আড্ডাপত্র

; ;

সার্ক–ফোসওয়াল আজীবন সম্মাননা ২০২৬ পাচ্ছেন বাংলাদেশের কবি নূরুল হক

আড্ডাপত্র

অক্টো ১৩, ২০২৬ | কড়চা, সাহিত্য সংবাদ

আড্ডাপত্র ডেস্ক

কবিতা, সাহিত্যচর্চা ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক এবং ওডিশি এশিয়া  সম্পাদক নূরুল হককে ‘সার্ক–ফোসওয়াল আজীবন সম্মাননা পুরস্কার ২০২৬’ (SAARC–FOSWAL Lifetime Achievement Award 2026)-এর জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

আগামী ১৫ নভেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে ফাউন্ডেশন অব সার্ক রাইটার্স অ্যান্ড লিটারেচার (FOSWAL) আয়োজিত সার্ক সাহিত্য উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি টাকা ও  এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।

দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্য ও সংস্কৃতির বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া ও সাহিত্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর ছয়জন বিশিষ্ট সাহিত্যিককে আজীবন সম্মাননার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নূরুল হক বাংলাদেশের প্রতিনিধি। অন্য সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন ভুটানের কুঞ্জাং চোডেন, ভারতের আলোক ভল্লা, অমরেন্দ্র খাটুয়া ও সুরেশ গোয়েল এবং নেপালের কেশব সিগদেল।

এ ছাড়া আটজন লেখককে ‘সার্ক–ফোসওয়াল সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬’-এর জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ভারতের দেও প্রকাশ চৌধুরী, শেহপার রসুল, রাওয়েল সিং, কবিতা সিঙ্ঘল, অনামিকা ও বনিতা; শ্রীলঙ্কার কুমার হেত্তিআরাচ্চি এবং নেপালের রাম দয়াল রাকেশ।

১৯৬৫ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণকারী কবি নূরুল হক তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় নিবেদিত রয়েছেন। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় তাঁর সাহিত্যকর্ম বিস্তৃত। মানবতা, শান্তি, প্রেম, প্রকৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং মানুষের অস্তিত্বের নানা জটিল অনুষঙ্গ তাঁর লেখায় বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ভাষা ও ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপন তাঁর সাহিত্যচর্চার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

তাঁর উল্লেখযোগ্য বাংলা কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- ঝরা পাতার শোকগাথা, নিশীথের পদাবলী ও দগ্ধবতী জলের নদী। ইংরেজিতে প্রকাশিত তাঁর কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে Pain of Innocence, What Do You Need এবং An Elegy of Fallen Leaves। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তাঁর সাহিত্যচর্চা দেশীয় সাহিত্য-ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময় ও সম্পাদনায় অবদান

মৌলিক সাহিত্য রচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময় ও সহযোগিতা বিস্তারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন কবি নূরুল হক। বিভিন্ন দেশের কবি ও লেখকদের সাহিত্যকর্ম একত্র করা, প্রকাশনা সম্পাদনা এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্যিক সংযোগ জোরদারে তাঁর উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য।

২০২০ সালে তিনি সম্পাদনা করেন Odyssey International Anthology of World Poets, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কবিদের সৃজনশীল রচনা স্থান পেয়েছে। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক সাহিত্য সাময়িকী Odyssey Asia-এর সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশ ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের লেখকদের মধ্যে সাহিত্যিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক এবং পারস্পরিক ভাববিনিময় প্রসারে কাজ করছেন।

আন্তর্জাতিক সাহিত্যাঙ্গনে এর আগেও একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন নূরুল হক। ২০১৮ সালে কাজাখস্তানভিত্তিক World Nations Writers Union তাঁকে ‘World Laureate in Literature’ সম্মাননায় ভূষিত করে। তাঁর সাহিত্যজীবনে এটি একটি উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

সার্ক–ফোসওয়াল আজীবন সম্মাননা পুরস্কার ২০২৬ তাঁর দীর্ঘ সাহিত্যসাধনা, সৃজনশীল অবদান এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্যিক সহযোগিতা বিস্তারে ভূমিকার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। একই সঙ্গে এ সম্মাননা আন্তর্জাতিক সাহিত্যাঙ্গনে বাংলাদেশের কবিতা ও সাহিত্যচর্চার পরিচিতি আরও প্রসারিত করবে বলে আশা করা যায়।

ভাষা ও সীমান্তের বিভাজন অতিক্রম করে সাহিত্যকে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্প্রীতি ও মানবিক সংযোগের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে প্রয়াস নূরুল হক দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছেন, এই সম্মাননা তারই এক তাৎপর্যপূর্ণ স্বীকৃতি।

Facebook Comments