রনজু রাইম নব্বই দশকের অন্যতম কবি ও সাহিত্য সম্পাদক । জন্ম ৬ জুন ১৯৭৪, তালজাঙ্গা, তাড়াইল, কিশোরগঞ্জ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর।
পেশা : শিক্ষকতা। অর্ধাঙ্গ : অরেঞ্জ মমতা চৌধুরী। পুত্ররত্ন : অনুসূর্য শ্রেয়।
অভিজ্ঞতা : সাহিত্য সম্পাদক: যুগান্তর, ভোরের কাগজ, আমাদের সময়, মানবকণ্ঠ, পূর্বপশ্চিমবিডিডটকম। অ্যাসোসিয়েট এডিটর: আমাদের সময়। ফিচার এডিটর: সকালের খবর, মানবকণ্ঠ, পূর্বপশ্চিমবিডিডটকম। সাব এডিটর: আজকের কাগজ, লালসবুজ, আজকের সভ্যতা।
কাব্যগ্রন্থ : চিত্রল প্রতিবেদন, দেবতাগণ, বারভণিতার দেশ, তালিবান, অস্পর্শিয়া, কোলাহল থেকে দূরে, শ্রেষ্ঠ কবিতা, কবিতাসংগ্রহ : ১।
উপন্যাস : দেবদূতের সঙ্গে দিনযাপন।
প্রবচনগ্রন্থ : অপ্রিয় বচন, বাণীপুত্র, প্রবচনসংগ্রহ।
গদ্যগ্রন্থ : কবিতার বাঁক ও অন্যান্য।
শিশুতোষ গ্রন্থ : শ্রেয় এখন পড়তে পারে তিড়িং বিড়িং ঘাসফড়িং।
সাক্ষাতকারগ্রন্থ: আলাপে-আড্ডায়।
সম্পাদনা : কবিতাসংক্রান্তি (ছোটকাগজ) কবিতাআশ্রম (ছোটকাগজ)
অন্যান্য : প্রাপ্তবয়স্ক ছড়া
ভরসামঙ্গল
বৃষ্টি চেয়ে ভরসা রাখি মেঘে
বর্ষাকালে নদীরা বয় বেগে।
মাছ ধরতে নৌকা চড়ে বসি
জাল ফেলেই ধরছি টেনে রশি।
রশি বাঁধা সংসারের পায়ে
তাকান যায় না ডানে কিংবা বাঁয়ে।
ঠান্ডা জেঁকে বসছে হাতে পায়ে
এই সুযোগে চুমুক দেই চায়ে।
চায়ের বাড়ি সিলেট পঞ্চগড়
জেগে উঠছে মৃদু কণ্ঠস্বর।
ভরসা রাখি তোমার হাতের চায়ে
অনেক দূর যাবোই পায়ে পায়ে।
লিভ ইন
ক্লিওপেট্রা ভোর ফুটে
চা ঢালে প্রেম বিস্কুটে।
চায়ের কাপে কৃষ্ণ ভাব
ফেনাভর্তি বাথটাব।
সকাল গিয়ে মধ্য দিন
কার সাথে কার লিভ ইন?
সময়টা তো এই রকম
হৃদ বলে না হই জখম।
প্রেম বাগানে কাঁটার ছল
হৃদয় দিয়ে লাভ কী বল!
সুইসাইড নোট
দেশ দিয়েছে মৃত্যু ফাঁদে পা
তোমার আমার মরতে বাকি নাই
বাঘে ছুঁলেই গায়ে আঠারো ঘা
বিশ্ববাসী দেখছে তামাশাই।
মরতে যদি হয় মর তো বেশ
মরার আগে কাপুরুষই মরে
এই মৃত্যু ছড়াবেই বিদ্বেষ
শান্তি তুমি পাবে না কবরে।
কী লেখা আছে কার মৃত্যু নোটে
সেই খবর জানেন দেশবাসী
আমার মৃত্যু আমারই করপুটে
হোক বয়স আটাশ কিংবা আশি।
শাহবাগ
ওপাশে দাঁড়িয়ে সারি সারি গাছশিশু
এপাশে তখনো শুনশান নীরবতা
চত্বরে দেখি ক্রুশবিদ্ধ যিশু
শাহবাগ জানে সবার মনের কথা।
ছবির হাটে যে পাতাদের বৈভব
ঘূর্ণি হাওয়া ঝড় তোলে শাহবাগে
সারাদেশ ছুটে দলেবলে করে স্তব
সময়ের ডাকে শাহবাগ শুধু জাগে।
শাহবাগ দেয় মৃত্যুর ডাকে সাড়া
গণচত্বর দাঁড়ায় বক্ষ পেতে
মৃত্যুর মুখে দেশকে দেয় পাহারা
সহস্র প্রাণ থাকে বিদ্রোহে মেতে।
শাহবাগ ডাকে আয় আয় ছুটে আয়
শুনলে সে ডাক ঘরে বসে থাকা যায়?
গুলি
নিথর দেহ পথের মাঝে একা
ঝাঁঝরা বুকে যায় যে ক্ষত দেখা।
গুলি কি আর মানুষ চিনে
কিংবা সাদা কালো
রাজনীতিতে কে কোন দলে
কে মন্দ কে ভালো।
সে হিসেব কে কষবে বলো
ঠুস করিলে ফুস
মারার আগে এই বিষয়ে
থাকে কি আর হুশ।
নল যে দিকে তাক
শত্রু সেথা থাক
কিংবা তাকে ধরে এনেই
হাতপা বেঁধে রাখ।
শত্রু কাকে বলি
পাশাপাশিই চলি
শুধু মতের অমিল হলে
প্রতিহিংসার বলি।
একা
হাজার লোকের মাঝে পথ হাঁটি রোজ
আমারে কী করে একলা বলবে তুমি
এতো ভিড় তবু নেয় না কেউ তো খোঁজ
পড়ছি কখন মির্জা গালিব, রুমি।
মৌন মানুষ বুকে সহস্র আশা
পাঠে পাঠে যায় মগজের কোষ খুলে
নিজের ভিতর জাগে শত জিজ্ঞাসা
এমন মানুষ যায় বেশি পথ ভুলে।
হাটের মানুষ হাটুরের খোঁজ করে
খুঁজে মরি আমি দূর দিগন্ত রেখা
সবাই তো ফিরে দিনান্তে তার ঘরে
আমি পড়ে রই পথের মাঝেই একা।
একা তবু চোখে ঝলকায় সারি সারি
দিগ্বিজয়ের সাহসের তরবারি।


