শেয়ার করুন:

গীতিকবিতা :: ১

আমি যে করুণাকামী
তুমি জগতের স্বামী
তোমাকে করি যে তাই স্মরণ হে
ঈমানী শক্তি দিয়ে
প্রেমেরও ভক্তি দিয়ে
তোমাকে করি যে তাই বরণ হে।

মায়া নদী জলে ভাঙা তরী টলে
সাধ্য নেই যে কূলে ভীড়বার
তিমির আঁধারে অকূল পাথারে
যদি না বাড়াও হাত করুণার
তুমি প্রাণপতি অকূলের গতি
তোমাতে চাই যে তাই শরণ হে।

সুখে আর দুখে ভালোবেসে বুকে
যাদের ধরেছি আজীবন
নানা অজুহাতে এ আমার সাথে
তারাই করেছে প্রহসন
বুঝলাম শেষে ওগো দয়াময়
তুমিই আমার মূল আশ্রয়।

পথহারা হয়ে অবসাদে ক্ষয়ে
যাচ্ছি করে যে পথ সন্ধান
তুমি ভালোবেসে পরম আবেশে
হও না সদয় হে মেহেরবান
আশা এই মনে বিদায়ের ক্ষণে
তোমারি স্মরণে চাই মরণ হে।

গীতিকবিতা :: ২

অনাচার আর অনিয়ম করে
জীবন করেছি আমি শেষ
দয়াময় প্রভু সব ভুলে তবু
আমায় করেছো আশ্লেষ।

তোমার আদেশে তোমার নিয়ম
ভঙ্গ করেছি আমি হরদম
তবু ক্ষমা করে, পরম আদরে
ভালোবাসা দিয়েছো অশেষ।

দোষী নির্দোষ সকলের প্রতি
ঝরাও করুণা, করো না তো ক্ষতি
তাইতো দয়াল তুমিই মহান
তুমি ক্ষমাশীল, তুমি দয়াবান।

বুঝেও করেছি ভুল বারবার
ভাবছি এবার নাহি নিস্তার
তবু দেখি ফিরে, আমাকেই ঘিরে
আছো তুমি দয়ালু প্রাণেশ।

গীতিকবিতা :: ৩

ঝরা ফুলের কী যে আর্তনাদ
সে তুমি বুঝবে না কোনদিন
ভাঙা কূলের কী যে দুঃখবোধ
সে তুমি খুঁজবে না কোনদিন।

প্রেমের মধুর খেলা খেলে
হৃদয়ে দিয়েছো তুমি
আবার আগুন জ্বেলে
কখনো ভাবিনি এমনি করেই
সাজানো বাগান ভেঙে করে দেবে লীন।

হৃদয়ে আশার আলো জ্বেলে
নিভিয়ে দিয়েছো তুমি
আবার তা অবহেলে
কখনো বুঝিনি এত সহজেই
আশার প্রদীপ নিভে হবো আশাহীন।

গীতিকবিতা :: ৪

মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে গেছে
তোমার ছেলে মাগো
হাতে নিয়ে ভাতের থালা
বুকে ধরে অনেক জ্বালা
এখনো রাত জাগো।

বাংলাদেশের জন্ম হলো
যাঁদের ত্যাগের জন্য
ইতিহাসের পাতায় পাতায়
তাঁরাই অগ্রগণ্য
তাঁদের জন্যই পেয়েছি আজ
আলোর প্রভাত মাগো।

স্বাধীন দেশে স্বাধীন ভাবে
ঘুরছি যাঁদের জন্য
কোটি প্রাণে জায়গা তাঁদের
তাঁরাই ধন্য ধন্য
তাঁদের জন্যই চোখে বহে
জলের প্রপাত মাগো।

গীতিকবিতা :: ৫

এখনো ফাগুন আসে অপরূপ বেশে
এখনো আঁধার চিরে চাঁদ ওঠে হেসে
শুধু তুমি নেই বলে
ব্যথার সাগরে আমি যাই ভেসে ভেসে।

অপরূপ ফাগুনের
রূপের বৃষ্টি
করে না যে মনে আর
সুখের সৃষ্টি
চোখের আড়ালে যখন হারালে
কী হবে জীবনে মধুর ফাগুণ এসে।

মধুময় চাঁদকেও
লাগে না মিষ্টি
পারে না যে কেড়ে নিতে
আমার দৃষ্টি
না পেলে তোমারে হৃদয় মাজারে
কী হবে সুখের নীড় গড়ে ভালোবেসে।

গীতিকবিতা :: ৬

মাতৃভাষা বাংলা আমার
বড় ভালোবাসি
এই ভাষাতে কাঁদি আবার
এই ভাষাতে হাসি।

এই ভাষাতে আমার মায়ের
মুখে হাসি ফোটে
ফুলের ‘পরে গুনগুনিয়ে
হাজার অলি জোটে
এই ভাষাতে রাখাল বাজায়
মিষ্টি মধুর বাঁশি।

এই ভাষারি বাউল গানে
হৃদয় আকুল করে
গাছের ‘পরে কলকলিয়ে
পাখিরাও সুর ধরে
এই ভাষাতে মুর্শীদি গায়
গাঁয়ের সরল চাষী।

গীতিকবিতা :: ৭

লজ্জা না সংশয়
না অজানা কোন ভয়
এখনো তোমাকে বিতাড়িত করে
নাকি অযথাই ঘৃণার আগুন
পুষে রাখো অন্তরে।

হঠাৎ সেদিন তুমি
কী যেন বলতে এসে
মিছেমিছি অবশেষে
কিছু না বলেই চুপিচুপি গেছো সরে।

তোমার সে ব্যবহার
এখনো আমার মনে
অহেতুক ক্ষণে ক্ষণে
বিষাদের সুরে মনটাকে দেয় ভরে।

গীতিকবিতা :: ৮

জীবন সাজাতে চেয়েছিলে ফুলে ফুলে
পেয়েছ কী তা আমায় ভুলে
হয়তো বা পাওনি
( তবু ) তো আমার পানে ফিরে চাওনি।

একদিন দিয়েছিলে পথের দিশা
অবশেষে দিয়ে গেছো রাত অমানিশা
নিজেই নিজের ভুল বুঝতে পেরেও
কেন যে আমার গান গাওনি।

একদিন জ্বেলেছিলে প্রদীপ শিখা
অবশেষে বুঝে গেছি সব মরীচিকা
জীবনে যখন আর আসবে না ফিরে
কেন স্মৃতি গুলো মুছে যাওনি।

গীতিকবিতা :: ৯

যেখানেই যাই যেখানেই থাকি
মনকে কী করে বল ধরে রাখি
গ্রামের মায়ায় মন ঠিকই ছুটে যায়
এখনো যেখানে গেলে
স্নেহের আঁচল মেলে
মা যে ডাকে আয় খোকা আয়
আমার বুকের মাঝে আয়।

পাখিদের কলরবে
যেখানে সকাল হয়
হৃদয়ের ভালোবাসা
যেখানে শাশ্বত রয়
সামান্যতে হানাহানি
মিছে কথা কানাকানি
যেখানে হয় না কভু
চল না সবুজ সেই শীতল ছায়ায়।

তটিনীর কলতানে
যেখানে নাচে হৃদয়
জীবনের গতিধারা
যেখানে কৃত্রিম নয়
সামান্যতে কাটাকাটি
ভুল পথে হাঁটাহাঁটি
যেখানে হয় না কভু
চল না অবুঝ সেই মায়ের মায়ায়।

গীতিকবিতা :: ১০

দূরে আছি ভালো আছি
তোমার কাছে আসতে বলো না
আবার আমায় নতুন করে
চোখের জলে ভাসতে বলো না।

যে আগুনে পুড়ে পুড়ে
হয়ে গেছি অঙ্গার
চাই না আবার এ মনে হোক
প্রণয়ের সঞ্চার
(যে) ভালোবাসায় দুঃখ থাকে
এমন ভালো বাসতে বলো না।

স্মৃতির ধূলো উড়ে উড়ে
হয়ে গেছে নিঃশেষ
চাই না আবার নতুন কোন-
ঘটনার উন্মেষ
(যে) হাসির পরে কান্না আসে
এমন হাসি হাসতে বলো না।

Facebook Comments