তাসনীম মাহমুদ। কবি, সাংবাদিক, সম্পাদক ও সাহিত্য সংগঠক। কবিতায় অধিকতর স্বচ্ছন্দ। ছাত্রবয়সে উপল নামে একটি সাময়িকী এবং পরে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা, লিটলম্যাগে লেখালেখির মাধ্যমে সাহিত্য চর্চার শুরু। বর্তমানে তিনি লেখালেখির পাশাপাশি “তাইরান” নামে বহুলালোচিত একটি সাহিত্যের ছোটকাগজ সম্পাদনা করছেন। এবং তাইরান’র উদ্যোগে নিয়মিত সাহিত্য বিষয়ক সিম্পোজিয়াম করছেন।
তাসনীম মাহমুদ’র জন্ম ১৯৮৭ সালের ২০ আগস্ট খুলনা জেলার দৌলতপুর থানার পাবলা গ্রামে। তার পিতা অ্যাডভোকেট মো: আনছারউদ্দীন এবং মাতা আনোয়ারা খাতুন গৃহিনী।
নিজ গ্রামে পিতার প্রতিষ্ঠিত স্কুল কবি ফররুখ একাডেমি এবং আফিলউদ্দিন স্কুল থেকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে খুলনার নেছারিয়া কামিল মাদরাসা থেকে ২০০২ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে দাখিল পাশ করেন। ২০০৪ সালে দৌলতপুর দিবা-নৈশ কলেজ থেকে এইচএসসি পাশের পর খুলনা সরকারি হাজী মুহসীন কলেজ থেকে সমাজকর্ম বিষয়ে স্নাতক এবং ২০১৩ সালে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ফরিদপুর থেকে একই বিষয়ে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০১৯ সালে ফারজানা তাসফিয়ার সঙ্গে কবুল উচ্চারণ করে বৈবাহিক জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন। বর্তমানে তারা দুই কন্যাসন্তানের (সিলমুন ফারিজা তাইরান ও সুনাইরা ফারিজা তানজুম) জনক-জননী।
তাসনীম মাহমুদ শিক্ষাজীবন শেষে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মময় জীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা নয়া দিগন্তে সাব-এডিটর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
সংগঠক হিসেবে নাবিক সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ২০২২ সালে নাবিক সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদের সভাপতি হিসেবে নিজ উদ্যোগে কবি “আল মাহমুদ পদক” প্রদান শুরু করেন। পাশাপাশি ঢাকা সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি নির্বাহী কমিটির সদস্য— কালচারাল রিসার্চ সেন্টার, শব্দ বাড়ি। জীবন সদস্য— সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার, সদস্য— জাতীয় সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট, সদস্য— বাংলাদেশ লেখক সমিতি, সদস্য— ফররুখ গবেষণা ফাউন্ডেশন ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সাথে সাহিত্য সেবার কাজ করে আসছেন।
সাহিত্যে নিরলস কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাসনীম মাহমুদকে জাতীয় কবিতা মঞ্চ- ২০২৩ (ঢাকা), নজরুল নিকেতন-২০২৩ (কুমিল্লা), ঢাকা সাহিত্য কেন্দ্র- ২০২৩, মুহম্মদ মতিউর রহমান সিএনসি পদক- ২০২৪ সালে সম্মাননা, পুরষ্কার ও পদক, জাতীয় কবিতা মঞ্চ এবং ইরান কালচার একাডেমি’র যৌথ উদ্যোগে ফিলিস্তিনি কবিতা অ্যাওয়ার্ড-২০২৪এবং তাইরান সম্পাদক হিসেবে খুলনার কবি-সাহিত্যিকবৃন্দ সম্পাদক সম্মাননা-২০২৬ প্রদান করেন।
প্রকাশিত কাব্য চারটি :
ক. প্রথম কাব্যগ্রন্থ— ধূসর বেদনার নীল চোখ- ২০১৩
খ. দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ— নিষিদ্ধ রোদ্দুর- ২০২০
গ. তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ— জরিন পালক- ২০২১
ঘ.চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ— আগুনের ফুলকি নাচে-২০২৫
জাহরা’র জন্য ফাতেহা
শিশুর সরল হাসির মতো ফাতেহার ধ্বনি
আমাকে ডেকে ছিলো কালো গোলাপের বর্ণিল দেশে।
উদগত শীষের ঘাড়ের মতো আমি মাথা তুলেছিলাম…
রক্তে রঞ্জিত দানবের চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখেছি
সেখানে নির্জলা সভ্যতার ঐতিহাসিক কোনো চিহৃ নেই।
রোমের অভিজাত নারীদের শয্যার মতো
ফুরিয়ে গেছে হাইপারসনিক মিসাইলের দুরন্তপনা।
বেটোফেনের নরম সিম্ফোনির মতো গেয়ে যাওয়া
পাখিদের গান আর নেমে আসা সন্ধ্যায় গোধুমের সুগন্ধ—
ফাতেহার মজলিশে এনে দেয় যে সওগাত
কারবালার তৃষ্ণা কী কখনো তা উপেক্ষা করতে পারে!
আমিও আমার মঞ্জিলে পৌঁছানোর জন্য
পান করেছি সভ্যতার শরবত—সেখানে
ঠোঁটে লেগে আছে কি জাহরা’র রক্ত?
সমস্ত শহীদী খুনের বেদনায়
আমি কি নতজানু স্বপ্নের ভেতর দিয়ে
ভিখারীর মতো মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকবো?
কি করে সম্ভব হতে পারে; যখন
সিংহ শিকারী হামজা’র উত্তরসূরীরা
মরভূমির উত্তপ্ত বালুতেও ফুরিয়ে যায়নি?
বায়তুল মোকাদ্দাসের ইমাম লুটিয়ে পড়ছে
সেজদার জলসায়—আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে
ছুটে যাচ্ছে ফাতাহ আর খোররামশাহর…
দিশেহারা; মৃত্যুভয়ে ভীত হোয়াইট হাউজ—
ফোরাতের পেট চিরে জেগে উঠেছে কি সোনার পাহাড়?
ঘুমাও কেনো নিস্তেজ শার্দুল
কালো পতাকার অশ্বারোহীরা ওই
দেখো আসছে—খোরাসানের পাদদেশ বেয়ে।
ফার্সি গোলাপের শরবত
প্রতিটি আনন্দঘন ইভেন্টের উৎসবমুখর সময়ে
আমাকে হত্যা করা হয়েছে। নিরবে লাশ হয়েছি—
তবু জানাযার প্রয়োজন পড়েনি পরিচিতজনদের।
কেননা—মৃত্যুকে চেনার মতো সাহস আর কফিনের
ঘ্রাণ শুকবার মতো শক্তি কখনো হয়ে ওঠেনি তাদের।
ঘুমঘরে জেগে দেখি—খঞ্জরহাতে দাঁড়িয়ে আছে
আমারই অবয়ব। সিনার ভেতরের হৃদপিণ্ড যখন
গলায় উঠে আসে— মালাকুল মাউতকে তখন
জনমের পরিচিত মনে হয়! অথচ এখনো নিঃশ্বাস
নড়ছে আমার—বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে দক্ষিণ নগরে…।
চল্লিশ মানে নবুয়াতের সুন্নাতে হাজিরা দেওয়া।
চল্লিশ মানে বন্ধুর বিষম মনেরকেল্লা
ফার্সি গোলাপের শরবতের মতো স্বচ্ছ হয়ে ওঠা।
শঠ-তঞ্চকের প্রবল জোয়ারের এক তীক্ষ্ণ সময়ে
সরল শিশুদের হত্যার মতো নৃশংস গল্প
গরম রুটির মতো সেঁকতে থাকে মিডিয়া! তবু
নাগরিক অধিকার আদায়ের বিক্ষুব্ধ মিছিলে আমি
বারবার দাঁড়িয়ে যাই— একা কিংবা সঙ্ঘবদ্ধ কাতারে।
হৃদয়ের ছবি পড়তে পারা বুজুর্গের মতো
তোমাদের ছুরির নকশা-নাম— আমি
খুন হতে হতে হিফজ করে নিয়েছি অসংখ্যবার।
কফিনের ঘ্রাণকে ভয় পাও বলেই—
উৎসবে রক্তাক্ত হয়ে ওঠে তোমাদের খঞ্জর!
লাশের মিছিল থেকে পালাতে চাও বলেই—
খাইবারের ধুলোয় মিশে থাকা ঐতিহাসিক রংধনু
স্বীকার করতে পারো না তোমরা।
অথচ এখনো নিঃশ্বাস নড়ছে আমার এবং
আমারই জন্য বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে দক্ষিণ নগরে…।
শিশুদের শহীদী রক্ত
কাশ্মীরের রক্তজবার বাগান থেকে
ধীরে ধীরে দীর্ঘ হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিনের রক্তকরবীর বাগান।
একদিন সকালে— ইরানি গোলাপের টকটকে লাল রং
উদয় ও অস্তের মাঝখানে টেনে দিলো এমন এক বর্ণিল সামিয়ানা
যেখানে বিশ্বভাবনার বাতাসে ‘রংধনু ফুলে’ দুলে উঠেছে
৯ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো হিসেবের সব সমরবিদ্যা।
আমাকে পাঠ করতে যখন কেউ সাইরাসের ভূমির কথা বলে,
আমি তখন দিওয়ান-ই-হাফিজে ডুব দিয়ে সাঁতরে উঠি মসনভি’র দ্বীপে।
এরপর গুলস্তান ও বুস্তান’র আইল ধরে হেঁটে যাই শাহনামা’র শহরে…
সেখানে রুবাইয়াত’র চিবুক ছুঁয়ে ট্রিগারে আঙুল রেখে বলি,
‘পৃথিবীতে যতো উদ-চন্দন আর মেশক-আম্বর’র ঘ্রাণ পাও; তারচ্
েঅসম্ভব সব সুগন্ধরা মিশে আছে— শিশুদের শহীদী রক্তে।’
সুনাইরা
মুছে গেছে নামফলক—
পিরামিডগুলোর সযতন পলেস্তারা
শূন্যতায় খসে পড়ছে
লতাপাতা, শ্যাওলা আর ঘাসের ললিত বুকে!
মনে করতে পারছি না রওজাবাসীর নাম-ঠিকানা…
কোলাহল কোথাও নেই—
আত্মীয়-স্বজন-বন্ধুর স্মৃতিপট
মুছে ফেলছে সুনাইরা সময়ের আনন্দগান; এখন
নিরেট গ্রামের ওই পথের ধুলোয় আটকে আছে আমার রাজ্যের মায়া!
মেশক আম্বর হাতে বসে আছে ভবিষ্যতের ফেরেশতা; আমি হেঁটে যাবো সেই পথে শাহ’র মতো…
বন্ধনি
পাখিদের ডানার তালে
বাতাসে ভাসে যে সুর;
সে সুরের ঘরে মনের বসবাস!
মন তুই কোথায় যাস— কোন শিশিরে
কেমন চুমে ডানার গন্ধ পাস?
ওমের বাড়ী শীতের ঘরে অধর রঞ্জনী
লাল টুকটুক লাল টুকটুক সুরের বন্ধনি…
জুমার গোধূলি
আলমারিতে তুলে রাখা বেনারসির মতো
যত্ন করে যে ভূমিকম্প বেড়েছে পাঁজরে;
সেখানে পম্পেই নগরীর আগুন
একপশলা বৃষ্টি, চকিতচাহনি…
জলধারায় চেয়ে থাকা চাতকের অপেক্ষা নিয়ে
আমি দৌড়াচ্ছি;
শূন্যতা থেকে নিরন্তর শূন্যতার পথে—
যতদূর গেলে ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসে অবসন্ন দুপুর
যতদূর গেলে ভাবনাগুলো ডুব দেয় শৈশবের গ্যালাক্সীতে
সেখানে আঁজলার জাল বিছিয়ে
তন্নতন্ন করে খুঁজি জীবনশরৎ।
কথা দিচ্ছি— শিউলি ঝরা মধ্য-সকালের কুয়াশায়
আমি থমকে দাঁড়াবো; যদি জুমার বিকেলের
একগ্লাস গোধূলি নিয়ে এসে কেউ বলে,
চলো; ভিজি প্রতিটি সপ্তাহে…
আসলে— সমস্ত অগ্নুৎপাতের স্রোত
এখানে আমার জোছনা ধোয়া
শিশির হয়ে যায়
প্রশান্তির নরম সরোবর হয়ে যায়।
ফিলিস্তিন
ফিলিস্তিন এমন বিরল প্রজাতির লাল গোলাপ
যার সুগন্ধ প্রেমিককে করে তোলে বিহ্বল আর
নেকড়েকে করে তোলে লালাত্মক-হিংস্র…
মক্তবের পাঠ
বহু ফজরের ঘুম মাড়িয়ে
কত কিশলয়ে কত কুসুম
শিশিরে চুমিয়ে পা; করেছে নিমগ্ন পাঠ
সবুজ রুমালে জড়ানো কিতাবের
আলিফ বা তা সা…!
মক্তবশালার সেই সে জরিন হরফ
মুখস্থের প্রতিযোগিতা দলবেঁধে রেহেলে—
তাল লয় সুর ছন্দ পঙক্তি
হৃদয়ে বাজে কী স্নিগ্ধ সুষমায় সুমধুর!
ইযহার ইখফা ইদগাম ইকলাব
জযম নুন-সাকিন ও তানবীন
বিশ্বসংসারে বিশ্বমাখরাজ আমার
শৈশব মেলেছে ডানা…।
এখানে আমার আমপারা; সূরা ফাতিহার সবক—
এখানে পেয়েছি সত্য সুন্দর; জীবনের হালখাতা।
যতই ডাকা হোক মোল্লা মৌলভী;
আর যতই করুক উপহাস—
এখানে আমার ধর্মের পাঠ; মৌল এখানে গাঁথা।
জগতের যত কুসুম; কিশলয় চাও জীবনের
চলো হই মক্তবের শিষ্য
সমাজের রঙিন ছানা…।
বিপ্লবের সুখী ফুল
অগণন মাস্টার মাইন্ড আর বিপ্লবীর ভীড়ে
কখন যেন বাতাসে মিলিয়ে যাওয়া বারুদের মতো
দৃশ্যহীন হয়ে উঠছি জুলাই শেষে…
যেভাবে কোথাও লেখা নেই
খবর না জানা অসংখ্য ফুলের নাম!
তাতে ফুলের কী আসে বলো?
মৌসুম এলে—
ফুল ফোটে; মৌ এসে নিয়ে যায় মধু। সুখী হয় ফুল!
এখন সময় জোয়ারের—
স্রোতের নুড়ি লুফে নাও গনিমতের সালুন…
ভেবো না তোমাদের উল্লম্ফন দেখে
কাতর হবে কামনা। কেননা বিপ্লবী ভাবে না
কোথাও ছিলাম আমি!
ভেবো না আহত পাখির মতো কন্ঠটা ভেঙে গেছে!
ভেবো না সাহসের স্লোগান স্বপ্নভঙ্গ শাহবাজ এখন!
ফের দুঃস্বপ্ন তাড়া করে এলে জনপদের পর
ফের অন্ধকার হলে ঘনীভূত জনপথের পর—
দেখে নিও; বিপ্লবের সুখী ফুল ফুটে উঠবে আর
এক পসলা বৃষ্টির মতো হঠাৎ দেখা হয়ে যাবে
রাজপথে; কোনো এক দুঃসাহসী মিছিলে…
বয়ান
বন্ধুগণ! আসন্ন প্রতিবিপ্লব কিংবা
সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের প্রতিরোধে
তৈরি থাকুন। যার ঢেউ বুঝে উঠবার আগেই
প্রলয়ঙ্কারী সুনামির মতো হঠাৎ করে
আছড়ে পড়তে পারে
আপনাদের উৎফুল্ল সন্তুষ্টি, বাড়ী-ঘর,
জমজমাট অফিস-আদালত, জীবনের প্রতি।
ভাসিয়ে নিতে পারে একে একে
স্বপ্নের হিমালয় থেকে সর্বশেষ নুড়িটিও…
এমন আচমকা ধাক্কার মোকাবেলায়
যে সুদৃঢ় ভিত্তিপিলার প্রয়োজন—
সেখানে মনোনিবেশ করে নগরবাসীর
উপযুক্ত বয়ান তৈরির কর্মকৌশলের জন্য কি
আপনারা আদৌও প্রস্তুত?
কবি দার্শনিক সাংস্কৃতিক কর্মীর চোখে চোখ রেখে
দৃশ্যমান সম্ভব্য ভবিষ্যতের চিত্র অনুধাবন করার
সর্বোচ্চ অনুশীলন করুন…
আমি আপনাদের
আরোও একবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—
পরাগায়নের মৌসুমে উন্নত শুক্রের অভাব হলে
সুগন্ধি বাগানও ফলহীন উদ্ভিদ থেকে বিরানভূমিতে পরিণত হয়।
বন্ধুগণ! আমি আমার নিজের জন্য
আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টা করছি না।
যে বিপ্লবী চিন্তা চেতনা মননে রক্তে একটি মাত্র
স্বপ্নকে লালন করে আজন্ম— তাঁর কাছে পৃথিবী
নেহাৎ শিশুর ছেলেখেলা মাঠ বৈ আর কিছু না!
আপনার প্রতিপক্ষ বন্ধুরা অনেক আগে থেকেই
বয়ানের অনুশীলনে সংস্কৃতির বিদ্যাপিঠগুলোকে
করে নিয়েছে দখল। গিটারের একটি তার, ঝঙ্কারে
যে অনন্য মাদকতার আনন্দ ছড়াতে পারে টিএসসি
কিংবা রবীন্দ্র সরোবরে; লাখো যুবক বুদ হয়ে থাকে
সেসব প্রতিটি সেকেন্ডের প্রেমে।
অতএব বন্ধুগণ— মেরুদণ্ডের প্রতিটি হাড়কে
করে তুলুন একেকটি এটম। হাতের আঙুলগুলো
হয়ে উঠুক ট্রিগারের জন্য উপযুক্ত। পায়ের কদম
হোক ঘোড়ার নালের মতো অপ্রতিরোধ্য আর
চোখের দৃষ্টি হয়ে উঠুক ঈগলের মতো তীক্ষ্ণ…
আমি আপনাদের
আরোও একবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—
উত্তম বিকল্পে সাংস্কৃতিক ছায়াবৃক্ষের বয়ান তৈরিতে
পারদে পাথুরে খোদাই শিল্পী
অনিবার্য অক্সিজেনের মতোই প্রয়োজন।

