আড্ডাপত্র

; ;

চন্দ্রশিলা ছন্দা এর কিশোরকবিতা

আড্ডাপত্র

অক্টো ৩১, ২০২৬ | কিশোর কবিতা, ছড়া

ছবির কবি

পথভোলা চাঁদ

দুষ্টু মেয়ের চোখের তারায় নামে যখন ঘুম
পথভোলা চাঁদ ঘরে এসে যায় দিয়ে যায় চুম
রাত্রি হলে আকাশ মাখে মেয়ের দু’চোখ জুড়ে
দুষ্টু মেয়ে স্বপ্ন দেখে বনবাদাড়ে ঘুরে।

রাত্রি হলে পথভোলা চাঁদ চুপটি করে এসে,
রূপালি টিপ দেয় এঁকে সে মিষ্টি হেসে হেসে।
তারার মালা গেঁথে সে যে বালিশ পাশে রাখে,
ঘুমপরীটা রূপকথারই মায়ায় তাকে ঢাকে।

মেঘের চাদর জড়িয়ে গায়ে ঘুমোয় শান্ত মেয়ে
স্বপ্নগুলো রাঙায় তাকে চাঁদের আলো পেয়ে।
শিশির ভেজা ঘাসের ডগায় হাসবে সকালবেলা,
মেয়েটি কি রাখবে মনে, রাতে মেঘের খেলা?

মিষ্টি রোদেই মুছে যাবে রূপালি সব টান,
পথভোলা চাঁদ গাইবে তখন বেলা শেষের গান।
২৬.১.২০২৬

শহরের মতো গ্রাম

বইয়ের পাতার ভাঁজে

নতুন বইয়ের পৃষ্ঠা জুড়ে মধুর মধুর গল্প
বাংলা সমাজ ইতিহাসও পড়ছি অল্পসল্প
জানা অজানা কত কিছু বইয়ের পাতার ভাঁজে
একটু একটু বদলেছে সব সকাল দুপুর সাঁঝে।

নবান্ন

পাখির চোখে রোদের ঝিলিক
ঝিরিঝিরি হাওয়ার গান
উঠোন জুড়ে হেমন্তিকা
পাকা ফসল সোনার ধান।

ধান বেচে মা’র কিনবো শাড়ি
জমিয়ে টাকা কাঁড়ি কাঁড়ি
চুলের কাঁটা রঙিন চুড়ি
মা বলে না থাক,
আর ক’টা দিন যাক

তোর জন্য কিনবো জুতো
রঙিন ঘুড়ি, নাটাই-সুতো
কাটবে খুশির দিন
হেমন্ত আর পাকা ধানের
কাছে আমার ঋণ।

বাবার জন্য নেব ধুতি,
দিদির জন্য আলতা লাল,
হেমন্তেরই নবান্নতে—
ঘুচবে যত নিদান কাল।

নবান্নতে পিঠা-পুলি,
হবে যে আজ সবার ঘরে,
হাসি মাখা এমন দিন—
রইবে মিশে জীবন ভরে।

নীল শাড়িতে অপরূপা

শরৎ সাজে সাদা মেঘে আকাশজোড়া নীল
ক্লান্ত ডানায় ভেসে বেড়ায় নীল আকাশে চিল।
শিউলি ছাতিম গন্ধে ভরা পুরো শরৎকাল
রংবাহারি ম্যাপল পাতা সবুজ হলুদ লাল।

শরৎ বলতে আমরা বুঝি রঙের ঐক্যতান
জলের মাঝে প্রতিচ্ছবি দেখে জুড়াই প্রাণ।
কাচের মতো স্বচ্ছ জলে যখন জোছনা ভাসে
রাত্রি শেষে শাপলা শালুক খিলখিলিয়ে হাসে।

রবির আলোয় মুক্তো দানা ঝিলিকে শিশির দল
স্নিগ্ধ শরৎ রূপটি ছড়ায় ঋতুর করতল
ঋতুর রাজা বসন্ত আর শরৎ রূপের রানী
মৃদু হাওয়ায় সবুজ ধানে সুখের দোদুলখানি।

Facebook Comments