
খোলা কবিতা
যেদিন ডাকলে, ইচ্ছা ছিলো যাবার
মিথ্যা বলি নি , মনটা উড়াল ছিলো
মধুপুরের বাসে উঠি-
উড়াল কন্যা তোমায় কাছে পাবার।
আজ খুব গরম জানো, শ্রাবাণ শ্রাবণ ডাকি
অই পেছনে রেখে এলাম ছন্দ প্রেমের জাল
রেখে এলাম দীঘল পথে উড়াল বনের পাখি
অভিমানের ভাঙন, আর কাব্য রসের তাল।
রেখে এলাম, ফেলে এলাম, চলছে দ্রুতযান
ছেড়ে এলাম অহংবোধের সুবোধ বেণীর টান।
কাঁটায় বাঁধা একটি দোলনচাপা।
ছেড়ে দিলাম মুক্ত আকাশ-
ফের যদি হয় দেখা, মুক্তির অবকাশ
যদি না হয় শূন্য কলস বাস্প দিয়ে ফাঁপা।
বলেছি তো আসবো আমি এক চাঁদনি রাতে
দেখবো কেমন ভাজো তুমি উষ্ণ চুলোর তাতে?
বর্ষপূর্তির আয়ু
স্নিগ্ধ শুভ্রতায় আমাদের যাত্রা কবে শুরু হয়েছিল?
দিনক্ষণ মনে নেই
পদ্মার অসংখ্য পথ-উপপথ
ঢালের জল আঙুল চুঁয়ে যখন বছরধিকাল
মাটিতে নামলো, ভাবলাম-
এবার মৃত্তিকা সতেজ হবে, তরুলতা লকলক করে
ধরবে পাহাড়, আর তুমি পরিণত ভৈরবী
নারীদের মতো
অদৃষ্টে নির্মাণ করবে অক্ষয় টিপ।
ঘারিয়ে যাওয়া গ্রাম, ডাকঘর, ’গঞ্জের আবাসনে
ছড়াবে আগামী দিনের অহংকার।
আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল
একটি ডট বিন্দু থেকে
তারপর ডট রেখা হয়ে
সরল-বক্রে চলতে চলতে সত্তর বছরেও
উড়াল পথ হয়ে ছুটছে অনন্তে।
বিরামহীন বর্ষপূর্তির আয়ু দেখি-
কতো দীর্ঘ রহস্যময় বৃক্ষের শেকড় ছোঁয়…
দ্বিধার মুখ
মাছির মতো গায়ে গায়ে বসো
সান্ধ্যনদীর নয় ভালো নয় ঢেউ
অসভ্য ক্ষণ বাতাসে ভর করে
ফিরবে সে, জানে না-কি কেউ!
নদী দেখো ফুঁসছে কেমন করে
যেমন তোমার রাগ ছড়ালে দেখি
নেশার ভেতর হু-হু নেশা ঢোকে
সে উত্তাপে বাঁধলে সুতো নাকি?
ভালোবাসা অমন করেই টানে!
ফুলে ফেঁপে ফুটোও হতে পারে
ও-চোখগুলো জ্বলতে নিভতে জানে
উড়তেও জানে গোপন অভিসারে।
ও ঝড় তুমি নিও না কেড়ে আশা
ও সুখ বেঁধে অমিত ভালোবাসা!
যিনি এক ও অদ্বিতীয়
কে না জানে শুদ্ধাচার অমর-অক্ষয়
কে পারে মুছিয়ে দিতে তার পবিত্র অঙ্কুর!
প্রতিহিংসার আগুন কখনো প্রভুর ইচ্ছা
ব্যতিত কাউকে সপর্শ করতে পারে না-
না তোমাকে, না কোনো প্রাণকে
যেমন প্রেম ও প্রণয়, মাটি ও মানুষ
মানুষের অন্তরে
দাসত্বহীন মুক্ত পাহাড়
যেমন মাথা তোলে আবার ন্যুয়ে পড়ে সমতলে,
তোমার জেদ তেমনি
তুমি চাও-মাথা তুলে দাঁড়াক দেশ, তোমার ভূখন্ড।
জলতরঙ্গে ফেঁপে উঠুক সমুদ্রের গর্জন।
প্রতি ইঞ্চি ভুমির অধিকারে অবিচল থাকুক।
এ-ও এক ঈশ্বরের বিশ্বাস।
মাটিতে কাঙ্খিত ফসল ফলাতে প্রয়োজন পরিমিত আলো
তুমি সেই আলোর সন্ধানে লড়াই করেছো
পা চাপা তুষের আগুনে।
জেদ একাগ্রতায় মূলধন জেনো-
সুখ-দুঃখ-মৃত্যু সবই প্রভুর হাতে-যিনি এক ও অদ্বিতীয়
নামেনি বিকেল, তবু
এতোদিন মেঘ ছিলো
মেঘ ভূমে অন্ধকার ছায়া
এতোদিন ভয় ছিলো
সে ভয় গ্রাস করলো মায়া!
এখনো আকাশে রোদ
তোমার চিবুকে নেই প্রতিরোধ
তানপুরা ভুল সুর তোলে
কনসার্ট ক্রোধে ভাঙে তোমারই ক্রোধ!
এখনো নামেনি বিকেল
তবু-
আধাআলো আধাছায়া ঘর
খেলা করে অবশ ধ্বনি
কথা ভাসে দূরে- দূর কন্ঠস্বর।

