আড্ডাপত্র

; ;

রোকেয়া ইসলাম এর গুচ্ছকবিতা

আড্ডাপত্র

জুলা ১৮, ২০২৬ | কবিতা, গুচ্ছ কবিতা

শব্দের আকাশে তোমার ধাম

শব্দের আকাশে তোমার ধাম
এক অনন্ত নক্ষত্রের মতো জ্বলে,
যেখানে সময় থেমে থাকে
আর সৃষ্টিরা পায় চিরকালীন ডানা।
অসীমে বয়ে চলা নদী মহানন্দা
নিরবচ্ছিন্ন, গভীর, অবিরাম,
তরঙ্গে তরঙ্গে
মানুষের সুখ-দুঃখের গোপন সুর।
তোমার কলমে সজীব হয়ে ওঠে
ভাষার আত্মপরিচয়।
শিকড়ের গভীর থেকে উঠে আসে
আলোকিত ভবিষ্যতের সরব স্বপ্ন।
তুমি শুধু কবি নও,
তুমি সৃস্টির বিস্তৃত মহাকাশ,
যেখানে প্রেম, প্রকৃতি, মানবতা
একাকারে তোলে আত্মার আকুতি
আজও যখন নিঃশব্দ রাত নামে,
ভোর আসে রবির গন্ধ বুকে
তোমার শব্দেরা জেগে থাকে,

অনির্বাণ অনন্ত যাত্রা
কোন অসমাপ্ত কবিতা
এক অনিঃশেষ আলোয় রবীন্দ্রনাথ ।

নক্ষত্রের নীচে

রাত গভীর হলে নক্ষত্রেরা জ্বলে ওঠে,
একটি নাম নিঃশব্দে হৃদয়ের ভেতর।
বহু জন্মের অচেনা কোনো স্মৃতি
শিরায় শিরায় আলোর মতো জেগে থাকে।
চোখের ভেতর এক অদ্ভুত নীরবতা
অনন্ত আকাশের ইশারা লুকিয়ে
দুজন কাছে আসে তবুও দূরত্বের এক পবিত্র পর্দা ঝুলে থাকে
শরীরে শরীর নয়, আত্মা স্পর্শ করে।
নিঃশ্বাসের উষ্ণতায়
সমস্ত শীত গলে যায় ধীরে।
উষ্ণতার ভেতরেও আছে এক রহস্য,
নদী ছুঁয়ে যায় তীর—তবু ভাঙে না বাঁধ।
শুধু প্রেম জন্ম নেয়
শব্দের আড়ালে, স্পর্শের আভাসে, নীরব আলোর মতো।

অমল বসন্তের আগে

শীতের কাঁপুনি পেরিয়ে
দিগন্তে জেগে ওঠে অদৃশ্য সবুজ,
মাটির নিচে নীরব গুঞ্জন—
বীজেরা গোপনে লেখে পুনর্জন্মের দিনলিপি।
হিমেল বাতাসে কাঁপে শুকনো ডাল,
তবু তাদের শিরায় শিরায়
রক্তের মতো বয়ে যায় প্রত্যাশা,
ফুল ফোটার অনামা সাহস।
আমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দেখি,
রোদ ধীরে ধীরে বদলে যায়,
কঠিন সোনালি কোমল আভায়,
দুঃখের ভিতর থেকে জন্ম নেয় ক্ষমা।
পাখিদের প্রথম ডাক দ্বিধায়
সাহসে স্বর জোরালো হয়,

সময়েরও একদিন ক্লান্তি আসে।

অনির্বাণ অপেক্ষা করি—
এক নামহীন বসন্তের জন্য।

মাটির গভীর থেকে উঠে আসা
অমল, অনির্বাণ জীবনস্পন্দন।

প্রকৃতির গান

বর্ষায় বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় ধুলোমাখা দিন,
কদমফুলের গন্ধে হারানো রঙিন ঋণ।
মেঘে বিদ্যুৎ আঁকে আলোর নকশিকাঁথা,
প্রকৃতি লিখে জীবনের নতুন কাব্যকথা।

অচেনা সুর

জানালার ওপারে বৃষ্টি গানে বাজে স্মৃতি সুর,
ভেজা বাতাসে ভাসে অচেনা এক দুপুর
ফোঁটা ফোঁটা জলে হৃদ নদীর তীরে,
বর্ষা কি যেন লেখে বিবাগী অন্তরে
৩ অনন্ত সময়
বর্ষা জানে বৃষ্টি সুরে আকাশকে ছোঁয়া যায়,
অন্ধকার মেঘের ভেতরও আলো পথ খুঁজে
জটিল জীবন বয়ে চলে সরল নদীর টানে
বৃষ্টিধারায় লিখে রাখে সময় তার অনন্ত অভিমান।

কবি পরিচিতি

রোকেয়া ইসলাম বাংলাদেশের খ্যাতিমান কবি ও কথাসাহিত্যিক। মৌলিক লেখালেখির পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে নাটক রচনা করেছেন বেশ কয়েকটি। এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে ১৪টি গ্রন্থ। বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত নাটকের সংখ্যা প্রায় ২৫টি।
একজন সফল সংগঠক হিসেবে নানান প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত। লিখছেন আশির দশক থেকে। জন্ম ৪ ফেব্রুয়ারী ১৯৫৯, টাংগাইল জেলায়।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ :

স্বর্গের কাছাকাছি( গল্প গ্রন্থ ) ১৯৯৫; আকাশ আমার আকাশ (কাব্য)২০০৪; ছুঁয়ে যায় মেঘের আকাশ (গল্প গ্রন্থ) ২০০৬; তুমি আমি তেপান্তর ( গল্প গ্রন্থ) ২০০৮; তবুও তুমিই সীমান্ত ( গল্প গ্রন্থ) ২০১০; জ্যোৎস্না জলে সন্ধ্যা স্নান ( কাব্য) ২০১১; একবার ডাকো সমুদ্র বলে (গল্প গ্রন্থ) ২০১২; দীপ্র তাজরী ও আপুজানের কথা ( শিশুতোষ) ২০১৪; কেন ডাক বারেবার (গল্প গ্রন্থ) ২০১৬
সূর্যে ফেরে দিন (গল্প গ্রন্থ) ২০১৮; অতঃপর ধ্রুবতারা ( গল্প গ্রন্থ) ২০১৯; বেওয়ারিশ মানুষ ও ক্ষুধার্ত সারমেয় ২০২৩; ক্রুশকাঠে সূর্যকণা ; সৌর ও দাদির গল্প ( শিশুতোষ) ২০২০; অপেক্ষার প্ল্যাটফর্ম ( কাব্য) ২০২০

সম্পাদনা :
মুক্তির পঞ্চাশ গল্পে দুই প্রজন্ম
(বৃহস্পতির আড্ডার গল্প সংখ্যা); নারীর বিশ্ব; নারীর কলমে দক্ষিণ এশীয় গল্প।

চলচ্চিত্রের কাহিনি :

হৃদয়ে একাত্তর, ভালবাসা ছাড়া কেউ কি বাঁচে

পদক সম্মাননা :

নজরুল সন্মাননা; অরণি গল্প প্রতিযোগিতা পুরস্কার; ড. আশরাফ সিদ্দিকী পদক; অপরাজিত কথাসাহিত্য পদক; কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় পদক; টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদ পদক ;বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ইউএসএ পদক।

সংগঠন, সংস্থা সম্পৃক্ততা :

সাবেক চেয়ারম্যান, প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র; নির্বাহী সদস্য, ডরপ; সদস্য, বাংলা একাডেমি; আহ্বায়ক, বৃহস্পতির আড্ডা সাহিত্য সংগঠন।

Facebook Comments