আড্ডাপত্র

; ;

গুচ্ছকবিতা । মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন

আড্ডাপত্র

সেপ্টে ৮, ২০২৬ | কবিতা, গুচ্ছ কবিতা

কক্ষপথ

নক্ষত্রগুলো যার যার কক্ষপথে
জ্বেলে রাখে আরোপিত আলোকবর্তিকা।

শুধু তুমি কক্ষপথ থেকে
নিজেকে ক্রমাগত সরিয়ে নিয়েছ—
সহস্র মহাকালের দূরত্বের বলয়ে;
যে পথের সীমানা
অন্তহীন কালকুটে এক অন্ধকার।

বিভ্রমের মায়াজালে ঘটে তোমার সঞ্চিত মস্তিষ্কের ক্ষরণ;
দেমাঘের সেন্সর অকেজো—নিষ্প্রাণ রোবটিক চরিত,
প্রতিটি ছায়াপথের বাঁকে বাঁকে অদৃশ্য ম্যানহোল,
ফাঁদ পেতে আছে—আঁচড়ে ফেলার দৈত্যাকার ঢেউ।

তোমার বলয়ে প্রদক্ষিণ করে অগণন ড্রোন,
প্রতিনিয়ত রাখে প্রহরায়;
পর্যবেক্ষণ করে তোমার গতিবিধি ও গতিপথ।

যেখানে গড়ে তুলেছ প্রশান্তির অট্টালিকা,
রিমোটের বাটন টিপে শুষে নেবে আইসবার্গের খণ্ডগুলো;
গলে পড়বে তোমার মস্তিষ্কের সার্ভারে কাঙ্খিত বরফজল।

চেয়ে দেখ—
তোমার প্রতিটি ভীম নরবড়ে,
কেঁপে উঠেছে মিসাইল আতঙ্কে ।
হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম পুরিয়ে
তোমার অস্তিত্ব বিনাশের সময়কাল এসেছে ঘনিয়ে
অথচ, বেভুলের খেয়ালে মজে আছো মৃত্যুর মোহনায়।

স্নাইপার নলে তাক করা আজরাইল।
সময়ের অ্যালগরিদম মেপে বাজপাখির সমুন্নত দৃষ্টি
ক্রমাগত ধেয়ে আসছে—শিকারের নেশায়।

২৪.০৮.২০২৬

ধূপজ্বলা রাত

ধূপজ্বলা রাতের ঝলসানো চোখ-
খুলে দেয় উত্তপ্ত বুকের বোতাম, উলঙ্গ করে মুখচ্ছবি।
এখানে, দাঁত কেলিয়ে হাঁকডাকে
রাতের বিবস্ত্র বিশ্বস্ত প্রহরী
শুধু, যৌবনা বৃক্ষের কিশোরী লতার-
পাতার ওম থেকে নির্গত হয় কিডন্যাপের দুর্গন্ধ
উড়ে বেড়ায় ধোঁয়ার উল্কাপিণ্ড
রাত খুঁজে মানুষের মুখায়ব
আর মানুষ খুঁজে মানুষের রিদপিন্ড ।

৩০.০৮.২০২৬ ইং

অদৃশ্য দোলনা

মহাশূন্যে ঝুলে থাকা এক অদৃশ্য দোলনা
নিয়ে যায় সম্মুখপানে—দূরের গন্তব্যে,
একটি নিশ্চিন্ত আঙিনায়।
আবার, নিয়ে যায় টেনে মহাকর্ষিক বলয়ে
পেছনের অদৃশ্য কোনো ছায়াপথে,
মোহাচ্ছন্ন মায়ায়—জাগতিক করিডোরে।

এই যে, দুই দিগন্তের আড়াআড়ি প্রতিযোগিতা—
ঠেলে দেয় ভাগ্যের অসম মোহনায়;
সম্মুখে যতদূর যায়- খুলে যায় সম্ভাবনার পথ,
বিছিয়ে দেয় এক মুক্তির সাঁকো।

পেছনে শুধুই অন্ধকার—
বীভৎস, সর্বভুক এক মুখচ্ছবি;
যেখানে প্রত্যাবর্তনের প্রতিটি চিহ্ন
ধীরে ধীরে টেনে দেয় ইরেজার ।

অবাধ্য অনুভূতির হেঁয়ালি-আবেদন
বরাবরই পেছন থেকে টেনে ধরে;
অগণন লালসার ফুলরানী
সেজেগুজে ছড়ায় লালসার সুগন্ধ—
ভোগের আঁচলে লুকিয়ে রাখে সর্বস্ব কেড়ে নেয়ার ফাঁদ।

একদিকে, মুক্তির দ্বার খোলা অনন্তের গন্তব্য
অন্যদিকে,শঠতার বাসন্তিক আয়োজন,
যার গন্তব্য- এক বিভ্রম ছায়ালোক।

০৩.০৯.২০২৬

দলুজ

আদমের হাওয়া অভয়ের পর্দা সরিয়ে
লোভাতুর জিব টেনে বেরিয়ে পড়ে
হলকছোঁয়ার লালসায় সুমিষ্ট গন্ধম
তারপর- নিরলে পদক্ষিণ করে চক্রবালে
পায়চারী করে ঠিকানাবিহীন মাটির আঁচল ঘেঁষে

হতভাগা ভগিনীরা স্বদলবলে
শুভঙ্করী স্রোতের ডাকে
মেলে দেয় আবেগের অস্তিত্বের পরাত

তাদের চোখে ইবলিসের নির্দেশিকা
স্নায়ুতন্ত্রে মোহময় মন্ত্র,
প্রযুক্তির ডামাডোলে শঠতার হারমোনিয়াম-
বাজে আলপথ ধরে
নিয়ে যায় পতনের দ্বীপে-সুদূর আইল্যান্ড

শিরার সড়কে তাক করা ভোগের প্রলোভন
টেনে আনে নব্য- সভ্যতার সুরত মেখে
মাটির প্রতিটি প্রান্তরেখায় শেকড়ের ফাঁদ
করে যায় অবিচল তদবির, বিছিয়ে দেয় সম্ভোগের দলুজ ।

আরশের নহর ছুঁয়ে
এনে দিলো যে নিশ্চিন্ত পূত-পুঞ্জিকা
তাচ্ছিল্যে ছুড়ে ফেলে সজ্জিত অন্দরমহল ।

নিয়ে যায় তোমাদের ক্ষীণকায় ভোগালয়ে
মহারথীদের সাম্রাজ্যে- ছিটিয়ে দেয় শরাবের সৌরভ
উচ্চকিত দেহের উষ্ণ আমন্ত্রণে
ছুটে যাও বর্ণিল চেম্বারে ।

যে দিগন্ত হতে সভ্যতার ফাঁদ হাঁকডাকে বেজে উঠে
মুক্তকর শ্লোগানে মস্তকাবনত মননে-
খুঁজে নাও শাশ্বত দাসত্বালয়।

০৭.০২.২০২৬

শোকের ফুল

মনের ভেতর দুঃখ নদী চোখের ভেতর জল
রাতের বুকে আকাশ কাঁদে, বৃষ্টি টলোমল
শূন্যালোকে নিয়ন বাতি ডাগর চোখে চায়
আরণ্যকে হিমেল হাওয়া দুঃখ খুঁজে পায় ।

ছিন্নমূলের রিক্ত থালে ক্ষুধার লোনাজল
মানুষ বাঁচার স্বপ্নটুকু, আজও অবিচল।
নদীর বুকে অশ্রুস্রোতে ভাসে শোকের ফুল
দুঃখগুলো ঢেউয়ের ছলে ভাঙ্গে মনের কূল ।

জলের ভেতর আলোর ছটা, পালে সিনার ভাঁজ
কূলের খোঁজে দিশেহারা স্বপ্ন ভাঙার লাজ
পদ্মফুলের খোপার ভাঁজে শিশির খুঁজে ওম
খুঁজছি যারে ডুবসাঁতারে সেইতো দিলো ঘুম ।

তারার হাটে জোনাক-প্রদীপ ফিরে ফিরে চায়
ভোরের ডাকে একলা ঘুরে, দুঃখ কি লুকায়?

Facebook Comments