শেয়ার করুন:

বলছি তোকে, রোদ

এই শহরের সবচে উচুঁ বাড়ি
অনেক উঁচু, মাটির সাথে তাই দিয়েছে আড়ি।
মাটির ওপর হাঁটছে মানুষ, ছুটছে গাড়ি ঘোড়া
কেউ বসে নেই, ছুটছে সবাই, ছুটছে জোড়া জোড়া।

এই শহরে সূর্য ওঠে ভোরে
সবাই বলে, দ্যাখ চেয়ে দ্যাখ ওরে
প্রথম নরম রোদ পড়েছে উঁচু বাড়ির গায়ে
নামছে সে রোদ দেয়াল বেয়ে, নামছে পায়ে পায়ে।
নামছে ধীরে, নামছে নীচে, যখন ছোঁবে মাটি
রঙে রঙে সূর্য তখন গোল রঙের এক বাটি।
রোদকে জানি সর্বজনীন, কিন্তু অনেক পরে
দেয় দেখা ক্যান বস্তিতে আর ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে?
উঁচু নীচুর যে ভেদাভেদ রোদ সেটা কি মানে?
কী আছে ঐ অট্টালিকায় যা প্রথমে টানে?

বলছি তোকে, রোদ
আমরা মানুষ, দিনে দিনে ভুলছি বিবেক বোধ।
হচ্ছি ছোট দিনে দিনে, হচ্ছে ছোট মন
মন দিয়ে তুই, শোন
হোস না এমন তুই
সবার আগে মাটিতে আয়, আমরা তোকে ছুঁই।

আকাশ ছোঁয়ার গল্প

সুপুরিগাছ ভাবে
আর কতটা উপরে সে যাবে?
ডাইনে বাঁয়ে যেদিক তাকায় সবাই নিচে তারই
ভাব আসে তার, এখন আমি অনেক কিছুই পারি।

আমার চেয়ে লম্বা
শুধুই আকাশ, তারচে আমি কতটুকু কম বা।
হাত বাড়ালে কদিন পরে তাকেও ছোঁবো আমি
কি হবে আর তাকিয়ে নিচে, আমি ঊর্ধ্বগামী।

এক ছোট গাছ বলে
সুপুরিগাছ কেন হঠাৎ নিজের মতো চলে?
আর মেশে না কারুর সাথে, ধার ধারে না কারো
বদলে গেল কেন এমন বলতে কি কেউ পারো?
কদিন আগেও হাসতো হো হো নাচত দুলে দুলে
কি ঘটেছে যার কারণে সব গিয়েছে ভুলে?

সেদিন বিকেলবেলা
কদিন থেকেই আকাশে মেঘ করছিল বেশ খেলা।
হঠাৎ এলো বৃষ্টি ভীষণ, ঝড় এলো তার পিছে
তীব্র ঝড়ে সুপুরিগাছ আছড়ে পড়ে নিচে।
কাতরে ওঠে যন্ত্রণাতে, ডাকতে থাকে জোরে
কোথায় আছিস বন্ধু তোরা ওরে!

দৌড়ে ছুটে আসে
সেই ছোট গাছ এবং যারা থাকত আশেপাশে।
জড়িয়ে ধরে বলে ও ভাই, ভয় পেয়ো না আছি
এই দেখো সব তোমার কাছাকাছি।

সুপুরিগাছ ভাবে
মূর্খ আমি, নইলে ভাবি আকাশ ছোঁয়া যাবে?

জাতির পিতার জন্মদিন আজ

সকালটা আজ অন্যরকম, গাছের সবুজ পাতা
সূর্যকে সে বলছে ডেকে, খোলো নতুন খাতা।
চারদিকে আজ ছড়াও আলো, বসবে আলোর মেলা
আজ সারাদিন খেলবো সবাই লাল সবুজের খেলা।

এদিনটা আজ অন্যরকম, লাগছে মধুর, ইস
বাজছে কানে অন্যভাবে দোয়েল পাখির শীস।
আকাশে সাজ অন্যরকম, করছে বরণ কাকে?
টকটকে লাল সূর্য উঁকি দিচ্ছে মেঘের ফাঁকে।

আজকে নদী অন্যরকম, ছুটছে দারুণ বেগে
নতুন করে ছুটবে বলে ছিলো সে রাত জেগে।
প্রশ্ন করে ছোট্ট মেঘ এক, এত্তো খুশী কেনো?
হাসলো নদী, কথা বলার নেই কোনো তর যেনো।

গাছগাছালী হাসছে সবাই, গাইছে দুলে দুলে
কি হয়েছে আজ তোমাদের? একটু বলো খুলে।
তাকিয়ে দেখি পাহাড়ও নেই চুপটি করে বসে
ডাকছে আমায় হাত বাড়িয়ে সেজেছে আজ তো সে।

মাঠের ফসল হাসছে সেও, কি মনোরম আহা
সবার মুখে দীপ্ত হাসি, বলছে বাহা বাহা।
এদিন যেনো অন্যরকম, নাচছে প্রজাপতি
নাচছে ঘুরে ফুলে ফুলে, ফুল প্রিয় তার অতি।

জাতির পিতার জন্মদিন আজ,
তোমরা কি তা জানো?
তাই এতো সাজ প্রকৃতিতে, বরণডালা আনো।
বলছে মুজিব, সবাই ভালোবেসো এ দেশটিকে
লাল সবুজের ঐ পতাকা হয় না যেনো ফিকে।

মন বলে চল খোলাবাড়ি

চারদিকে তার অথই পানি মাঝখানে সেই গ্রাম
খোলাবাড়ি নাম।
গ্রাম সেতো নয়, ছোট্ট সবুজ দ্বীপ
কিশোরী মেয়ে দিয়েছে তার মাঝকপালে টিপ।

হালতি বিলের পাশে
খোলাবাড়ি গ্রাম যেন এক নৌকা হয়ে ভাসে।
ভাসছে খোলাবাড়ির মানুষ ,ভাসছে যেন হাঁস
বিলের জলই বন্ধু তাদের বিলের জলই শ্বাস।
বিলের জলই প্রাণ
বিলের সাথেই তাদের সকল মান আর অভিমান।

শহর থেকে দূরে
খোলাবাড়ি বাঁশির মত ডাকছে সুরের সুরে।
পাগল করা হু হু বাতাস , বইছে সারা দিনই
ইচ্ছে করে বাতাস কিছু পয়সা দিয়ে কিনি।
অপূর্ব এক আলোর আভা সন্ধ্যা হলে নামে
খোলাবাড়ি গ্রামে।
হ্যারিকেন আর মোমের বাতি টিমটিমিয়ে জ্বলে
জ্বলছে হাজার জোনাক পোকা দূর থেকে লোক বলে।

মন বলে চল হালতি বিলে, খোলাবাড়ি থাকি
খোলাবাড়ির ছবি মনের ক্যানভাসেতে আঁকি ।

ঘোর লেগেছে

দুই দিকে ট্রেন যাচ্ছে ছুটে দুইটি
পাহাড়িকার জানলা পাশে বসে আছে সুইটি।
ওপাশ থেকে জয়ন্তিকা আসছে তখন ছুটে
ঢাকা সিলেট রুটে।

পাহাড় থেকে ঠান্ডা বাতাস লাগছে এসে গায়ে
সুইটি তখন মুখ দিয়েছে হালকা গরম চায়ে।
লাগছিলো তার ভীষন ভালো
আকাশে মেঘ জমছে কালো
বৃষ্টি যদি আসে
জার্নি আরো জমবে তখন
করছে আশা তা সে।

প্রকৃতি আজ সাজছে
কু ঝিক ঝিক শব্দ যেন ঝুমুর ঝুমুর বাজছে।
ট্রেনের সাথে তাল মিলিয়ে মেঘ দুরে ঐ ডাকছে
সুইটি বসে সেই ছবিটা ক্যানভাসে তার আঁকছে।
গাছগুলো সব জোর বাতাসে পড়ছে হেলেদুলে
বৃষ্টি ফোঁটা ফোঁটা এসে লাগছিলো তার চুলে।
মাঝে মাঝে বিদ্যুতেরহ চমক
ভালোবেসে দিচ্ছে তাকে ধমক
ও মেয়ে তোমার নেই কোনো ভয় কেন?
নেই কিছু কি একটু তোমার জ্ঞানও?
বৃষ্টি ঝড়ে সবাই যখন বন্ধ রাখে দোর
তখন তোমার মনের ভেতর লাগলো এ কোন ঘোর?

ঘোর লেগেছে, ঘোর লেগেছে, ঘোর লেগেছে তার
বাংলা মায়ের এরুপ সে চায় দেখতে যে বার বার।

Facebook Comments