সাজ্জাদ বিপ্লব নব্বই দশকের অন্যতম কবি, সম্পাদক ও গবেষক। জন্মশহর বগুড়ায় গড়ে তুলেছেন বই ও পত্র-পত্রিকা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কেন্দ্র ও পুণ্ড্রনগর লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি। জন্ম ২৩ এপ্রিল ১৯৭১। পিতা : মরহুম তোজাম্মেল হোসেন ও মাতা : মরহুমা রমেনা খাতুন। ৫ ভাই ২ বোনের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ। বর্তমানে তিনি স্বপরিবারে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন আটলান্টা, জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে। সহধর্মিনী: ফাতিমা জান্নাত, কন্যা: সাইফা সামিয়া ও পুত্র: আরিয়ান সাজ্জাদ।
প্রকাশিত গ্রন্থ :
কবিতা : পৃথিবী তোমার নয় [১৯৯৭], কবিতাং শরণং গচ্ছামি [২০০০], গ্রাসের গোঁফ [২০০৬], তুমি ছাড়া আমার কোনো বসন্ত নেই [২০১৬], স্বপ্নশিকারীদের অরণ্য বিহার (যৌথ) [২০১৬], আমি কারো শত্রু নই [২০১৭], দাঁড়িয়ে আছেন, গীন্সবার্গ [২০১৭], আমার হাঁসগুলি কবিতা পাড়ে [২০২৩], এ মিছিলে আমিও ছিলাম [২০২৪], প্রেম ও প্যারিস [২০২৫], ছায়া হয়ে মায়া হয়ে [ ২০২৬]
ছড়া :
চলো সবে লড়ি [১৯৯৫], টুকটাকটুক [১৯৯৫], সাম্প্রতিক ছড়া [১৯৯৮], সেই ছেলে আমি [২০১৭]
সম্পাদনা :
লিটল ম্যাগাজিন : পঙক্তি, লিমেরিক, বিকেল, স্বল্পদৈর্ঘ্য, বাংলা রিভিউ।
ওয়েবজিন সম্পাদক: banglareview.net
সম্পাদিত গ্রন্থ : কবিতা : নব্বইয়ের কবিতা : অন্য আকাশ [২০০১]
সাক্ষাৎকার :
সাক্ষাৎকার আল মাহমুদ [২০০২]
প্রবন্ধ-গবেষণা:
প্রসঙ্গ: নব্বই দশক [২০০৩], বগুড়ার ছড়া: চর্চার অর্ধশতক [২০১৭]
পুরস্কার ও সম্মাননা :
লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনের জন্য পেয়েছেন- কণ্ঠশীলন সম্মাননা পদক ২০০৬ যশোর থেকে। কবিতায় পেয়েছেন: শব্দশীলন সাহিত্য পুরস্কার ২০০৮, ঢাকা থেকে। ২০১৬ তে ‘বাংলা ধারা’ কর্তৃক সংবর্ধিত হন আটলান্টা, জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ২০২৪ পেয়েছেন ‘আল মাহমুদ’ পদক নাবিক সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ, ঢাকা থেকে। শাহ আব্দুল হালিম (র.) পদক ২০২৫ পেয়েছেন আল মাহমুদ চর্চার জন্য, ঢাকা থেকে।
সাজ্জাদ বিপ্লব সম্পর্কিত ৩ টি বই :
রুচির সাগরে একা, মাসুদ কামাল ও রহমান তাওহীদ সম্পাদিত [২০০৮] বগুড়া, বাংলাদেশ।
পেরিয়ে ৫০, রহমান তাওহীদ সম্পাদিত [২০২৪] বগুড়া, বাংলাদেশ ও আটলান্টা, জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।
পৃথিবীর সমান বয়সী [ ২০২৬], রহমান তাওহীদ ও আল নোমান সম্পাদিত।]
সাজ্জাদ বিপ্লব এর দশ কবিতা
স্ট্যাচু অব লিবার্টি
কত পথ পেরিয়ে এলাম
সয়েও গেলাম কত ঝড়
কত ঘাস মাড়ালাম
কত দিন হলো রাত
তুমিও হাতে রাখলে হাত
আমি হয়ে গেলাম স্ট্যাচু অব লিবার্টি
৪.১৮.১৭
মন
মন ভালো নেই, মন ভালো নেই
মনের কি দোষ?
মন আছে এই, মন আছে? নেই।
মনের কি দোষ?
সবটুকু দোষ
আমার।
আমি মানুষ আমি মানুষ
রক্তে-মাংসে গড়া
প্রভু
তোমার এক আশ্চর্য
খামার।
মন ভালো নেই মন ভালো নেই
মনের কি দোষ?
আমি তোমার হাতের পুতুল
আমি মানুষ আমি মানুষ
সবটুকু দোষ
আমার।
৪.১৮.১৫
শ্যাম্বলী স্টেশন, আটলান্টা।
দিগন্ত টিভির জন্য
কে করে প্রশ্ন কে চায় উত্তর
ধুত্তোর
ধুত্তোর
তারে করো সবে
করুণা
মালিকের কাছে সমুদ্র চাও
পাবে, সুপেয় জল
মরু না।
৪.১৮.১৫
আটলান্টা, জর্জিয়া।
যদি যাই
যদি যাই সাতমাথায়
মালতীনগর নওয়াববাড়ি নামাজগড়
কারুপল্লী উডবার্ণ গোকুল
মহাস্থানগড়
আকবরিয়া শ্যামলী আলীবাবা
এশিয়া
আলতাফুন্নেসা সাতানী বাড়ি
জলেশ্বরীতলা
ফতেহআলী ব্রীজ দত্তবাড়ি
করতোয়া করতোয়া
আমার প্রাণের শহর…
অতএব বিপ্রতীক অর্কেস্ট্রা
স্বল্পদৈর্ঘ্য
কিছুই নেই জানি
আগের মতো
শুধু তুমি ছাড়া
৫.২৩.১৫
আটলান্টা, জর্জিয়া
কি হইছে
কি হইছে কবি’র আজ?
ক্যান সে চেতছে?
তারা কি দেখে না
আমরা কত ব্যস্ত দেশের উন্নয়ন নিয়া
বৈশাখী দুষ্টুমি কাণ্ডের পর
এবার গারো গণধর্ষণ…
আমরা কি বলুন অবদান রাখছি না?
তবে ক্যান কবি দোষান আমাগো
চাষীটারে, থুক্কু গর্দভটারে
ক্যান দোষাইতে ভয় পান
গভর্নেসটারে
ক্যান যান না শাহবাগে?
ভয় জাগরণ মঞ্চে?
ক্যান সব্যসাচীরে দেন না
ফেমিকন পদক?
তবে কি আমরা
এমন কবিদেশ চেয়েছিলাম?
৫.২৩.১৫
আটলান্টা, জর্জিয়া
জন্মদিনের কবিতা
[যারা এ দিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তাদের মঙ্গল কামনায়]
আমার প্রিয় ঋতু বর্ষায়
আমি ভিজছি আনন্দে
আমার মন বলছে ঠিক
আমি হারাবো না দিক
পৌঁছে যাবো, তোমার সম্মুখে
হাসি মুখে
৪.২৩.১৭
এগিয়ে যাওয়া
এগিয়ে যাচ্ছি আমি
এগিয়ে যাচ্ছো তুমি
এগিয়ে যাচ্ছে দেশ
বেশ, বেশ
আমরা এগিয়ে গেলে, এগিয়ে যাবে
বাংলাদেশ
শেষমেশ।
৪.১৭.১৬
আটলান্টা, জর্জিয়া
শুদ্ধতার জন্য
দ্রৌপদীরা এবার বস্ত্রহরণ করুক
পাণ্ডবদের
কুরুক্ষেত্র লেগে যাক
রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে
আমি, ধৃতরাষ্ট্র, দেই
অনুমতি
এই যুদ্ধের।
শুদ্ধতার জন্য
একটি যুদ্ধ
করাই যেতে পারে
এই সাতসকালে।
পৃথিবী কাঁদে
একটি যুদ্ধের জন্য
আর
আমরা কাঁদি
শুভ্রতার জন্য…
৪.১৬.১৫
আটলান্টা, জর্জিয়া।
সভ্যতার শেষ সূর্য
সভ্যতার শেষ সূর্যকে
আমরা কবরস্থ হতে দেখেছিলাম
বেশ কয়েক বছর আগে
শাহবাগে
গতকাল পালিত হলো মৃত্যু বার্ষিকী
টি এস সি তে
ইমামতি করলেন
মাননীয় ভিসি
জনাব ক.খ.অ. আ.ম বুদ্ধির ঢেকি
পঞ্চপাণ্ডবসহ দেশের অন্যান্য
শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা
এতে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলেও
সংবাদ সূত্রে জানা গেছে
আপনি কি উপস্থিত ছিলেন
হে মহামান্যা, দ্রৌপদী?
৪.১৬.১৫
আটলান্টা, জর্জিয়া।
ছেলেকে
[আরিয়ান সাজ্জাদ এর আর্ট স্টার এওয়ার্ড প্রাপ্তি উপলক্ষে]
সরল মনের মানুষ হও
তরল মনের মানুষ না।
মানুষ মানে মস্ত কিছু।
হাওয়ায় ওড়া ফানুস না।
(কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীদের বড় কষ্ট। বাজান, তুই অন্য কিছু হ…)
৪.১৪.১৬
আটলান্টা, জর্জিয়া


