আকাল
এ কোন অপসময়ে ভিক্ষাবৃত্তির জন্য নেমেছো
এ তল্লাটে আজ সবাই ভিক্ষুক—
কে কার ভিক্ষাপাত্র ভরে দেবে !
সবুজ ঘাসের মাঠে বাদামি রঙের খেলা
রিক্ততা ও শূন্যতা দুই জমজ বোনের মতো
ঘুরপাক খাচ্ছে সেই বাদামি রঙে
শুকনো গাছের ডালে বসে আছে অনাহারী পাখিগুলো—
কোথাও খুদ-কুঁড়ো অবশিষ্ট নেই ;
জলভরা কল্লোলিত নদীটি আজ
অন্ত:সলিলা ফল্গুধারা—
ঊনজলে শুধু পাথরগুলো দৃশ্যমান
পলিমাটি নেই কোথাও —
ধুয়েমুছে গেছে নদীর সবটুকু লাবণ্য।
এ তল্লাটে আজ খুব আকাল পড়েছে—
বিশ্বাস ভালোবাসা মানবতার আকাল।

তোমার চোখ
তোমার দুচোখ থেকে ঝরে পড়ছে
থোকা থোক বিষণ্ণতা
জীবনের পলিমাটিতে কবে বপন করলে এই দুঃসহ বীজ !
দেবদারু গাছগুলো কারা যেন উপড়ে ফেলেছে সব,
এখন দেখ বিশাল বিষবৃক্ষ তোমার মাথার ওপর কালো ছায়া হয়ে আছে —
তুমি সেখানে নিজেকে সমর্পণ করে ফিরে যাচ্ছো—
জীবনবিমুখ হয়ে কীভাবে পাড়ি দেবে জীবন ,
ফিরে এসো —
না হয় না হলো রোদের সোনালি ঝরনায় স্নান করা
না পেলে ভোরের টেবিলে এক কাপ গরম চা
বিকেলে ভ্রমণের মাঠে না পেলে কোনো সঙ্গী
তাই বলে দুচোখ ভাসাতে হবে জলের শীতলতায় !
এই সংসার তোমাকে উষ্ণতা দেবে না —
দুচোখে আগুন ধারণ করো
নিঃশব্দ বারুদ পুষে রাখো বুকের গহিনে।
ভুলে-ভালা জীবনের গল্প
সব জীবনেরই স্মৃতি থাকে না
সব ঘটনারই ইতিহাস থাকে না ,
এক ভুলে-ভালা জীবন নিয়ে এই বেঁচে থাকা —
উন্মাদনার কাল হারিয়েছি নিঃসঙ্গ জীবনে,
পরিণত বয়সে প্রথম কল্লোলিত সমুদ্র দেখে
ঈর্ষান্বিত হয়েছিলাম —
ঢেউয়ের সঙ্গে পরবর্তী আর এক ঢেউয়ের
মিলন দেখে মনে হয়েছিল—এ এক না-দেখা জগৎ—
যে জগতে কখনো ছিলাম না আমি ,
আমার ভুলোভালা জীবনের সঙ্গে মিশে আছে
অনন্ত-যৌবনা সমুদ্রের মিলন স্মৃতি।
আছিয়া
তুমি আকাশ হতে চেয়েছিলে মেয়ে
আমাদের এই এতটুকু পৃথিবীতে তোমার জায়গা হলো না,
তুমি আজ অনেক বড়ো আকাশ—
এখন কেমন আছ তুমি সুদুরতমা
শারীরিক সব যন্ত্রণার উপশম নিয়ে
তুমি খুব প্রশান্তিতে আছ নিশ্চয়;
অথচ দেখ তোমার খেলার সথিরা সব
অস্হির আকুলতায় তোমার প্রতীক্ষায়—
একবার আসবে না আছিয়া তুমি !
তুমি চিতই পিঠা খেতে খুব ভালোবাসতে
আজ মাগুরার ঘরে ঘরে চিতই পিঠা তৈরি হচ্ছে
শুধু তোমার জন্য—
একবার এসে খেয়ে যেও ,
দেখ তোমার বাবা রঙিন জামা কিনে এনেছেন তোমার জন্য
ঠিক যেমনটি পছন্দ করতে তুমি—
জামাটি পরবে না আছিয়া !
তুমি কি আর আমাদের কথা শুনবে!
তুমি তো আজ অনেক বড়ো আকাশ—
অসীমের অনন্য অভিজ্ঞান ,
আমাদের এই এতটুকু পৃথিবীর
তোমাকে ধারণ করার কোনো যোগ্যতাই নেই।
সোনার পাথর-বাটি
আমি যখন জ্যোৎস্নাস্নাত ঝুলবারান্দায় বেঙ্গল প্লাস্টিকের চেয়ারে বসেছিলাম
এই সময়ের প্রতিভাবান কবি অনন্ত শোভন তখন হেঁটে যাচ্ছিল সামনের রাস্তা দিয়ে—
তার সারা শরীরে রোদের উৎপাত
মাথায় বৃষ্টির ক্রীড়া
আমি তার নাম ধরে ডাকলাম কয়েকবার
সে কোনো ভ্রুক্ষেপই করলো না,
হনহন করে হেঁটে চলে গেল নাক বরাবর;
যাও শোভন এভাবেই হেঁটে হেঁটে বাড়ি যাও
রোদে ভিজে বৃষ্টিতে পুড়ে—
এটাই তোমার ভবিতব্য।

