অনুভবের উত্তাপ
শতরঞ্জি বারান্দায় শুয়ে থাকো
সাদা মেঘে কড়া রোদ দেখে দেখে
কিসের উষ্ণতা প্রতীক্ষা কর
কোন উত্তাপে গলাচ্ছ আতশী মন
পড়ন্ত বেলার সেই ক্যানভাস থেকে
অনুভব করি ভরন্ত দুপুর।
বিকেল মায়ায় হয়তো ঝরে পড়ছে শুকনো পাতা
চোখের পাতায় নেই কোন অস্থিরতা
এত মনোযোগী হয়ে পাঠালে অনুভবের উত্তাপ
কোমল বিকেলে হামি দিবে দুপুরের ভাপ
শতরঞ্জি বারান্দায় ডাকছে এখন
গভীর দৃষ্টির চঞ্চলতা!
নিজের ওপারে
ঠিকানা সন্ধানে ছুটে চলেছি অবুঝ মনে
এরকম আরো যারা সকলেই খোঁজে মাঝে মাঝে
মনে হয় পাহাড়ের অন্যপাশে যদি দেখা যেত
পিঁপড়া দুর্বার ওপারে দেখেনা
মানুষেরা পাহাড়ের ওপারে দেখে কতদূর
নিজের ওপারে দেখেনাতো অনেকেই।
তবু খুঁজে ফিরি কোন এক মায়াবী প্রতীক্ষা
কেন জানি মনে হয় সেখানেই লুকিয়ে রয়েছে
অসীম চলার পথের সমাপ্তি।
স্বপ্ন যেন কথা বলে
আনাগোনা করে করোটি অন্দরে দিনে রাতে
কত কত কোলাজ ভাবনা
ফড়িং চাই সাত রঙা
পাখি চাই কথা বলা
সবুজ বাগান চাই প্রজাপতি ওড়া
ঘি মাখন ফল রুটি চাই সকলের যেমন চাই
ছুটি চাই ধ্যানমগ্ন হব
প্রিয়ার প্রতীক্ষা চাই চারুকলা মন চাই
উঁচু দালানের পাশ ঘেঁষা মিঠা পানি নদী চাই
ইউসুফের তখত চাই স্বপ্ন যেন কথা বলে
বেহেশতী মধু চাই জিহ্বাটা সরস করা
আইয়ুবী সুর চাই সোনালী মাছেরা মুগ্ধ হোক
মুসার যাদুর লাঠি চাই চোখ রাঙাতে দুঃশাসনকে
আনাগোনা করে মন মোহনায়
ধূলা ছাড়া বায়ু চাই ফুসফুস কাঁদে
রোগ ছাড়া আয়ু চাই পরনির্ভরতা অতিমন্দ বলে
দুর্নীতির দূর চাই সমাজের ক্ষতি কেন
হিসাব নিকাশ চাই জবাবদিহিতা পোশাক পরা
রাতের শরীরে আলোর গিলাফ চাই
প্রিয়ার প্রণয়ে লাল রঙ মেঘ চাই
বোমাহীন বিশ্ব চাই পৃথিবী কোমায় কেন যাবে
রক্ত ছাড়া শান্তি চাই যুদ্ধকে না বলি
আমার দেশটা আমারই চাই।
আনাগোনা করে মনে
সময়ের সাঁকো বেয়ে ফিরে আসা ভাবনার সুর
কৈশোরের শির ছুঁতে চায় হিমালয় চূড়া
যৌবনের ঘাট চায় আরব সাগর বিস্তৃত হতে
মধ্য বয়সের পরিণত মন চায় বেবিলন জ্ঞান
কোন এক মায়াবী চোখের প্রতীক্ষা উদ্যানে।
জীবনের নাও
আপন জমিন কার ইশারায় চলে
রাঙা স্বপ্নে কোকিলেরা কানে কানে বলে
সুর রাগে দাঁড় টান পাবে প্রেম গাঁও
কত দূর বহে যাবে জীবনের নাও!
নোঙর হবে কি তার নদীর কিনারে
বালুচরে হাসে রাত জোৎস্না জোয়ারে
ভাসা ঘাটে নেমে যেতে উচাটন মন
অপেক্ষায় আছে তীরে মায়াবী স্বজন!
অবিরত খুঁজে যাচ্ছে প্রকৃত ঠিকানা
পরম স্বজন কোন বন্দরে অজানা
প্রত্যাশায় বুকে নাচে তুমুল প্লাবন
কায়া উড়ে যাবে ছুঁতে সে কাঙ্ক্ষিত ধন।
দৃঢ়চিত্ত কর্মে আসে যত বিত্ত প্রাপ্তি
প্রশ্নের উত্তরে ঘটে সন্ধান সমাপ্তি।
কেঁচো
প্রেম করে চাষ কেঁচো মাটি ফুঁড়ে ফুঁড়ে
লতা লতা টানে চলে নলাকার দেহ
কৃষকের বুকে বুনে শ্রম ঘন স্নেহ
ভালোবাসা মাখা তার ঝুরা কাদা জুড়ে।
যতদূর যেতে পারে যত দিন বাঁচে
বাদ প্রতিবাদে নেই কোনো আনাগোনা
দাঁত নখ শিঙ নেই খায় নাতো লোনা
প্রকৃতির আশীর্বাদে আজো টিকে আছে।
ক্ষুদ্র প্রাণে থাকে অনুভূতি দুঃখ সুখ
করে তারা শত তুচ্ছতাচ্ছিল্যে সবর
মিডিয়া মোগল রাখে নাকি সে খবর
ক্ষুদ্র প্রাণীদের ক্ষেত্রে হবেনা বিমুখ।
ক্ষমতা দাপটে বাড়ে যদি মন তনু
কুরে খাবে অচিরেই কষ্টের জীবাণু।
কবি পরিচিতি
মুর্শিদ-উল-আলম
মূল নাম: মোরশেদ আলম খোন্দকার
পিতার : মোফাজ্জল হোসেন খোন্দকার
মাতার : মোসাম্মদ শামসুন্নাহার বেগম
স্ত্রী : রেজিয়া সুলতানা
কন্যা : ডাঃ খোন্দকার মায়িশা আসিমা
জন্ম : ৩১ ডিসেম্বর ১৯৬৮
শিক্ষা : এমএসএস ( রাষ্ট্র বিজ্ঞান), এলএলবি
পেশা : চাকুরী, উপ-পরিচালক, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, আগারগাঁও, ঢাকা।
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম ও পোস্ট : কেন্দুর বাগ, উপজেলা: বেগমগঞ্জ, জেলা: নোয়াখালী
মোবাইল নাম্বার : ০১৮১৮২৫০৪৬৯
ই-মেইল: murshedak1@gmail.com
১৯৮৯ থেকে লেখালেখি শুরু। লিখছেন ছড়া, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা, ০৮টি। কবিতা- ঝুলে আছে পৃথিবী, ফোটা ফোটা সুখ, রঙিন ভোরের মুখোমুখি, মানুষ কখনো নদী। ছোট গল্প: রাস্তা ও কঙ্কাল, ছোট ছোট ঢেউ। ছড়া- আকাশের নানা রঙ, রোদ হলে বৃষ্টি হলে।

