আমাদের গন্তব্য
কেউ জান্নাতের বাগিচায় হাঁটলে হাঁটুক
আমি স্বাগত জানাবো
হিংসার আগুনে কেউ দগদগে দারুণ
বেছে নেবার তালে নেই যারা নিবাস গ্রীষ্মকালীন
তাপে হোক দগ্ধ তারা,
হামের প্রকোপে কতো শিশুর প্রাণ গেল
সন্তানের স্নেহাদর যে জনকজননীর প্রাণ
তারা বোঝে বুকের মানিক হারানোর যন্ত্রণা
সৃষ্টির সেরা মানুষকে ভোগাবে বিকৃতি –
বলে না ধর্ম দর্শন বিজ্ঞান প্রযুক্তি
নিজের নাক কেটে কেউ পরের যাত্রা ভঙ্গে ব্যাকুল
অবক্ষয়ের পরিণাম ভোগে দোষী চিরকাল
ফুলের পরাগ দেখে – ভোরের শুভেচ্ছা মেখে
আমরা কি পারি না হতে পরিশুদ্ধ?
সিরাতুল মুস্তাকিম হোক আমাদের গন্তব্য…
২৫ জুন ২০২৬
লাশের সভ্যতা
হে লাশের সভ্যতা
মৃত্যুকে করেছো জীবিত
মরে যায় মরার আগে,
কোন্ পাপে হয়েছো কতল
রহস্য খুঁজে না পায়
এ প্রশ্ন বারেবারে জাগে।
বন্ধুতার ভেতরে শত্রুতার বাস
উপকার বেশে হয়েছে সর্বনাশ
দস্যুতা হার মানে নিষ্ঠুর ক্রীড়নক,
কেড়েছে পাষাণ মানবতা
ধর্মের জিগির তোলে বক,
আত্মহত্যার নির্মম নীরবতা।
এক অদ্ভুত আস্থার অপমৃত্যু
ধর্মের ঘরে বিশ্বাসের ডাকাতি
গরল অগ্নি গিলেছে বজ্জাতি
মরার আগেই মরণ বেসাতি,
দুঃসহ স্মৃতি বাড়িয়ো না দুঃখের তকদিরে
পশুর জগৎ ছেড়ে মানবতা পায় যদি ফিরে।
চরম ভীত শোকার্ত পরওয়ারদেগার
জাহেলিয়াতের রহস্যপুরে খুঁজি পারাপার।
২৭ জুন ২০২৬
নিসর্গ পারে
মহাসাগরের ওপারে – শূন্য নিসর্গ পারে
যেখানে থেমেছে কলম্বাস
নিঃসীম সীমানায়
কবির দীর্ঘশ্বাস সেখানে কি পৌঁছায়?
এ গিরি তটে
দরিয়া নগরের পটে
এ অশ্রুজল আমার সাগর কল্লোলে হারায়
পৃথিবীর সব জল – নৈঋতে নিহিত অনল
যেখানে প্রকৃতি মিলেমিশে চলে
বিজ্ঞান মাথা নত করে আছে
সাজদারত প্রকৃতির পদতলে।
সৃষ্টির এ মায়ার বাঁধন
দৃষ্টির এ সাধন কাঁদন
তুমি জানো প্রিয়ে
আমি বুঝবো কেমনে- কোথায় গিয়ে?
জানলাম
এ নিখিল স্বর্গ আঙিনা
সমুদ্রতীরে শুনি তারই সুমধুর বীণা!
১৭ জুন ২০২৬
কুহকিনী সৈকতে
রাতের তরঙ্গ নীল শামিয়ানা নিচে কি ভাবছো?
খিজিরকে রেখে এসেছো কোথায়!
জিজ্ঞাসার সিন্ধু সেঁচে কি মুক্তো আনবো
প্রকৃতির এ রহস্য তীরে হাজারো পর্যটক
ভারত মহাসাগরের বাহিত সলিল
অবগাহনে প্রকৃতির মৈথুনে স্নিগ্ধ প্রার্থনা
সুদূরের শান্ত যৌবন এ অশান্ত সৈকতে
উছলে পড়ে শৌর্য উন্মাদনায়
আর প্রকাশ করে বিজ্ঞানের মেকি বীর্য –
অসহায়ত্বের ফাঁকি
ওহে সুন্দরী ঢেউ পরমা উল্লম্ফনা
নেচে ওঠে বৃদ্ধা যুবা শীতল পরশে
মলয়ার শতগান কন্ঠে রাগিণী
সুরের সংগ্রামে হৃদয়নৃত্য ভাষার অতীত
আমি আজ দখিনের এ কুহকিনী সৈকতে
কোথায় যাবো আমি?
১৬ জুন ২০২৬, কক্সবাজার
স্বপ্নের সূত্র
এ জীবন অফুরান স্বপ্ন – নদী
নিদ্রা সূত্রে জাগরণ অবধি,
বেলা উঠে – বেলা নামে যদি
কল্লোল বইবে কি নিরবধি!
সহস্র সহায় মাঝে চরম অসহায়
সুনামির দুর্দিনে সুদিন হারায়
দুঃস্বপ্নে পেয়ে গেছি স্বপ্নের সূত্র
সচেতনে বুঝে নাও পুতুলের পুত্র
সোনালী উষা আর সায়াহ্ন সন্ধি
দুর্ভাগা বিপরীত গোত্রে বন্দী।
থেমে থেমে জেগে উঠে পার্থিব কলরব
উঠানামা ডানাদের স্বপ্নের আশা সব।।
২৩ জুন ২০২৬
তুমি জানো
তুমি জানো–তোমার বচন- শক্তি
আমাকে সহজেই আলোড়িত করে
সহজেই লালা ঝরায় মৌমাছির,
আমি প্রলুব্ধ হলেই সাড়া মেলবে
বিরোধ শেষ পর্যন্ত দ্বিধা জাগায়।
বিশ্বাসের সব ভালোবাসা ঝাপটে ধরে
জলধি আছড়ে পড়ে আচমকা জোছনায়,
এমন পূর্ণিমা মায়া কে পারে ভুলতে!
ভুলেই আছি শিরী লাইলী যুগ
এ শতাব্দী ‘উত্তর আধুনিক’ ভালোবাসার।
বিবর্তন ঘেন্না লাগায় হৃদয় সংকেতে,
চন্দ্রালোয় সংকট সবাইকে ভাবায়
কর্পোরেট ব্রাঞ্চমুখী করোনা দোহাই
বিদ্যুতে জ্বলবে কি চাঁদের বাতি?
২২ আগস্ট ২০২৪
উদগ্র ক্রন্দন
মৃত্যুকে অভিনন্দন
সে দেবে নিশ্চিত নিষ্কৃতি
অতৃপ্তির লাঞ্চনা ভীতি
না চাই মরতে
না চাই বাঁচতে চিরকাল
ইশ্বরে নশ্বরে বিতর্ক জাল
না চাই ধরতে
প্রেমের ইঁদুর
ছুঁড়ে দেয় দূর
ঘৃণার সবুর
প্রিয় – প্রিয়া চান
ভোগবিলাস মণিকাঞ্চন
দ্বন্দ্ব শোষণ হবেনা অবসান
দুনিয়া জন্মমৃত্যু সমান।
পুষি শুধু কামনার উদগ্র ক্রন্দন।
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অশ্রুর বুদ্বুদ
ওরা লেলিয়েছে কিছু ঘেউ ঘেউ
কষ্ট দিয়ে আনন্দ লাভের জন্যে
যখন সারমেয়ও থেমে গেল
তারা দুঃখ পেল
তাতেও আমার সুখের ভাগ্য অধরা,
সুখদুঃখের মহাসভ্যতায় সাঁতরে
মহাকূলে কূল খুঁজি
মহাসমুদ্রের সঞ্চয়ে দুঃখ গুঁজি।
দুঃখের অমৃতে অধম সুধা বিলাই।
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
চিত্ত জুড়ে…..
বীজ পুঁতে আমি ঘুমাই
উপ্ত তরুতে ফুলফল
ভূগর্ভের জল -বর্ষা বাদল
সুপেয় পানিতে মেটাই তৃষ্ণা
পীড়িত তনুমনে সুস্থতা দাও আনি:-
তুমি চাও হয়ে যায়
আমি চাই পেয়ে যাই
সাজাই সুখের নিবাস অবলীলায় :-
আলো বাতাসে সবুজে আঁধারে
অবুঝ অন্তর খুঁজে পাই
পরম প্রিয়তম জনমে মরণে বারেবারে
চিত্তজুড়ে অপার রহমতে নিত্য বুঝে পাই:-
প্রেমময় প্রিয়া মজি – প্রেমসাজে সেজদায় জপি।
১৮ মার্চ ২০২৬
থাকে যেন মুঠোয়
এ ঘুণে ধরা ব্যবস্থা
এ বিজ্ঞান এ দর্শন
যত দেয়, কেড়ে নেয় বেশি
কেড়ে নেয় মানবিক বিশুদ্ধ প্রশান্তি।
মানুষের বিবেক বিবর্জিত
সুসজ্জিত রূপধন– লজ্জা
সেসব ঐশ্বর্য আজ কোথায়,
কোথায় খুইয়েছি পৈতৃক শ্রদ্ধা
স্নেহ মাতৃকা
বধুর বাসরের ধূপগন্ধী গভীরতা।
ভাইবোনের সবুজ ভালোবাসা
কেড়েছে উগ্র পুঁজিবাদ
মানবতার সুমহান আভিজাত্য
উন্মাদ আধুনিকতা করেছে হরণ,
উদগ্র লালসাগ্নি চরম ভোগবাদ
যুদ্ধের মাঝে আজ শান্তির সহমরণ।
স্বর্গমর্ত্য ব্যবধান কমাতে
চন্দ্রসূর্য বন্ধনের উত্তাপ সূত্রে
মানবতার কাছে মহাপ্রস্তাব,
মেটাতে হবে মানবশাস্ত্রের সাথে
সকল মতবাদের তিক্ত বিবাদ।
দর্শন বিজ্ঞান থাকে যেন মুঠোয়
ফুল-পাখি ভ্রমরের নিয়ন্ত্রণে,
সুখগুলো হাসি- আকাঙ্খার আশ্রয়ে।
২২ আগস্ট ২০২৪
নিভে যাবে বর্বর সভ্যতা
গাজা ইথিওপিয়া সুদান
একসাগর রক্তক্ষুধা
দয়াহীন নিষ্ঠুর দুর্ভিক্ষ
পোড়ায় মানবতা যুদ্ধের আগুন।
অভিশপ্ত ভূরাজনীতির কলংকে
মহাশাস্তি পাচ্ছে গাজার নিষ্পাপ শিশু
ভূপৃষ্ঠে নেই আর প্রয়োজন
কোন উন্নয়ন – ভোজের আয়োজন
ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দাও
পরাশক্তিধর নারকীয় প্রতিযোগীদের।
মূমুর্ষুদের ত্রাণের গাড়ি যদি নিষিদ্ধ হয়
ধ্বংস হোক পৃথিবীর সকল প্রমোদ উৎসব
দিকে দিকে নরক প্রজ্জ্বলিত হোক
ভোগের সকল নির্মম আয়োজন।
বিবেকবান ঘুমিয়োনা – ছুঁড়ে দাও পানাহার
সারাবিশ্ব হবে বুভুক্ষুর এক মহা কারাগার
দুমড়ে মুচড়ে নিভে যাবে বর্বর সভ্যতা।
২৬ মার্চ ২০২৬
কবি পরিচিতি
গাজী গিয়াস উদ্দিন আশির দশকের একজন কবি,প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য সংগঠক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ থেকে সম্মানসহ এম এ (১৯৮৭)। লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক। মাসিক বাংলা আওয়াজ সম্পাদক।
৫০ বছরের অভিজ্ঞতা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কাজ করার। কাব্য, প্রবন্ধ ও গল্পসহ প্রকাশিত গ্রন্থ ১৪। তন্মধ্যে ‘ প্রবন্ধ ও কবিতা সংগ্রহ ‘ ২০২৫ ও ‘ সমসাময়িক প্রবন্ধ ‘ ২০২৬ উল্লেখযোগ্য। তিনি বাংলাদেশ বেতারের ( ঢাকা) তালিকাভুক্ত গীতিকার।
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার, নোয়াখালী লেখক ফোরাম পুরস্কার ও আল্লামা ইকবাল এওয়ার্ড ( ঢাকা) সহ বেশ কিছু পুরস্কার তিনি পেয়েছেন।

