ছবির কবি
একটা ফড়িং উড়ছিল বেশ ফুলপাতাদের দেশে
লতাপাতার ঘ্রাণ শুঁকে তার কাটছিলো দিন হেসে
শুকনো বাঁশের পাতার মতো পলকা দুটো ডানায়
উড়োউড়ি ঘোরাঘুরি ফড়িংটাকেই মানায়।
ফুল পাখি আর প্রজাপতি ফড়িং ভালোবেসে
একদিন এক শিল্পী এলেন ভ্রমণকারীর বেশে
চোখ নাচিয়ে ঘাড় বাঁকিয়ে দেখেন কতো কী যে
দু-হাত মেলে পাখির মতো ওড়েন নিজে নিজে।
কাণ্ড দেখে হরিণ শাবক নাচলো তা তা থৈ
শিল্পী বলেন আঁকবো তোমায় রং তুলিটা কই?
নিজের পালক খুলে দিয়ে জলময়ূরী বলে
এমন ভুলো হলে পরে কেমন করে চলে?
সারস ঠোঁটে আনলো বয়ে মস্ত কচুর ডগা
শিল্পীটাকে ধরলো ঘিরে কতক কানীবগা।
মুগ্ধ হয়ে আঁকলো ছবি মনেরই ক্যানভাসে
আনন্দময় সময় যেন এমন করেই আসে।
সারাটাদিন ঘুরে ফিরে ভাবলো ছবির কবি
কুড়িয়ে নিয়ে মানিক রতন অস্তে গেলো রবি।
১.২.২০২৪
পথভোলা চাঁদ
দুষ্টু মেয়ের চোখের তারায় নামে যখন ঘুম
পথভোলা চাঁদ ঘরে এসে যায় দিয়ে যায় চুম
রাত্রি হলে আকাশ মাখে মেয়ের দু’চোখ জুড়ে
দুষ্টু মেয়ে স্বপ্ন দেখে বনবাদাড়ে ঘুরে।
রাত্রি হলে পথভোলা চাঁদ চুপটি করে এসে,
রূপালি টিপ দেয় এঁকে সে মিষ্টি হেসে হেসে।
তারার মালা গেঁথে সে যে বালিশ পাশে রাখে,
ঘুমপরীটা রূপকথারই মায়ায় তাকে ঢাকে।
মেঘের চাদর জড়িয়ে গায়ে ঘুমোয় শান্ত মেয়ে
স্বপ্নগুলো রাঙায় তাকে চাঁদের আলো পেয়ে।
শিশির ভেজা ঘাসের ডগায় হাসবে সকালবেলা,
মেয়েটি কি রাখবে মনে, রাতে মেঘের খেলা?
মিষ্টি রোদেই মুছে যাবে রূপালি সব টান,
পথভোলা চাঁদ গাইবে তখন বেলা শেষের গান।
২৬.১.২০২৬
শহরের মতো গ্রাম
গ্রামগুলো হয়ে গেছে শহরের মতো
সারাদিন গাড়ি-টাড়ি ছোটে শত শত
কুঁড়েঘরগুলো সব হচ্ছে দালান
আলোকিত বিদ্যুতে জ্যোৎস্নাও ম্লান
খাল বিল ভরে গিয়ে পাচ্ছে যে লোপ
বৃক্ষের পিঠে পড়ে কুঠারের কোপ
ঘরভরা হাঁস নেই, নেই মাছ চাষ
গ্রামে গিয়ে আজকাল মেটে না তো আশ!
সেখানেও হাতে হাতে দেখি সেল ফোন
কিছু নেই গ্রামে আর আগের মতন।
তবুও স্বপ্ন হাসে চোখ করে আলো
গ্রামে গেলে আপনাতে মন হয় ভালো।
আছে কিছু পাখিদের কলতান সাঁঝে
তালগাছ খোলে যেন আকাশের ভাঁজে।
২২.৭.২০২৪
বইয়ের পাতার ভাঁজে
নতুন বইয়ের পৃষ্ঠা জুড়ে মধুর মধুর গল্প
বাংলা সমাজ ইতিহাসও পড়ছি অল্পসল্প
জানা অজানা কত কিছু বইয়ের পাতার ভাঁজে
একটু একটু বদলেছে সব সকাল দুপুর সাঁঝে।
আমরা মানুষ কোথায় ছিলাম, কোন সে বিবর্তনে?
একলা হলেই ভাবনাগুলো ভর করে এই মনে।
ছিল না যখন ঘরবাড়ি আর মসজিদ মন্দির
মানুষে মানুষে ছিল না তো ভয় হতাহত বন্দীর।
দলবেঁধে থাকা ছাড়লো মানুষ ছড়ালো একেক দিকে
দ্বন্দ্ব মন্দ জয় পরাজয় ভালোবাসা হলো ফিকে।
যতোই হোক না অমিল ধর্মে, বিজ্ঞান বিশ্বাসে
একই বায়ু তারা করছে গ্রহণ করছে যে নিঃশ্বাসে
নক্ষত্ররাজি সাজায় আকাশ, পৃথিবী সাজবে ফুলে
আমরা মানুষ সাজবো আলোয় সব ভেদাভেদ ভুলে।
১১.১১.২০২১
নবান্ন
পাখির চোখে রোদের ঝিলিক
ঝিরিঝিরি হাওয়ার গান
উঠোন জুড়ে হেমন্তিকা
পাকা ফসল সোনার ধান।
ধান বেচে মা’র কিনবো শাড়ি
জমিয়ে টাকা কাঁড়ি কাঁড়ি
চুলের কাঁটা রঙিন চুড়ি
মা বলে না থাক,
আর ক’টা দিন যাক
তোর জন্য কিনবো জুতো
রঙিন ঘুড়ি, নাটাই-সুতো
কাটবে খুশির দিন
হেমন্ত আর পাকা ধানের
কাছে আমার ঋণ।
বাবার জন্য নেব ধুতি,
দিদির জন্য আলতা লাল,
হেমন্তেরই নবান্নতে—
ঘুচবে যত নিদান কাল।
নবান্নতে পিঠা-পুলি,
হবে যে আজ সবার ঘরে,
হাসি মাখা এমন দিন—
রইবে মিশে জীবন ভরে।
গোলা ভরা সোনার ধানে,
হাসবে মা’র ওই শ্রান্ত মুখ,
ছোট্ট আমার এই সংসারে—
আসুক এমন পরম সুখ।
২৬.১.২০২৬
নীল শাড়িতে অপরূপা
শরৎ সাজে সাদা মেঘে আকাশজোড়া নীল
ক্লান্ত ডানায় ভেসে বেড়ায় নীল আকাশে চিল।
শিউলি ছাতিম গন্ধে ভরা পুরো শরৎকাল
রংবাহারি ম্যাপল পাতা সবুজ হলুদ লাল।
শরৎ বলতে আমরা বুঝি রঙের ঐক্যতান
জলের মাঝে প্রতিচ্ছবি দেখে জুড়াই প্রাণ।
কাচের মতো স্বচ্ছ জলে যখন জোছনা ভাসে
রাত্রি শেষে শাপলা শালুক খিলখিলিয়ে হাসে।
রবির আলোয় মুক্তো দানা ঝিলিকে শিশির দল
স্নিগ্ধ শরৎ রূপটি ছড়ায় ঋতুর করতল
ঋতুর রাজা বসন্ত আর শরৎ রূপের রানী
মৃদু হাওয়ায় সবুজ ধানে সুখের দোদুলখানি।
মেঘ বালিকা আকাশ জুড়ে মন জুড়ে উৎসব
শরৎ এলে সবাই মাতে খুশির কলরব।
শরৎ এলে কাশের গুচ্ছ, ময়ূর পুচ্ছ মন
নীল শাড়িতে অপরূপা সাজে আমার বোন।
২৫.৭.২০২৩

