুরে, অপরাহ্নে ফুটে উঠে সৌরভ
ধীরে ধীরে ধীরে ধীরে ধীরে ধীরে দাবি, স্বীকৃতি
ধীরে ধীরে ধারাবাহিক ধীরেন্দ্রনাথ।
অনেক রক্তের নিচে মৃত্যু
মৃত্যুর সাথে মিশে থাকে বিজয়,
মিশে থাকে বেদনা
টুকরো টুকরো লাশ ময়নামতি সেনানিবাসে
মালাগাঁথা মৃত্যুলাশে ইতিহাসের শেষ পৃষ্ঠা!

তমদ্দুন মজলিসের পুস্তিকার মূল্যমান তিন আনার নয়;
অথবা দত্তের দাম-
দুই টাকার ডাক টিকিট নয়।
রক্তমাখানো পতাকার সমান্তরাল
ভাষা এবং দেশের সমান- ধারাবাহিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।

টরন্টো, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

নান্দিনা

এক্সপায়ার ডেট, নট ইন সার্ভিস,
আউট অফ সার্ভিস
বাক্যগুলো শুনতে শুনতে গেঁথে গেলো গোপনে
ভাবতে ভাবতে ভাবছি-
বৃদ্ধাশ্রমের সেই থুত্থুরে বন্ধু নন্দীর কথাঃ
‘আমার কোন ঠাকুর নেই,
আমার এক মাত্র ঠাকুর- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’!

বৃদ্ধাশ্রমের ওঁম শান্তি থেকে বেরিয়ে এসে
আমি আমার সাথে হাঁটছি,
আমি আমার সাথে বসে চা খাচ্ছি,
অচেনা বনফুলের মউ-মউ মৃত্যুগন্ধে
সন্ধ্যা মেশানো চা।
আমি আমার সাথে গল্প করছি-
একটু আগে বসে ছিলাম ব্রহ্মপুত্রের ঘাটে
নৌকা নেই।
ফিরে এলাম নান্দিনা স্টেশনে
সূর্য এক্ষুণি ডুবে যাবে ঘন গোধুলি সন্ধ্যায়
আসবে রাজধানীগামী শেষট্রেন।

ডেট অফ এক্সপায়ার, আউট অফ সার্ভিস
মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ, ভাবতে ভাবতে ভাবছি-
অন্তিম অভিনন্দন!

টরন্টো, ২৭ ফ্রেব্রুয়ারি, ২০২১।

মরণকে বরণ করি বার বার

কোনো গ্রাম্যনদী মরে গেলে
আমারও চোখের জল শুকিয়ে যায়।
ঝরা পাতার সাথে আমিও খসে খসে একা হয়ে যাই
ঝড়ো হাওয়ায় ডাল ভেঙ্গে গেলে
আমিও যৎসামান্য পঙ্গু হতে পড়ি।

মাছ খুন হলে
গাছ খুন হলে
আংশিক আমিও নিহত হই; কাঁদি।
বন্ধুদের অন্তর্ধানে আমিও কিছুটা কর্পুর
যে কোনো জননীর মৃত্যুতে
আমিও যৎকঞ্চিৎ মাতৃহারা হয়ে যাই।

দেশান্তরও এক ধরণের দেহান্তর
পরবাসও এক ধরণের পরকাল।
ফলে আমিও মরণকে বরণ করি বার বার।

কারাগারে কোনো কবির মৃত্যু হলে
ময়না তদন্তে আমিও ঘুমিয়ে থাকি হিমঘরে।

টরন্টো, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১।

চন্দ্রবিন্দু, হসন্ত

শীত বরফে তুষারপাতে
নেই এখানে চন্দ্রবিন্দু হসন্ত,
তোমার জন্য রমনা পার্কে
রেখে এলাম ফাগুন এবং বসন্ত !

টরন্টো, ২৫, ২০২১

টায়ারের স্যান্ডেল

কাঁঠাল গাছ এবং কাঁঠালের কোন কিছুই ফেলনা নয়,
গাছ, গাছের পাতা,
মুছি, কচি কাঁঠাল, কোঁয়া, বিচি, খোসা এবং কাঠ।
কাঁঠালের আঠাও গানে গানে গুরুত্ব পায়!
উপমা পায়- প্রেমের প্রতীকে,
স্বীকৃতি পায়- জাতীয় মর্যাদা!

রামপুরা-টু-সদর ঘাটের ঐতিহ্যবাহক
মুড়ির টিন বলে খ্যাত, পরিত্যাক্ত সেই বাসের টায়ার
তা-ও কাঁঠালের চেয়ে কম নয়!
দীর্ঘজীবন লাভ করে নানা ভাবে, নানী ভাবে!

তখন না খেয়ে থাকার দিন
তখন না পেয়ে থাকার দিন
তখন পুলসিরাত পাড় হবার দিন
একজোড়া প্লাস্টিকের চপ্পলের ফিতা ছিঁড়ে যেতো, খুলে যেতো
হাঁটতে হাঁটতে স্যান্ডেলের গোড়ালি ক্ষয় হয়ে যেতো!

তাই, ঠাটারি বাজারে মুচির কাছে যাই,
পায়ের মাপে বানিয়ে নিই কালো টায়ারের অক্ষয় স্যান্ডেল।
দাদার কাঁঠাল কাঠের খড়ম,
বাবার সাড়া জীবনে মাত্র এক জোড়া চামড়ার জুতো
আর আমার টায়ারের স্যান্ডেল ইতিহাস হয়ে থাকে।

বহু বছর পর একদিন দেখি-
চিরজীবী টাটকা টায়ারের স্যান্ডেল অবিকল ঠিকই আছে;
ক্ষয়ে যাওয়া জীবনের মতোই
ক্ষয় হয়ে গেছে পা, পায়ের গোড়ালি!

টরন্টো, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

টায়ারের স্যান্ডেল

কাঁঠাল গাছ এবং কাঁঠালের কোন কিছুই ফেলনা নয়,
গাছ, গাছের পাতা,
মুছি, কচি কাঁঠাল, কোঁয়া, বিচি, খোসা এবং কাঠ।
কাঁঠালের আঠাও গানে গানে গুরুত্ব পায়!
উপমা পায়- প্রেমের প্রতীকে,
স্বীকৃতি পায়- জাতীয় মর্যাদা!

রামপুরা-টু-সদর ঘাটের ঐতিহ্যবাহক
মুড়ির টিন বলে খ্যাত, পরিত্যাক্ত সেই বাসের টায়ার
তা-ও কাঁঠালের চেয়ে কম নয়!
দীর্ঘজীবন লাভ করে নানা ভাবে, নানী ভাবে!

তখন না খেয়ে থাকার দিন
তখন না পেয়ে থাকার দিন
তখন পুলসিরাত পাড় হবার দিন
একজোড়া প্লাস্টিকের চপ্পলের ফিতা ছিঁড়ে যেতো, খুলে যেতো
হাঁটতে হাঁটতে স্যান্ডেলের গোড়ালি ক্ষয় হয়ে যেতো!

তাই, ঠাটারি বাজারে মুচির কাছে যাই,
পায়ের মাপে বানিয়ে নিই কালো টায়ারের অক্ষয় স্যান্ডেল।
দাদার কাঁঠাল কাঠের খড়ম,
বাবার সাড়া জীবনে মাত্র এক জোড়া চামড়ার জুতো
আর আমার টায়ারের স্যান্ডেল ইতিহাস হয়ে থাকে।

বহু বছর পর একদিন দেখি-
চিরজীবী টাটকা টায়ারের স্যান্ডেল অবিকল ঠিকই আছে;
ক্ষয়ে যাওয়া জীবনের মতোই
ক্ষয় হয়ে গেছে পা, পায়ের গোড়ালি!

টরন্টো, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

বেকারভাতা

বয়সের সাথে বেড়ে ওঠে পাপবোধ, পরাজয়
হিংসা লতিয়ে উঠে লোভ, লাবণ্য
ঈর্ষা, অপরাহ্ন।

আলোর বিপরীতে ছায়া হয়ে থাকে
ব্যর্থতার বকুল ফুল
বেকারত্ব কেড়ে নেয় লাবণ্য দাশ,
লাবণ্যতা।

জীবননান্দের আড়ালে-
কত যে বেদনাবোধ, বিষ আর বিষন্নতা
তুচ্ছ এবং তাচ্ছিলো।
কানাডার মতো দেশে জন্ম নিলে
পেতেন বেকার ভাতা,
অথবা সামান্য শীতল শান্তি।

এবং তিনিও হতেন সিঙ্গল মাদার!

টরন্টো, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১

গুনাহ

তেজি ঘোড়ার মতো সে-ও হ্রেষাধ্বনিতে
চ্রিঁহিহি চ্রিঁহিহি করে লাফিয়ে উঠে
মানব জমিনের মধ্যাঙ্গে সিরিঞ্জের সুঁই ঢুকাচ্ছিলো।

তখন ভাবছিলাম, ছেলেটার জ্বর কমলো কিনা
ওর পঙ্গু বাবাটা বিছনা থেকে নামতে পারছে কিনা,
মেয়েটা একটা মাত্র ওড়না; ঔষধ শেষ!
অনটনের সংসারে…
আবার মাস্ক কেনার বাড়তি পয়সা কই?

ঘোড়া এখন সে ক্লান্ত ঘোড়া, শান্ত ঘোড়া।
কিন্তু একি! এ সুঁই-শিশ্ন খৎনাবিহীন; হিন্দু-নাগর
এ তো আমার ধর্মের মান-ইজ্জত লুটে নিলো!

বলতে বলতে বার বার, তিন বার পাঠ করেঃ
তাওবা আস্তাগফিরুল্লাহ।
কবি-সঙ্গম কি
কবিরা গুনাহ নাকি ছগিরা গনাহ!
টরন্টো, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

বৈপরীত্য

মৃত কিন্তু কি অদ্ভুত অতীত
যেনো বর্তমানের চেয়েও চকচকে তীব্র ঘ্রাণ
সজীব, জীবন্ত, ঘুমন্ত।
যেন ঘুম ভাঙলেই ফুটবে।
তার নিবিড়তা, অস্তিত্ব উষ্ণ চায়ের মতো!

আবার কেউ কেউ জীবিত, ঘেউ ঘেউ
অথচ তারা হৃদয়ে হীম শীতল, মৃতলাশ
পঁচা গার্বেজ।

তার কাছে তুমি ঘুমন্ত গোলাপ, মৃত।
তোমার কাছে সে নিষিদ্ধ লাশ, গার্বেজ!
টরন্টো, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

এ যাপিত জীবন আমার নয়

জীবনের ছোট-ছোট মারাত্মক ভুলগুলো ভয়ংকর ছিলো।

একবার প্যান্টের চেইন আটকানো হয়নি;
খোলা ছিলো জিপার অথবা ব্লাউজের তৃতীয় বোতাম।
ভুল করে যুক্তরাজ্যকে লিখেছিলাম যুক্তরাষ্ট্র!
একবার ল্যান্ড করেছিলেন জেএফকে’তে
পাইলট ভুলে বলেছিলো: ওয়েলকাম টু হিথ্রো!
আর অর্থ পাল্টে যাওয়া-
মুদ্রণ প্রমাদ, ছাপাখানার ভূতের কথা আপাতত থাক।

চা চুলায় দিয়ে কবিতা লিখতে যাই
অক্ষর বৃত্তে আট মাত্রা স্থলে নয় মাত্রা দিতেই
কবিতায় জ্বলে উঠলো আরেক আগুন।

ভুল ঠিকানা, ভুল ট্রেন, ভুল ভালোবাসা, ভুল বানান
বারো বছর ভুল জেল খেটেছে নির্দোষী আদম আলি
এই সব ভুল আজ খুঁজে খুঁজে বের করি-
ভেতরে চাবি রেখে বাইরে তালা লাগানোর গল্প
অথবা-
একাত্তরে মেইম সাইড গুলিবিদ্ধ হয়েছিলো সহযোদ্ধা।

ডাক্তার রতন চৌধুরী একবার
রোগীর ডান দাঁত রেখে তুলেছিলো ভুল বাম দাঁত।
হাসপাতালে ভুল করে ভুল ঔষধ দিয়েছিলো শাদা নার্স
কিন্ত দুধের বদলে ভুল করে দেয়নি
স্তনদুধ!

আমিও যেনো ভুল করে অন্য কারো ভুল জীবন
যাপন করে যাচ্ছি।
এ যাপিত জীবন আমার নয়।

টরন্টো, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

পাপী মেষের মাংস হারাম

জুয়া এবং জাদু জানিনা
তাসখেলাও না; চিনিনা তাদের চেহারা
তবু তুরুপের মতো তীব্র চ্যালেন্জ
শ্রদ্ধেয় আইনের পক্ষপাতিত্বের প্রতি,
প্রিয় কানাডার প্রতি।

স্বর্গরাজ্যে
সিঙ্গল মম আর নারীরা নির্দোষী;
যত অপরাধ আমাদের!
আর মানবতার নামান্তরে খুনিদের অভয়ারণ্য!

হেরা পর্বতের গোপন গুহায়
যে ভেড়া যৌনতার শিকার হয়েছিলো
তাকে দুররা মেরে হত্যা করে মরুভূমিতে পুতে দাও।
পাপী মেষের মাংস হারাম।

দায়মুক্তির দরকার নেই সেই রাখাল বালকের
অথচ বালক মেষ পালক
কানাডিয়ান নয়।

টরন্টো, ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

ধর্মঘট

উরুদ্বয়ের মাঝখানে গ্রন্থিত গ্রন্থে স্বর্গ; শান্তি!
এই মিথ্যে শেখানো হয়েছিলো মাদ্রাসার নাজমুলকে
উরু সঙ্গমের মুফাখাতা তা-ও
জেনেছে সেনানী বাস থেকে।

স্যামুয়ের ম্যাটিয়ার ‘নেটিভ লাইফ ইন ট্রাভানকোর’
ধারণ করে আছে
কেরালা অঞ্চলে প্রচলিত প্রথা- স্তনকর।
তখন কেউ কি বর্গা দিতো অথবাউরু বন্ধক?

পেলোপোনেশিয় যুদ্ধের বিরুদ্ধে নারীরা ঘুরে দাঁড়ালো
তারা ডেকেছিলো অভিনব ধর্মঘট
তারা ডাক দিয়েছিলো-
‘উরু বন্ধ’ আন্দোলনঃ
সঙ্গীদের সঙ্গে সঙ্গম করবে না, খুলবে না হাঁটু
স্বর্গের দিকে তুলবে না পা,
কিংবা নিতম্ব উঁচিয়ে ধরবে না আকাশের দিকে।

টরন্টো, ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

মানব জাতির মুখে দুর্গন্ধ

এক পাতিলের ভাত দুই থালায়
ভাই থেকে ভাই আলাদা, জাতি থেকে পৃথক প্রজাতি।
বিবর্তনের ইতিহাস, ডিএনএ, রক্তের গ্রুপ
স্বাক্ষী দিবে পূর্ব পুরুষ,
স্বাক্ষী দিবে পূর্ব নারী।

ভাগ্যক্রমে
বান্দ্রামি করি, উকুন খাই, আগুন খাই।
এবং আমরাও স্তন্যপায়ী।
আমাদের দূর সম্পর্কীয় বোন বাদুড়
সে-ও একই গোত্রীয়, ক্ষত্রিয়
স্তন্যপায়ী প্রাণী; কিন্তু পাখি- পাখা আছে।

বানর আর বাদুরের স্তনে
কোনো বক্ষবন্ধনী নেই,
উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের মতো খোলা আকাশ
ব্রা ব্যবহার করে শুধু মাত্র নারীমানুষ।

Facebook Comments

আড্ডাপত্রে লাইক দিন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১