শেয়ার করুন:

গীতিকবিতা :: ১

আমার প্রতিটি শ্বাস
এ দেশের কাছে ঋণী,
জন্মেছি আমি দেশের জন্য
ভুলবো না কোন দিনই
এ দেশ আমার প্রাণ,
শপথের সুরে বলি বুক ছুঁয়ে
আমার দেশ মহান।।

ভাষা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ
আরও যতো জয় গাঁথা,
সূর্যের মতো উজ্জ্বল হয়ে
রয়েছে স্মৃতির পাতা
সে স্মৃতি আমার অসীম প্রেরণা
শুভ আগামীর গান।।

‘আমার সোনারবাংলা’- জানি
প্রতিটি বর্ণ যার,
গভীর আবেগে তোলে অন্তরে
স্বপ্নের ঝংকার।

জাতি ধর্মের উর্ধে আমরা
এক হয়ে প্রাণে প্রাণে
স্বপ্নের শত রংধনু আঁকি
স্বদেশের জয় গানে।
সে গান প্রতিটি বাঙালি হৃদয়ে
চেতনায় মহীয়ান।।

গীতিকবিতা :: ২

জেগেছে বাংলাদেশ
জীবনের উচ্ছ্বাসে,
তার ছোঁয়া যেন লেগেছে বাতাসে
বনের সবুজ ঘাসে,
শুভ আগামীর পথ রচনায়
প্রত্যয়ে বিশ্বাসে।।

আজ) বাতাসের গানে শপথের সুর,
পায়ে পায়ে চলে চেনা রোদ্দুর
লক্ষ্য জয়ের স্বপ্নে বিভোর
পুলকিত প্রাণ হাসে।।

যেন) পিকাসোর তুলি বাঙালির মন,
দিকে দিকে তারই গ্রন্থিমোচন।
আশার আগামী আঁকে রংধনু
দিগন্তের আকাশে।।

গীতিকবিতা :: ৩

কারো কারো জীবনের গল্পটা
হয় না কিছুতে মধুময়,
করুন রসেই যেন শুরু তার
করুন রসেই শেষ হয়।।

মনের মাধুরি দিয়ে রচিত সে গল্পটা
নয়নের জলে একাকার,
‘ছোট প্রাণ, ছোট ব্যথা এ রীতির সীমানাটা
ভেঙেছে সেখানে বারবার।
সেই) ব্যথাগুলো জমে জমে মেঘ হয়ে, ঝড় হয়ে
নেমে আসে বুকে নির্দয়।।

আলোর পাখিরা গানে সাজায় যে ফাল্গুনী
সে আলোয় রাঙে তারও প্রাণ,
সে আলোর মণিদীপ হৃদয়ের ভাঁজে আঁকে
সুশোভিত তারার বাগান।
সেই) আলো যেন মরীচিকা নিমিষে মিলিয়ে যায়
পড়ে থাকে শূন্য হৃদয়।।

গীতিকবিতা :: ৪

হাজার বছর পৃথিবীর পথে হেঁটে
জীবনানন্দ পেয়েছিল খুঁজে তার প্রিয় বনলতা,
তোমার জন্য আরও বেশি পথ
হাঁটতেও আমি রাজি,
প্রেমের প্রশ্নে আপোষ হবে না
এ আমার শেষ কথা।।

কবির ভাষায় করবো না আমি রূপের বিশ্লেষণ,
তুমি সুন্দর, এর বেশি বলা নেই কোন প্রয়োজন।
তোমাকে ঘিরেই স্বপ্ন আমার যা কিছু চঞ্চলতা।।

কোথায় ছিলাম এতো দিন আমি, যদি না জানতে চাও
তোমার মনের গোপন কথাটি পড়ে নেব আমি তাও।
প্রেমের জন্য মরণ হলেও সে মরণে অমরতা।।

গীতিকবিতা :: ৫

স্মৃতিসৌধের সামনে দাঁড়ালে অন্তরে জাগে
তিরিশ লক্ষ প্রাণ,
জীবন দিয়েও গেয়েছিল যাঁরা
মহাবিজয়ের গান।।

আমি) দেখেছি সে প্রাণে সাহস আর প্রত্যয়,
আঁধার তাড়ানো ভোরের সূর্যোদয়।
দেখেছি দৃঢ়তা, বীরত্ব আর চেতনার উত্থান।।

আমি) শুনেছি সে প্রাণে স্বপ্ন বাঁশির সুর,
সে সুর আমাকে পৌঁছে দেবেই সুদূর।
জীবনের পথে তারা আগামীর
প্রেরণা যে অফুরান।।

গীতিকবিতা :: ৬

ইতিহাস বলো অথবা পূরাণ,
আমি) শুনেছি সেখানে শত প্রেয়সীর
সকরুণ ক্রন্দন,
দেখেছি সমাজ, বংশ ফণীর নির্মম দংশন,
তবু) প্রেম স্বর্গীয়,
প্রেমের জন্য ধন্য আমি যে ধন্য এ জীবন।।

যুগে যুগে দেশে দেশে,
প্রেমিক ভেঙেছে সকল বাধাই
জীবন দিয়েছে হেসে।
সেথা) কখনো বেজেছে মিলনের সুর,
কখনো বিসর্জন।।

জানি শত যুগ পরে,
একই বিরহে জ্বলবে আগুন
প্রেমিকের অন্তরে।
জানি) তবু চিরদিন প্রেমের স্বপ্নে বিভোর থাকবে মন।।

গীতিকবিতা :: ৭

এ জীবনে খুব বেশি চাওয়া পাওয়া
ছিলো না আমার,
জানি না তবুও কেন স্বপ্নের দীপগুলো
নিভে নিভে যায় বারবার।।

চাইনি কখনো আমি ছুঁয়ে যেতে
অসীমের নীল,
সুখের আকাশে কারো
সাঁঝের তারাটি ঝিলমিল।
বুঝি তাই, জীবনে এলো না কোন বসন্ত
কৃষ্ণচূড়ার।।

মানতে শিখেছি আমি অকারণে
শত পরাজয়,
সবার মেলে না সুখ এতো দিনে
জেনেছে হৃদয়।
আজও তাই নীরবে চলেছি বয়ে
নিষ্ঠুর নিয়তির ভার।।

গীতিকবিতা :: ৮

এ বুকেও মন ছিলো
চাওনি কখনো তারে জানতে,
সেই মনে প্রেম ছিলো
‘নিকষিত হেম’ ছিলো
পারলে না আজও তুমি মানতে।।

যদি) ভালোবেসে এই চোখে
রাখতে দু’চোখ,
তবে) বুঝতে আমি যে এক
তৃষিত চাতক।
কিছুই ছিলো না চাওয়া,
সব কিছু হতো পাওয়া
একবার যদি কাছে টানতে।।

তুমি) যতো দূরে থাক তবু
জেনো জীবন,
আমি মনে মনে তোমাকেই
জেনেছি আপন
ফাগুনে শ্রাবণে তুমি,
জীবনে মরনে তুমি,
মিশে আছো হৃদয়ে অজান্তে।।

গীতিকবিতা :: ৯

বেলা না ফুরাতে যে আকাশ থেকে
আলোটুকু নিভে যায়,
ব্যথার কী রূপ সে আকাশ শুধু জানে,
রংধনু আঁকা হৃদয় জানে না
একাকীত্বের মানে।।

যে পাখি সঙ্গী হারা,
কেউতো দেখে না অন্তরে তার
ব্যথার ফল্গুধারা।
স্বপ্ন ভাঙা স্মৃতিটুকু শুধু
সঞ্চয় যার প্রাণে।।

যে ছবি যায় না ভোলা,
বুকের গভীরে জীবন্ত হয়ে
দেয় বসন্ত দোলা।
অশ্রু লুকায় যে আকাশ আজও
সকরুণ গানে গানে।।

গীতিকবিতা :: ১০

কি কথায় সব কিছু হয়েছিলো শেষ,
তোমার অজানা সেতো নয়,
আমি) নীরবে নিয়েছি মেনে এই ভেবে
সব অভিযোগ,
আমার হারেই হোক তোমার বিজয়।।

স্বপ্নের দিনগুলো পড়ে মনে,
সুখের স্মৃতিরা করে ভিড়,
ব্যবধান শুধু আজ, আমাকেই ভেবে ভেবে
তুমি আর হও না অধীর।
মন জানে, এ বিরহ কী যাতনাময়।।

সব কাজ ভুল করা এই যেন
চিরদিন নিয়তি আমার,
সবাই বুঝেছে ভুল, তুমি কেন ভালোবেসে
হৃদয়ে জড়াবে বলো আর!
এই ভালো মুছে যাক সব পরিচয়।।

Facebook Comments