আড্ডাপত্র

৮ আষাঢ়, ১৪৩৩; ২২ জুন, ২০২৬;সন্ধ্যা ৭:৩১

জন্মদিনে হাসনাত মোবারক এর দশ কবিতা

আড্ডাপত্র

তিলতুলসী

জলবিতানের খাতায় আঁকা মাছ-পাথারের কাব্য, পড়ছে খসে উচ্ছ্বসিত জোছনায় ভরা নদীর বাঁক, বিভূষিত বনস্পতির করস্পর্শের হাওয়ায় দুলে উঠলো সবাই। রোদ দেখতে বেরিয়েছিলাম খুব, ধাতব মুদ্রার টংকারে ঘুম ভেঙে গেলো যাদের… অনেকে আবার পাখিসভায় ধৈর্যের পাঠ নিয়ে ফিরে এলো, উড়ে যেতে দেখলাম পূর্ব-পশ্চিম পৃথিবীর কয়েকটি গাঙশালিক; সেইসব দিন, ছেড়ে আসছি, আটকা পড়তে চেয়েছিল সে; মিউচুয়াল অ্যান্ড কোং বরাবর… বহুত হইলো দেখনদারি
হোক, উৎসবের রঙ-
হইসে?
না হোক।
তাইলে ঠিক আছে…
তাইলে কি?
কিছুই না।
সুন্দরের বন্দরে ভিড়াও নাও আবারও, গতরে লাগাইয়া আনাজপাতির রৌদ্রের ঢেউ।

তরঙ্গদৈর্ঘ্য

কায়াহীন ছায়ার অতিকায় আয়তন
ঘুমের জড়তা চোখে নিয়ে উড়াল দিল পাঁতিহাস
বনের ভেতর দিয়া; পাতায় পাতায় সাজানো একরোখা বৃষ্টি-
বিদ্রোহী সেতারের ঢেউ: দুর শালা!
মাছের কাঁটা চিবোতে চিবোতে আমরা এতই মগ্ন ছিলাম যে
কখন পৌঁছে গেছি বিড়ালস্বভাব নগরীতে
রঙের কৌটা খুলতে খুলতে রোদের প্রলেপ এসে ধাক্কা দিলো
চামড়ায় ভাঁজগন্ধে; মিশলাম, ভাসালাম মেঘ-ঢেউ নীলে।

ছন্দস্রোত

মন্দ্রিত প্রেম; কালোমাটি লালজলে
বৃষ্টির প্রকারে, ডুবেছি অন্ধকারে
ভিজছে ফুল কামনার জোয়ারে…

কল্পজীব

জল গড় গড় অনুভা আলোয়
অপসৃয়মাণ ঘর; সমুদ্রঘন স্বপ্নবিহীন ঘুম
ভেদ করে সটান দাঁড়ালাম, প্রকাণ্ড এক বৃক্ষের গোড়ায় —
ঝাঁক ঝাঁক মাছ প্রশ্রয়ে খলবল করে উঠলো।

তীব্র তাড়া— কৌটা ভরা অহোরাত্র আলোয়
তারকা শাসিত ল্যান্ডস্কেপ ‘পায়ে না মাড়ায়’-
সহস্র সংকোচ!
কৈবর্ত পাড়া ঠিক কতদূর! ঠাওর হয় না।
ইনসমনিয়ায় আক্রান্ত গতিক্লান্ত চাঁদের
আলো ধোয়া রাতের গায়ে ঠুকে দিলাম পেরেক।

আলেখ্য

শিরোধার্য আঙুল,
শিকেয় তোলা চৌদ্দটি ফুল
শশব্যস্ত মেঘ থেকে এক আঁজলা জল পেরে
যাচ্ছে উড়ে দূরগামী পাখি।

তালপাতার টকাস শব্দে ভাঙে জলের আড়মোড়া
সুরবন্দি সারিন্দার, সুরভিত ফুল
পরতে পরতে সাজানো বিকেল
প্রযত্নে
ঘাটপাড়ের ঢোল কলমির ফুল।
হাওয়ায় হাওয়ায় উঠছে-নামছে বাউরা ফড়িং
উপুর করে ঢালছে নীলের বিপরীতে নীল
প্রকারান্তরে আলোর ভাসান;
বাতাসের আলনায় তেরছাকাটা রোদে
এক দুই ফোটা ‘সরিষা ফুলি রঙে’ মেশানো
লোকবাদ্যের সুরে ভাঙা জলেরবিছানা।

রঙের চাতাল

কড়কড়ে রোদের ঢেউ ও রেখায়
দৃষ্টি আটকে গেলে বিড়বিড় করে
পায়ে এসে লুটোপুটি খায় আলোর ছায়াবাজি
আমরা দৃশ্যের বিপরীতে দাঁড়াই পুনরায়
জীবনপুঞ্জিতে টুকলিফাই করি আনাজপাতি
নুন লংকার ঝাঁঝ।

দুই আনি গোল পয়সায় ছাপাঙ্কিত
দুর্লভ রূপার রঙ। আগ্রহ পৌঁছায় হৃদয় বরাবর
বাঁশ, বেত, মৃত্তিকার মায়া, পটে আঁকা নাকছাবি
বদল করা সন্ধ্যা শেষের হাওয়া—
লালমাটির টেপাপুতুল জড়ানো সবুজ রুমালের
গোপনীয়তা; সে-ও ভালো রক্ষা করা
উৎপাদনমুখী শস্যের খামারের ঘাসজটিলতা

মনরঙ

অসময়ে বৃষ্টি; কবিতায় শতাব্দী জাহিদের চিংড়ি-খিচুড়ির গল্প। ওই যে কস্তুরি ম্যাডাম? হ মিয়া, চুড়ির শব্দে রিনিঝিন- তারে নিয়া আপনার এত আগ্রহ ক্যান? দুর মিয়া! ভাবতেছি তার বৃষ্টিযাপন— ভিজে ফিরে আসার গল্প। মধুমালতি অথবা শ্রীমতি ব্যাংকার; দুর্যোগকালীন মুহূর্তে কাঁচা মিঠা প্রেমে গড়ান খাওয়া; হয়তো বাতাস-বৃষ্টিতে ওর হাঁটুর আব্রু যাচ্ছে উড়ে উড়ে… এত সময়ে শুরু গ্যাছে তার কর্মদিবস।

মোহ ও মুদ্রা

ক্ষীর জমা গাঢ় শীতরাতের প্রার্থনায়
দেখা হলে আবারও গলে গলে উবে যাবে
সরিষা ফুলি রঙ।

ধীর-মনস্থ; নিরীক্ষার সে নিব
প্রত্যাশার ল্যান্ডস্কেপে চরিয়ে দিও
আধা চামচ রোদ— আনালে বিনালে
বাজবে হাওয়া-সংগীতের সুর।

বিলক্ষণ পথ, রাতের মুদ্রায় চাগিয়ে
উঠবে স্বরবর্ণের আওয়াজ।
পারঘাটায় কথা, অনুভূত মসিনা বাটার ঘ্রাণ;
চনমনে চলনবিলের মউ-মউ আমেজ
দিগন্তে মেটেলমাখা সুবাস—দৃশ্যমান মডেলের
অনাবৃত দেহকলার ঢেউ ভাঙা ভাঁজে পোতাশ্রয় ফেলে
ছেড়ে গেল সওদাগরি নাও।

বাজি

পাতা নড়বড় জল সর সর
কম্পিত দৃশ্যে; একসার অন্ধিসন্ধি…
বরাবর খেলা টাই টাই — জমে গেলে
সমস্ত অমিয়; তৃষিত প্রিয়, ফিরে এসো
ফের সন্ধ্যায়। যায় কাল নিরবধি, আটকে
আছে চোখ আনসিন বার্তায়
নির্বেদ মাখা হাত কতবার নদীবন পেরিয়ে
জল ও জুয়ার আশ্লেষে কথা বলে ওঠে
ক্লান্তিহীন পয়ারে; আজাড়ে আবহ ধীরে ধীরে
ঘিরে ধরলো ক্রূর-দঙ্গল সুর; শূন্যতলে
ফল ইন প্রত্যাশার পেটরা, দৃশ্যগত আত্মহুতিতে
লাখ লাখ জোনাক পোকা।

দোটানা

শীত সুনিবিড়, অধ্যয়নরত কুঞ্জের শিশির
প্রপাতে দেহ ও দরদে জেগে ওঠে
শীত প্রকোপের জ্বর। চরাচরের পাখি—
পাখসাটে তার হাওয়া বদল;
ধ্বনিত সেতার— দৃশ্যে কুয়াশার ঢেউ
সদ্য নেয়ে ওঠা সবজির বাগান।
হৃদিত; পার্থিব দৃশ্য সাদরে —
হাঁ-খোলা সন্ধ্যার পেটে প’ড়ে টুনা ফিস
হালফিল; মুগ্ধবোধে বিশ্রুত যুবতি
ব’লা-কওয়া — পছন্দ এবং বিশ্বাসের ফারাক
বেরলো কত জ’নের বাইনারি স্বভাব।

Facebook Comments

আড্ডাপত্রে লাইক দিন

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০